সোমবার মোথাবাড়ির ঘটনায় অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মালদা মোথাবাড়ির নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নজিরবিহীন সমালোচনার মুখে পড়ল রাজ্য সরকার। সোমবার এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মোথাবাড়ির ঘটনা মোকাবিলায় প্রশাসনের চূড়ান্ত ব্যর্থতা এবং আমলাতন্ত্রের উদাসীন মনোভাব নিয়ে এদিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। শুনানির শুরু থেকেই আদালতের মেজাজ ছিল অত্যন্ত কড়া, যা সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য প্রশাসনের জন্য এক বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে শীর্ষ আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। শুনানির সময় মোথাবাড়ির ঘটনার একটি ভিডিও আদালতের হাতে তুলে দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। সেই ভিডিওতে এক বিচারকের আতঙ্কিত আর্তনাদ শোনা যায়। ভিডিওটি দেখার পর প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘প্রশাসন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে সেখানে কি করতে হবে তা আদালত জানে।’’
মালদা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানায় যে, ওই এলাকায় যখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হচ্ছিল, তখন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, জনজীবন সচল রাখা এবং আইনশৃঙ্খলার সুরক্ষা দেওয়া প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্ব হলেও মালদহের ক্ষেত্রে তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন দেখা যায়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের আটকানো বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সঠিক সময়ে কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়নি। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তাকে সরাসরি প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে শীর্ষ আদালত। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে মোথাবাড়ির ঘটনা নিয়ে এনআইএ’র প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে। মোথাবাড়ির ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে এনআইএ’র অফিসারদের একটি দল মোথাবাড়ি এলাকায় এসে তাদের কাজ শুরু করেছে। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে মোথাবাড়ির ঘটনা নিয়ে এনআইএ’র প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে।
সেই তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট দেখে রাজ্য প্রশাসনকে এদিনও ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ঘটনার দিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু সেই ফোন ধরা হয়নি। মুখ্যসচিবকে এই ঘটনার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে মোথাবাড়ির ঘটনায় মালদহ জেলা প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণ জানাতে হবে।
এদিন সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, এসআইআর’র কাজে বিচারকদের নিযুক্ত করেছে শীর্ষ আদালত। এই বিচারকরা সুপ্রিম কোর্টের সম্প্রসারিত হাত। তাদের ঘেরাও করে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল তা পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার সময় জেলা এবং রাজ্যে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিল। ফলে উত্তেজনা ক্রমশ বেড়ে গিয়েছিল। মালদহে এসআইআর’র কাজে নিযুক্ত ৮ জন বিচারককে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাওয়ের ঘটনায় রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে মোফাক্কেরুল ইসলাম ও শাহজাহান আলিকে মূল অভিযুক্ত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, ধৃতদের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ’র হাতে তুলে দিতে হবে।
Mothabari
মোথাবাড়ি নিয়ে রাজ্যকে হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের
×
Comments :0