মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে পর্যালোচনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোন অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলবে না।
এই পরিকল্পনায় দুই-ধাপের প্রক্রিয়ার কথা ভাবা হয়েছে। প্রথমে একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে একটি বৃহত্তর ও ব্যাপক চুক্তি। রয়টার্স সূত্রে খবর, এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে রেখেছেন। এই উদ্যোগটিকে প্রাথমিকভাবে 'ইসলামাবাদ চুক্তি' বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
এর আগে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা এই দুই-ধাপের চুক্তির অংশ হিসেবে ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কথা বিবেচনা করছে। যা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের স্থায়ী অবসানের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
অন্যদিকে হরমুজ জলপথ পুনরায় খোলার জন্য তেহরানকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রথমে এই সময়সীমা সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও, পরে তা ২০ ঘণ্টা বাড়িয়ে মঙ্গলবার মার্কিন সময় রাত ৮টা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে আলোচনা চলছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এখনও সম্ভব, তবে আলোচনা ভেস্তে গেলে ইরানের ওপর ‘নরক নামিয়ে আনার’ কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর টানা হামলা শুরু করার পর পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে এবং সোমবারও এই অঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই সংঘাতে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং বিশ্বব্যাপী তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।
এর প্রতিশোধ হিসেবে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয় ইরান। এছাড়া তারা ইজরায়েলি ও মার্কিন সামরিক অবস্থান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।
Iran USA War
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে নারাজ তেহরান
×
Comments :0