Sandeshkhali

আধপোড়া মা ও শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য সন্দেশখালিতে

জেলা

বাড়ির ভেতরে বড় একটি ট্যাংক থেকে আধপোড়া মা ও সাড়ে তিন মাসের কন্যা সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য। রবিবার সকালে ঘটনার কথা জানাজানি হতেই বাড়ির ভেতরে বড় একটি ট্যাঙ্ক (ধাতব বাক্স) থেকে উদ্ধার হয় মৃতদেহ দুটি। সাথে সাথে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়লে সেখানে গ্রামবাসীদের ভিড় বাড়তে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং জায়গাটি ঘিরে ফেলে। ঘটনাটি সন্দেশখালি দুই নম্বর ব্লকের অন্তর্গত মনিপুর নলপাড়া এলাকার। এই নলপাড়া এলাকার গৃহবধূ সুনিতা মাইতি ও তাঁর এক ছোট্ট কন্যা সন্তান শুদ্ধি মাইতির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বাড়ির ভেতরে থাকা একটি ট্যাংক থেকে আধপোড়া অর্ধনগ্ন ওই গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধারে পাশাপাশি তার পাশে থাকা ছোট্ট সাড়ে তিন মাসের কন্যা সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় সন্দেশখালি থানার পুলিশ। এই মা ও শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে রহস্য। মৃত গৃহবধূর বাপের বাড়ির পরিবারের লোকেদের দাবি তাঁদেরকে খুন করা হয়েছে। আবার এই দাবি মানতে নারাজ গৃহবধুর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। গৃহবধুর বাপের বাড়ির লোকেদের দাবি কন্যা সন্তান হওয়ায় তার উপরে সম্প্রতি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতো শ্বশুরবাড়ি লোকেরা। সেই নির্যাতনের জেরেই গৃহবধূ ও তার কন্যা সন্তানকে পুড়িয়ে খুন করা হয়েছে বলে দাবি। দীপঙ্কর পাইক নামে মৃত গৃহবধুর দাদা বলেন, বোনের কন্যা সন্তান হওয়ার পর থেকেই বোনের উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। তার জেরেই বোন আর ভাগ্নিকে ওরা পুড়িয়ে খুন করেছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কিছু মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেল, বাক্সটি বাইরে থেকে বন্ধ অবস্থায় ছিল। তাছাড়া আধপোড়া অর্ধনগ্ন গৃহবধূ এবং তার সন্তান বসা অবস্থায় ছিল এবং তাঁদের পরনের বস্ত্র ছিল অক্ষত। যা বাক্স খুলতেই তাদের নজরে আসে। তাদেরও স্পষ্ট ধারনা আত্মহত্যা নয়। এটি খুন। সন্দেশখালি থানার পুলিশ ওই গৃহবধূ ও তার কন্যা সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে এটি খুন না এর পেছনে অন্য কোন রহস্য রয়েছে তা নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে সন্দেশখালি থানার পুলিশ।
সন্দেশখালির প্রাক্তন বিধায়ক ও সিপিআই(এম) নেতা নিরাপদ সর্দার মর্মান্তিক এই ঘটনায় মৃতার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তার সাথে সাথে ঘটনার প্রকৃত তদন্তের দাবি জানান। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘‘সন্দেশখালির মনিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রসেনজিৎ গাঙ্গুলির পাড়ার ঘটনা। সেখানে ৩ মাসের শিশু সন্তান ও মা দুজনকেই অর্ধদগ্ধ অবস্থায় বাড়ির দোতালায় বড়ো ট্যাঙ্কের ভিতরে পাওয়া যায়। বধূর নাম সুনীতা মাইতি ও সন্তানের নাম শুদ্ধি মাইতি। স্বামী সহ পরিবারের সকলেই পুলিশের হেফাজতে। সুনীতা মাইতি থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বাচ্চার দুধের অভাব ছিল। দুধের কথা বার বার বলার পরেও স্বামী দুধ আনে নি। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ হয়। দুধ জোগান দিতে না পেরে স্বামী জল্লাদের ভুমিকা সমাজে নুতন উদাহরণ তৈরি হলো। থ্যালাসেমিয়া রুগী, কম ওজনের সন্তান‌। কোথায় দাঁড়িয়ে আছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা? কিসের উন্নয়ন? দুধের অভাবে ৩ মাসের শিশু ও মায়ের খুন দেখতে হয় এই সমাজে। এই ঘটনায় যারা যুক্ত তাদের কঠিন সাজা দেওয়া দরকার। মমতা ব্যানার্জির মেকি উন্নয়ন সমাজে জল্লাদ তৈরী করছে।’’

Comments :0

Login to leave a comment