Pakistan India

কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের

জাতীয় কলকাতা

পহেলগামের ঘটনার এখনও এক বছর হয়নি। তার আগেই ফের ভারতে হামলার হুমকি দিল পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ কলকাতায় হামলার হুমকি দিয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কড়া বার্তার পর এবার পাল্টা হুমকি দিয়েছে আসিফ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ভারত যদি ভবিষ্যতে কোনও অবাঞ্ছিত পদক্ষেপ বা ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন চালানোর চেষ্টা করে, তবে তার জবাব হিসেবে কলকাতায় হামলা চালাবে পাকিস্তান।
পহেলগামের ওই হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই হামলার বর্ষপূর্তির আগে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।
আসিফ বলেন, ‘ভারত যদি এবার কোনও ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন চালানোর চেষ্টা করে, আমরা কলকাতাতেই তার জবাব দেব।’ ভারত অবশ্য এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
পাক মন্ত্রী দাবি করেছেন, এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে ভারত তাদের নিজেদের লোক বা বন্দি পাকিস্তানিদের ব্যবহার করে একটি সম্ভাব্য ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন চালাতে পারে। অর্থাৎ, মৃতদেহগুলি সাজিয়ে রেখে তার দায় সন্ত্রাসবাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা হতে পারে। তবে এই গুরুতর দাবির স্বপক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি।
তিনি ভারতের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং সুপরিকল্পিত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কোনও সংশয় থাকা উচিত নয়। পাকিস্তান শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের সংকল্প চূড়ান্ত। আমাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ এবং এর জবাব হবে দ্রুত, সুপরিকল্পিত এবং চূড়ান্ত।’
গত বৃহস্পতিবার কেরালায় একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় রাজনাথ সিং সতর্ক করে বলেছিলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের তরফ থেকে কোনও দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার নজিরবিহীন এবং চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাম হামলার পর ভারতীয় বাহিনী অপারেশন সিন্দুর-এর মাধ্যমে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে পাকিস্তান মাথা নত করে। তিনি একে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অভিযান বলে উল্লেখ করেন।
রাজনাথ সিং বলেন, ‘আমি আপনাদের জানাতে চাই যে, এই অভিযান এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তান যদি এমন নোংরা কাজের পুনরাবৃত্তি করে, তবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এমন যোগ্য জবাব দেবে যা তারা কখনও ভুলতে পারবে না। এবার যা হবে তা হবে নজিরবিহীন।’
উল্লেখ্য অপারেশন সিন্দুর-এর সময় ভারতীয় সেনা পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ন'টি জঙ্গি শিবির এবং দেশের কয়েকটি প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল। এর মধ্যে বেশ কিছু পরিকাঠামো এখনও মেরামতির পর্যায়ে রয়েছে। ১০ মে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত থামে।

Comments :0

Login to leave a comment