Md Salim Murshidabad

প্রস্তুত থাকুন, ভোট লুট হতে দেবেন না

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

ছবি সংগ্রহ থেকে।

ভোট দিতে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলায় সিপিআই(এম)’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ভোটের দিন সকাল থেকে ভোট দিতে প্রস্তুত হবেন। কোনও ভোট লুট করতে দেবেন না। তৃণমূল-বিজেপি’কে তাড়াতে রাজ্যজুড়ে মানুষ এককাট্টা হচ্ছেন। একদিকে তৃণমূল-বিজেপি ভাঙছে। অন্যদিকে মানুষকে জুড়ছে লাল ঝান্ডা। নতুন বাংলা গড়তে কাঁথা বোনার ছন্দেই প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষকে ঐক্যের বাঁধনে জুড়ে নিচ্ছে লাল ঝান্ডা। রবিবার সকাল থেকে এই ছবিই দেখা গেল মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে। এখানকার সিপিআই(এম) প্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি সাহার রোড শো’তে মানুষের বিপুল সাড়া দেখা গেছে। বামপন্থীদের বিকল্প পথে বাংলাকে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আওয়াজ উঠেছে, কেরালা ৯০০ টাকা মজুরি দিতে পারলে বাংলা কেন পারবে না? বাংলাকে সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে। এই খড়গ্রামে তৃণমূলের ছায়ায় বেড়েছে বিজেপি। এবার ভোট দুই দলকেই হারানোর, বলেছেন সিপিআই(এম) প্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি সাহা। একসময়ের সন্ত্রাস কবলিত সাদল এলাকা দিয়ে এগিয়েছে ধ্রুবজ্যোতি সাহার প্রচারের বাইক র্যা্লি। সামনে হুডখোলা গাড়িতে ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, প্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি সাহা, ছিলেন বালিগঞ্জের সিপিআই(এম) প্রার্থী আফরিন বেগম। খড়গ্রামে প্রচারের মাঝেই মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘‘যেসব গ্রামে মানুষ তৃণমূল-বিজেপি’কে আগে সমর্থন করেছিলেন, এখন তাঁরাও অধিকার আদায়ের জন্য সিপিআই(এম)’র লড়াইতে নিজেদের জুড়ছেন। ঐক্যের বন্ধনে মানুষকে আমরা বেঁধে নিচ্ছি নয়া বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে।’’ এদিন খড়গ্রামের আলিনগর থেকে শুরু হয় মিছিল। আলিনগর, ইন্দ্রানী, শেরপুর, সাদল, নগর হয়ে কীর্তিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বুধারাপাড়ায় মিছিল শেষ হয়। খড়গ্রামের মিছিল যখন শেষে সেই সময় প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ভগবানগোলার কালিখালিতে অপেক্ষায় ছিল কয়েকশো বাইক। সেই মিছিলও শুরু হয়েছে জোরালো লড়াইয়ের বার্তা নিয়ে। কালুখালি বাইপাস থেকে শুরু হওয়া বাইক র্যা লি শেষ হয়েছে হরিরামপুর ঘাটে। রানিনগরে সিপিআই(এম) প্রার্থী জামাল হোসেনের সমর্থনে মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘মমতা ব্যানার্জি গত নির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবিরকে দিয়ে বলিয়েছিল ‘হিন্দুদের কেটে ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে’। এইভাবে সাম্প্রদায়িক ভাগাভাগি করেছিল, ভোট শেষ খেল খতম। এখন আবার ভোট এসেছে, মন্দির-মসজিদের রাজনীতি করছে মানুষকে ভাগাভাগি করতে। আমরা মানুষের জীবনের দাবিগুলি নিয়ে মানুষকে একজোট করছি। এখানকার রাস্তা, বন্যা, নদী ভাঙন, চরের সমস্যা, শ্রমিক কৃষক বেকারদের সমস্যা বেড়েছে। সাম্প্রদায়িকতার কথা বলে সেগুলি আড়াল করতে দেওয়া যাবে না। মোদী নোটবন্দি করে ‘কালো টাকা সমাপ্ত’ বলেছিল। তারপর? এরাজ্যের মন্ত্রীদের বাড়ি থেকে এত টাকা বেরিয়েছে যে মেশিন দিয়ে গুণতে হয়েছে। ভোটের সময় তৃণমূল-বিজেপি বলে, ভাতা দিচ্ছি। কার টাকা কে দেয়? জনগণের টাকা। মানুষের রোজগারের টাকা থেকে ওরা জিএসটি আদায় করে, আর মোদী-মমতা সেই টাকায় হেলিকপ্টারে ঘুরে বেড়ায়। জমিদার-জোতদারের থেকে জমি আদায় করে বামফ্রন্ট সরকার ভূমিহীনদের জমি দিয়েছিল। এখন বামফ্রন্ট এলে যাদের মাথায় ছাদ নেই তাদের আবাস হবে। যাদের আবাসের জন্য জমি নেই, তাদের জমিরও ব্যবস্থা বামফ্রন্টই করবে। কোন কাটমানি দিতে হবে না। মোদী-মমতার জমানায় কাটমানি নেওয়া অপরাধীদের কোন বিচার হয়নি। এদল-ওদলে বদলাবদলি করেছে, আর ভোটারদের ‘বিচারাধীন’ করে রেখে দিয়েছে। আমরা বলছি, কোন প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। এর জন্যই মোস্তারি বানুকে দিয়ে আমরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করিয়েছিলাম। তারপরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, ২১ তারিখের মধ্যে যাদের নাম ক্লিয়ার হবে তাদের সবাইকে ভোটদানের সুযোগ দিতে হবে। আমরা এখনও ভোটাধিকার ফেরানোর লড়াইতে আছি। সংবিধান দেশবাসীকে এই অধিকার দিয়েছে। বিজেপি ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়াদের অনুপ্রবেশকারী বলেছিল। কোর্ট যাদের ভোটাধিকার ফেরত দিয়েছে, বিজেপি তাদের কাছে ক্ষমা চাইবে? আসলে ধর্মের নামে রাষ্ট্র তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। দেশদ্রোহী বলে তাড়াতে চাইছে। ওরা জেনে রাখুক, দেশ কারো বাপের নয়। সবার রক্ত মিশে আছে এদেশের মাটিতে। ভাগাভাগি তৈরি করে লুটের রাজত্ব চালাতে চাইছে বিজেপি তৃণমূল। বামপন্থীরা সেটা হতে দেবে না।’’ এদিন ভগবানগোলাতেও বামফ্রন্টের সিপিআই(এম) প্রার্থী মাহমুদুল হাসানের সমর্থনে প্রচারে অংশ নেন মহম্মদ সেলিম।

Comments :0

Login to leave a comment