সূর্য মিশ্র
১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই ভারতে অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে দিয়ে কার্যত ঐ সময় থেকেই ‘আধা ফ্যাসিবাদী’ সন্ত্রাসের শুরু হয়েছিল। ১৯৭৫-’৭৭ সাল কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়ায় ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন মধ্যরাতে দেশজুড়ে অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা জারি হয়। কংগ্রেস বিরোধী বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়, এর মধ্যে কংগ্রেসের কিছু নেতাও ছিলেন। এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর লোকসভায় সদস্যপদ খারিজ হয়ে গিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশ পর্যন্ত এই রায় কার্যকর থাকবে বুঝতে পেরে ইন্দিরা গান্ধী মূলত তাঁর অনুগামী নেতাদের পরামর্শে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন এবং রাষ্ট্রপতি তা জারি করেন। দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান সরকার বিরোধী বিক্ষোভ বিশেষত রেল ধর্মঘট এবং কংগ্রেসের ভাঙনের প্রেক্ষাপটে স্বৈরতান্ত্রিক একনেত্রী একদল ব্যবস্থা কায়েম করা হয়।
আমাদের পার্টির লোকসভার নেতা এ কে গোপালন, জ্যোতির্ময় বসু সহ অন্যান্য দলের মোট ৩৯ জন সাংসদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে সংসদে জরুরি অবস্থা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করে কমরেড এ কে গোপালন জরুরি অবস্থা বাতিলের দাবি তোলেন। তিনি বলেছিলেন যে সেই সময়েই পার্টির ২ হাজারের বেশি বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং সমস্ত সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার জন্য সেন্সারশিপ চালু করা হয়েছে। সংসদে যারা এর বিরোধিতা করেছিলেন তাঁদের বক্তব্য ছাপা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কেবল শাসকদলের বক্তব্যই প্রচার করা হয়েছিল। কারণে অকারণে ১৪৪ ধারা জারি, কার্ফু জারি, কোথাও একসঙ্গে পাঁচ জনের বেশি মানুষের সমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকারগুলি বাতিল করা হয়েছিল। ধীরে ধীরে ব্যাপক গ্রেপ্তার, হামলা, অফিস বন্ধ করে দেওয়া এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গে মিশায় ৫৩২০ জনকে এবং ডিফেন্স অ্যাক্টে ২৫৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, এরাজ্যের জেলের কয়েদী ধারণ ক্ষমতার থেকে বন্দিদের সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল (শাহ কমিশনের রিপোর্ট)। ৪২তম সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মানুষের অধিকার খর্ব করার দানবীয় নানা আইন কানুন চালু করা হয়। বস্তি উচ্ছেদ, শ্রমিক ছাঁটাই, কৃষকদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়। বলা বাহুল্য, পশ্চিমবঙ্গে ‘আধা ফ্যাসিবাদী’ সন্ত্রাস শুরু হয়েছিল এর অনেকটা আগেই। পশ্চিমবঙ্গে আমাদের পার্টির এগারোশো, অন্য বামপন্থী কর্মীদের নিয়ে মোট চৌদ্দোশো কর্মী খুন হয়েছিলেন। ২০ হাজার ঘরছাড়া হয়েছিলেন, অনেকে অন্যরাজ্যে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ৭০ হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
১৯৭৭ সালের জানুয়ারি মাসে রেডিও’তে প্রধানমন্ত্রী জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের কথা অনুচ্চারিত রেখেই ঘোষণা করেছিলেন মার্চ মাসের মাঝামাঝি নির্বাচনের কথা। তার আগে ১৯৭৬ সালের ৯ এপ্রিল আমাদের পার্টির পলিট ব্যুরোর পাঁচ জন সদস্য এ কে গোপালন, জ্যোতি বসু, ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ, পি রামমূর্তি এবং হরকিষেণ সিং সুরজিৎ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। সেই স্মারকলিপিতে বলা হয়েছিল, ‘জরুরি অবস্থা এখনও জারি আছে এবং তার সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে অর্থনৈতিক সঙ্কটের জন্য তা জারি করা হয়েছে। বাস্তবে এর পিছনে রাজনৈতিক কারণ আছে। দীর্ঘদিন ধরে পার্টি বলে এসেছে জমিদার, জোতদার, একচেটিয়া পুঁজির স্বার্থরক্ষা করার নীতি দেশে সঙ্কট ডেকে আনবে এবং এর জন্য বিকল্প নীতির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে যা সঙ্কটের সমাধান করবে।’
পার্টির পক্ষ থেকে দেওয়া এই স্মারকলিপিতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা, প্রেস সেন্সরশিপ, বিরোধী দল ও গণসংগঠনের কাজে বাধা দেওয়া ইত্যাদির বিরোধিতা করার পাশাপাশি পার্টি ধর্মীয় মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা, সমস্ত শোষণ, বহুজাতিক সংস্থা ও একচেটিয়া পুঁজি ও সাম্রাজ্যবাদের বিরোধী অবস্থানকে সমর্থন করে। চীন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করা, চীনে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা ইত্যাদি বিষয়কে সমর্থন করেও জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, দানবীয় মিশা আইন, প্রেস সেন্সরশিপ প্রত্যাহার, সংবিধানের ৩৯ তম ধারা বিলোপ, সব রাজনৈতিক নেতৃত্বের মুক্তি ও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, নাগরিকদের গণতান্ত্রিক ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার রক্ষার দাবি করা হয়েছিল। সেই কারণেই আমাদের পার্টি কখনো এই ধারণার সঙ্গে সহমত হয়নি যে কংগ্রেসকে হারাতে বিভিন্ন পার্টি দল ও গোষ্ঠীগুলির নিজেদের নীতিগত অবস্থান সরিয়ে রেখে একটাই দলে পরিণত হওয়া উচিত। সিপিআই(এম)’র বরাবরের অবস্থান অন্যান্য বিরোধী দল, ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কংগ্রেসের সেই শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা যারা সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও একই সঙ্গে কংগ্রেসের স্বৈরতান্ত্রিক নীতির বিরুদ্ধে লড়তে চায়। পার্টির সেই অবস্থান এখনও প্রাসঙ্গিক। এই নীতিগত অবস্থানের কারণেই পার্টি ১৯৭০–’৭১ সালে তথাকথিত মহাজোটে শামিল হয়নি। আমাদের পার্টির পলিট ব্যুরো সতর্ক করেছিল, ‘বাস্তবে তথাকথিত জাতীয় বিকল্প বলে যা তুলে ধরা হচ্ছে, বিভিন্ন পার্টি মিলে যাওয়াতে তাতে দক্ষিণমুখী জটিলতা থাকবে। এই পার্টিগুলির জোট সাম্রাজ্যবাদ, একচেটিয়া পুঁজি এবং বিদেশি বহুজাতিকের সাথে গাঁটছড়া ও কায়েমি স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনও দৃঢ় অবস্থান রাখে না।’
এরপরে ১৯৭৭ সালে জয়প্রকাশ নারায়ণের উৎসাহ ও পরামর্শে জনতা পার্টি তৈরি হয়, যখন সারা দেশে কংগ্রেস বিরোধিতার ঝড় বইছিল। আমাদের পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি তখনই বলেছিল, ‘সদ্য গঠিত জনতা দল শাসক কংগ্রেস দলের কার্যকরী বিকল্প হবে না। ... এটা সবার জানা যে দলগুলো নিয়ে জনতা পার্টি গড়ে উঠেছিল যেমন স্বতন্ত্র পার্টি, বিকেডি, জনসংঘ ইত্যাদি কংগ্রেস বিরোধিতার স্বর তুললেও আদপে তারা শাসক কংগ্রেস দলের কায়েমী শাসনের প্রতিনিধিত্ব করছে।’ তাই সিপিআই(এম) জনতা পার্টির সঙ্গে অভিন্ন কর্মসূচির ভিত্তিতে কোনও রাজনৈতিক বোঝাপড়া করেনি। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে লোকসভা বিধানসভায় প্রধান ইস্যু ছিল জরুরি অবস্থার প্রত্যাহার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার। এদের সঙ্গে কোনও আঁতাত ছাড়াই গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার পুনঃস্থাপনের জন্য তাদের সঙ্গে আসন বোঝাপড়া হয়েছিল। ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট ৫২ শতাংশ আসন ছেড়ে দিতে রাজি থাকলেও তারা এই বোঝাপড়ায় রাজি হয়নি। নির্বাচনের পর সিপিআই(এম)’র একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা সহ বামফ্রন্টের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
এর পরবর্তী ৩৪ বছরে বামফ্রন্ট সরকারের অবস্থান ও তারপর আরএসএস-বিজেপি’র সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে তৃণমূল দলের উত্থান ও তাদের সরকার গঠন এবং তারপর ২০২৬ সালে সেই সরকারের পতন ইত্যাদি ঘটনাপর্বের বিশদ বিশ্লেষণ এখানে অসম্ভব। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে একটি আসনেও জয়ী হতে পারেনি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তারা মাত্র ৩টি আসনে জয়ী হয়েছিল। কিন্তু এরপর পরিকল্পনামাফিক ‘আগে রাম, পরে বাম’ এই স্লোগানটি তারা সামনে এনেছিল। এটি সঙ্ঘ পরিবারের মস্তিষ্কপ্রসূত এই বিষয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। পরে ২০২১ সালে বামফ্রন্ট বিধানসভায় শূন্য হয়ে যায়, বিজেপি ৭৭টি আসনে জয়ী হয় এবং তারপর ২০২৬ সালে বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারে এসেছে। বিগত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি’র প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ দেশব্যাপী কমে যাওয়ার পর এই প্রবণতা সামনে এসেছে এরাজ্যে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি’র প্রাপ্ত ভোট ৪৫.৮৪ শতাংশ। এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বামপন্থীদের ছাড়াও গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলির স্বাধীনতা উত্তরকালে সবচাইতে বড় বিপর্যয় বলেই স্বীকার করে নিতে হয়। এর পর্যালোচনা ও কারণগুলি অনুসন্ধানের জন্য কাজ চলছে এবং রাজ্য কমিটি ও তারপর কেন্দ্রীয় কমিটির সভার পরেই বিশদ বিশ্লেষণ সম্ভব। এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে তৃণমূলের শাসনকালে আরএসএস’এর শাখাগুলির বিপুল প্রসারলাভ ঘটেছে, সঙ্ঘ পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় একাজ তৃণমূলের আনুকূল্যেই ঘটেছে।
এটাও মনে রাখা দরকার যে বিপর্যয় সত্ত্বেও তৃণমূল ও বিজেপি’র মধ্যে ভোটের পার্থক্য অনধিক ৫ শতাংশ। এই সংখ্যা দেখিয়ে দিচ্ছে যে রাজ্যে বিজেপি বিরোধী ভোট কম নয়। কিন্তু তৃণমূল ভেঙে পড়েছে। সংসদে একরকম ভাঙন, বিধানসভায় আরেকরকম ভাঙন। কিন্তু যাই হোক না কেন দুটোই বিজেপি’র দখলে। নির্বাচনের আগেই আমরা বাম, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলির সরকার গঠনের লক্ষ্য ঘোষণা করে বলেছিলাম আমাদের মূল শত্রু বিজেপি, তাদের বাংলা থেকে হঠাতে হবে, আর দুর্নীতিগ্রস্ত লুটেরা তৃণমূলকে সরকারকে গদিচ্যুত করতে হবে। কিন্তু এসআইআর সহ সাম্প্রদায়িক বিভাজনের উসকানি ও মিথ্যাচার, জোচ্চুরি সত্ত্বেও বিজেপি’র জয়ের মার্জিন এটুকুই। এই মুহূর্তে রাজ্যের মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে বিজেপি বিরোধী মতাদর্শগত, রাজনৈতিক, সংগ্রামকে জোরদার করে নির্বাচনোত্তর ভারাসাম্যের পরিবর্তন করতে হবে। বামপন্থীরা ছাড়া বিজেপি’র বিরুদ্ধে এই লড়াইতে কেউ নেতৃত্ব দিতে পারবে না, তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের ভোলবদলেও তা স্পষ্ট। এই প্রশ্নগুলো এখনই তুলে ধরার প্রয়োজন আছে যে তৃণমূলের ৮০জন বিধায়ক এই নির্বাচনেও মানুষের ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তাঁদের কি মানুষ বিজেপি’কে সমর্থন করার জন্য ভোট দিয়েছিলেন? মানুষের প্রতি তাদের বিশ্বাসঘাতকতাকে তুলে ধরতে হবে। এর বিপরীতে যে সাধারণ ভোটাররা বিজেপি’কে ভোট দিয়েছিলেন তাঁরা অনেকাংশে তৃণমূল কংগ্রেসের অপশাসনের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য বিকল্প না পেয়ে বাধ্য হয়েই কি তা করেননি?
এই বিজেপি কোনও সাধারণ রাজনৈতিক দল নয়, তারা নয়া ফ্যাসিবাদী চরিত্রের। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারকে উৎখাত করতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদতে তারা কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূলকে তৈরি করেছিল এবং তাদের শক্তি জুগিয়েছিল সবরকমভাবে। ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এখন এরাজ্যেও সরাসরি নয়া ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বিজেপি’ই শাসন ক্ষমতায় বসেছে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের ফ্যাসিবাদের সঙ্গে নয়া ফ্যাসিবাদের কিছু চরিত্রের মিল রয়েছে। নয়া ফ্যাসিবাদ নয়া উদারনীতির সঙ্কটের ফসল এবং তা বিশ্বব্যাপী ঘটনা। ভারতে নয়া ফ্যাসিবাদীরা তৈরি হচ্ছে 'হিন্দুত্বে'র সংকীর্ণ মতাদর্শ, নয়া উদারনীতির সঙ্কট, বৃহৎ বুর্জোয়ার স্বার্থবাহী স্বৈরতন্ত্রের প্রেক্ষাপটে এই হিন্দুত্বের সঙ্গে যে হিন্দুধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই, এটা একটি রাজনৈতিক প্রকল্প তা সঙ্ঘগুরু গোলওয়ালকার অনেক আগেই লিখেছেন। নয়া ফ্যাসিবাদীরা নির্বাচনকে ব্যবহার করে, জনগণের অসন্তোষের সুবিধা নিয়ে জনমোহিনী বাগাড়ম্বরের সাহায্যে ক্ষমতায় আসে কিন্তু ক্ষমতায় এসেও তারা নির্বাচনী ব্যবস্থার অবলুপ্তি ঘটায় না। তারা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে রেখে দিয়ে বিরোধীদের দমন করতে স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে। রাষ্ট্রের মধ্যেই দীর্ঘসময় কাজ করে তারা রাষ্ট্রের কাঠামো বদল করতে চায়। বিজেপি আরএসএস’এর হিন্দুত্ব- কর্পোরেট স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে নয়া ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যগুলি ক্রমশ তীব্রভাবে ফুটে উঠছে।
জরুরি অবস্থার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপরে যে আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছিল সেই বিপদ এখন আরও বড় হয়ে নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে নয়া ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণে। এই বিপদের মোকাবিলা করতে হলে আক্রান্ত সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সকল বাম, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি এমনকি তৃণমূল ও বিজেপি’র ভোটারদের মধ্যে বহু সাধারণ মানুষ রয়েছেন তাঁদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। নয়া ফ্যাসিবাদের মোকাবিলায় এই দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং তার জন্য সিপিআই(এম)’র নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধি করতেই হবে।
Comments :0