Udayan Guha

ফের আদালতে তোলা হয় উদয়ন গুহ’কে

জেলা

আবাস দুর্নীতি কাণ্ডে প্রথম ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ শেষে বুধবার ফের দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হয় রাজ্যের প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা দিনহাটার প্রাক্তন বিধায়ক উদয়ন গুহ-কে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে দিনহাটা থানা থেকে মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাক্তন মন্ত্রীকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে দেখা যায় পুলিশ দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের চাইল্ড কেয়ার ইউনিট গড়তে রেজিস্ট্রিশেন বিহীন শিশু মঙ্গল সমিতির নামে কোটি কোটি আদায় ও তছরুপের আরও একটি মামলায় উদয়ন গুহকে যুক্ত করেছে।
এদিন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাক্তন মন্ত্রীকে ফের ১৪ দিনের পুলিশী হেপাজতের আবেদন জানালে বিচারক বলেন, অভিযুক্ত হার্টের পেশেন্ট বলে একটি মেডিকেল রিপোর্ট জমা পড়েছে আদালতের কাছে। সেটি খতিয়ে দেখে আগামী সোমবার পুলিশী হেপাজতের আবেদন বিবেচনা করবে আদালত।
এদিন সরকারী আইনজীবি সঞ্জয় বর্মন বলেন, প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ৪০৬, ৪২০, ৩৮৪ এবং ১২০ জামিন অযোগ্য ধারা ঋজু হয়েছে। মহকুমা হাসপাতালে চাইল্ড কেয়ার ইউনিট গড়তে একটি রেজিস্ট্রেশন বিহীন সংস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। ওই সংস্থার সম্পাদক ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। পুলিশ এদিন আদালতকে জানিয়েছে  ৫০ হাজার, ২৫ হাজার টাকা চাঁদা নিলেও ওই সংস্থা কম টাকার রসিদ দিয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল বিরোধী মানুষের থেকে এই টাকা তোলা হয়েছে এরকম অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে। এদিকে দিনহাটা থানার তদন্তকারী পুলিশের দল সাতজন শিক্ষককে থানায় ডেকে জেরা করেছেন। এরা প্রত্যেকেই দিনহাটা শহরের নামী স্কুলের শিক্ষক। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এদের নাম প্রকাশ্যে আনছেন না। পুলিশের বক্তব্য আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এই শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদের অন্তরালে লুকিয়ে আছে দিনহাটা মহকুমা হাসঅয়াতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট গড়তে প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ যে শিশু মঙ্গল সমিতি গড়ে কোটি কোটি টাকা তুলেছিলেন। এই বিষয়ে প্রথম অভিযোগ হয় গত ১২ জুন। দিনহাটার রুপম সাহা নামে এক ব্যক্তি উদয়ন গুহ সহ ১৪ জনের নামে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক নাম পেয়েছে। মনে করা হচ্ছে জেরা করা ৭ শিক্ষক এখন তদন্তকারী পুলিশ টিমের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। শিক্ষকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, ওই সমিতিকে চাঁদা ব্যঙ্কের চেকে নাকি নগদে দিয়েছিলেন! চাঁদার রসিদ দেওয়া হয়েছে কিনা! শিক্ষকদের নিয়ে সেই সময়ে যে সভা প্রাক্তন মন্ত্রী করেছিলেন সেই সভায় তাদের ভূমিকা কি ছিল! দিনহাটার বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের থেকেও পুলিশের তদন্তকারী টিম তথ্য জোগাড় করছেন। মনে করা হচ্ছে আগামী সোমবার পুলিশ সেই সব তথ্য আদালতে জমা দিয়ে বিচারককে বলবেন ফের কেন প্রাক্তন মন্ত্রীকে পুলিশে হেপাজতে নেওয়া উচিত।

Comments :0

Login to leave a comment