Innovative Alternative

সৃজনশীল বিকল্প

সম্পাদকীয় বিভাগ

অতিরঞ্জন বা অবাস্তব কিছু নয়, আকাশকুসুম কষ্টকল্পনাও নয়। সততা সদিচ্ছা থাকলে অধঃপতনের গাড্ডায় তলিয়ে যাওয়া বাংলাকে সমহিমায় ও সমর্যাদায় পুনপ্রতিষ্ঠা করার জন্য যা যা করা সম্ভব এই সীমিত সামর্থ ও ক্ষমতার মধ্যে নির্বাচনী ইশ্‌তেহারে সাজিয়ে গুছিয়ে সেগুলিকেই হাজির করেছে বামফ্রন্ট। না কোনও চমক নেই। নেই কোনও জুমলাবাজি। রাজ্যের সাধারণ মানুষের স্বার্থে ধারাবাহিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বামপন্থীরা যে দাবিগুলিকে তুলে ধরেছে সেগুলিই জায়গা পেয়েছে ইশ্‌তেহারের পাতায় পাতায়। রাজ্যে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-বেকার যুবক-যুবতী সহ সাধারণ মানুষ যে যন্ত্রণার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন তার থেকে মুক্তির জন্য ধাপে ধাপে যে কাজগুলি করতে হবে সেটাই করার অঙ্গীকার করেছে বামপন্থীরা।
বামপন্থীরা মনে করে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে হলে রুজি রোজগারহীন মানুষকে ভাতাজীবী করে কোনোরকমে বাঁচিয়ে রাখলেই চলবে না। গোটা দেশ তথা দুনিয়া কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা জানতে হয়, বুঝতে হয়। সেই মতো পদক্ষেপ নিতে হয়। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে এরাজ্য চলছে এক দিশাহীন, অপরিকল্পিত খামখেয়ালি পথে। আধুনিক শিক্ষা, চিন্তা বর্জিত এক পশ্চাদপদ পথের অনুসারী ছিল বাংলা। নৈরাজ্য, দুর্নীতি, লুটতন্ত্র ছিল তার কুৎসিত অগ্রাধিকার। সেই বাংলাকে ফেরাতে হবে তার নিজের ছন্দে। ঘটাতে হবে পুনরুজ্জীবন।
গত পনেরো বছরে এরাজ্যে কোনও শিল্প তৈরি হয়নি। যা ছিল সেগুলিরও কোনও সম্প্রসারণ হয়নি। উলটে কিছু বন্ধ হয়েছে বা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে নিঃস্ব হয়ে রাজ্য হয়ে উ‍‌ঠেছে বাণিজ্য নির্ভর। অন্য রাজ্যের উৎপাদিত পণ্য এরাজ্য কেনে এবং বিক্রি করে। উৎপাদন শি‍ল্পের বিকাশ না হলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়ে না তেমনি মজুরি স্তরও থাকে অত্যন্ত নিম্ন। এই রাজ্যে ভাল মজুরির কোনও কাজ নেই। তাই রাজ্যের ছেলে-মেয়েদের কাজের জন্য চলে যেতে হয় অন্য রাজ্যে। তাছাড়া সরকারি হোক বা বেসরকারি এরাজ্যে স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থাটাই কার্যত উঠে গেছে। বামপন্থীরা মনে করে প্রতি পরিবারে অন্তত একজনের স্থায়ী কাজের ব্যবস্থা জরুরি। তেমনি অদক্ষ কর্মীদের জন্য ন্যূনতম ৬০০ টাকা মজুরিতে গ্রামে ২০০ দিনের এবং শহরে ১২০ দিনের কাজের বন্দোবস্ত করার কথা বলা হয়েছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ৭০০ টাকা। শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে ভয়াবহ বেকারিত্ব হ্রাসে পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সমস্ত শূণ্য পদে নিয়োগ যেমন হবে তেমনি অতীতের মতো নিয়মিত এসএসসি, সিএসসি এবং পিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে নিয়োগের ব্যবস্থা হবে। তার সঙ্গে সমস্ত প্রকল্পে কর্মীদের স্থায়ী করার কথা বলা হয়েছে। বামপন্থীরা ক্ষমতায় এলে শিক্ষায় বাজেটের ২০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ১০ শতাংশ খরচ করা হবে। ভেঙে পড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। কৃষকের স্বার্থে ১৬ ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেড় গুণ বাড়ানো হবে। ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ হবে মাসুলহীন আর ২০০ ইউনিট পর্যন্ত অর্ধেক মাসুল। মাইক্রো ফাইনান্সের দাপট বন্ধ করে গরিব পরিবার, বিশেষ করে মহিলাদের রক্ষা করার ব্যবস্থা হবে।
এক কথায় জনকল্যাণমুখী উন্নয়নের বিকল্প পথ। গরিব, পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষরা যাতে কোনোভাবে বঞ্চিত না হন সেটাই হবে অগ্রাধিকার। বয়স্ক সক্ষমদের জন্য ভাতা থাকবে। যুবদের যুক্ত করা হবে সামাজিক ও উৎপাদনভিত্তিক প্রকল্পে। সাথে সাথে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। মহিলাদের যুক্ত করে ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়া হবে। অর্থাৎ কর্মচঞ্চল, উৎপাদনমুখী বিকল্পের মাধ্যমে কাজ ও মজুরি বৃদ্ধির বিকল্পের অঙ্গীকার করছে বামপন্থীরা।

Comments :0

Login to leave a comment