ধর্ম পালনের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত নামছে দেশে, রাজ্যে। সেই সময়েই সংবিধান অনুযায়ী এই ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা করা হয়েছে নির্বাচনী ইশ্তেহারে।
দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও ধর্মীয় মেরুকরণের আবহ। এরাজ্যে ভোটের রাজনীতিতে এই বিভাজনকে ব্যবহার করছে তৃণমূল এবং বিজেপি- দু’দলই। ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সম্প্রীতিকে নিশ্চিত করে বাংলা বাঁচানোর প্রচার করছে বাম দলগুলি।
বামফ্রন্টের ইশ্তেহারে বলা হয়েছে যে ধর্মীয় স্বাধীনতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করা হবে প্রশাসন, চাকরি ও নির্বাচনে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব।
সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশন ২০০৭ সালের রিপোর্টে ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে পিছিয়ে থাকা অংশ চিহ্নিত করার সুপারিশ করে। তাদেরকে অন্য অনগ্রসর অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে সরকারি কাজ ও উচ্চ শিক্ষায় সংরক্ষণের সুপারিশও করা হয় রিপোর্টে। এই রিপোর্ট দেশে প্রথম প্রয়োগ করে পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার।
বিজেপি-তৃণমূল উভয়েই ধর্মীয় উস্কানিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্য বিভাজন করার চেষ্টা করলেও আসলে আক্রান্ত হয়েছে সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন সময় তৃণমূল মাদ্রাসা উন্নয়নের কথা বললেও আসলে রাজ্যের স্কুল এবং মাদ্রাসায় নেই সঠিক ছাত্র শিক্ষক অনুপাত। হয়নি শিক্ষক নিয়োগ। একইসঙ্গে বেহাল উভয় জায়গার পরিকাঠামোও। অপরদিকে বিজেপি অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে সংখ্যালঘুদের। স্কুল আর মাদ্রাসা আলাদ করতে নেমে শিক্ষার পক্ষে আন্দোলনকে দুর্বল করেছে, বামপন্থীরা বারবারই একথা বলছেন বিভিন্ন প্রচারে। সংখ্যালঘুদের ওপর চলছে অত্যাচারও।
একই অবস্থার স্বীকার আদিবাসী মানুষরাও। তাই সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি ও জনজাতি, আদিবাসী এবং ওবিসি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনার কথা বলছে বামপন্থীরা তাদের ইশতেহারে।
সেই সঙ্গে সিপিআই(এম) স্লোগান তুলেছে 'হকের ভাগ'। দাবি তুলে ওবিসি সংরক্ষণের পুরনো নিয়ম পিরিয়ে আনা হবে। এসসি, এসটি, ওবিসি-র সব সংরক্ষিত শূন্যপদ পূরণ করতে হবে।
বামফ্রন্টের ইশতেহারে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু ও আদিবাসী এলাকায় স্কুল-কলেজ-হোস্টেল তৈরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় বাড়ানো হবে বৃত্তি এবং সংরক্ষণও। আদিবাসীদের জমি ও বনাধিকার আইনি সুরক্ষায় নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র শিল্প, কৃষি ও হস্তশিল্পে ভর্তুকি ও সহজ ঋণ দেওয়া হবে। গ্রাম থেকে জঙ্গল সর্বত্র স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা, নতুন হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ডাক্তার নিয়োগ করা হবে। অপুষ্টি ও মাতৃমৃত্যু রোধে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে ইশতেহারে।
সর্বোপরি, সংখ্যালঘু ও আদিবাসী প্রধান অঞ্চলের জন্য আলাদা উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে সাধারণ মানুষের কাছে রাস্তা, বিদ্যুৎ, জল সহ প্রতিটি মৌলিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বামফ্রন্টের ইশ্তেহারে।
Left front manifesto
সংখ্যালঘুর অধিকার, আদিবাসী-তফসিলি-ওবিসি অংশের মর্যাদা ফেরানোও লক্ষ্য বামফ্রন্টের
বামফ্রন্টের মিছিল। ছবি সংগ্রহ থেকে
×
Comments :0