Jagadish Chandra Barma Basunia

জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে মেনে নিতে রাজি নয় সিতাই

রাজ্য জেলা

দলত্যাগী তৃণমূলের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনীয়া ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া দলে যোগ দিয়েও স্বস্তিতে নেই! মঙ্গলবার তিনি পদাতিক এক্সপ্রেসে নিউ কোচবিহার স্টেশনে নেমেছেন সেই খবর সিতাইতে পৌঁছুতেই বৃষ্টির মধ্যেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে সিতাই জুড়ে! নিউ কোচবিহার স্টেশনে নেমে সোজা সিতাইতে যাওয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন কোচবিহারের সাংসদ।
এদিন তিনি নিউ কোচবিহার স্টেশনে নামার পরেই বিরাট পুলিশ বাহিনী সুরক্ষা দিতে তাঁকে ঘিরে নেয়। তাতেও নিজের সুরক্ষা সুনিশ্চিত নয় আন্দাজ করে নিজের নাতিকে কোলে নিয়ে ঢাল হিসেবে রেখে স্টেশন থেকে বেরিয়েই গাড়িতে চেপে কোচবিহার শহরের তাঁর নিজের ফ্ল্যাটে চলে যান। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায় না থাকলেও ছিলেন কয়েকজন আত্মীয়। ন্যাশানাল সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ায় যোগ দিয়ে তিনি এখন এনডিএ-র শরিক। অভিযোগ তৃণমূলের ২০ সাংসদ ভাঙাতে তিনিই ছিলেন অন্যতম কারিগর। তাঁর স্ত্রী বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ও তৃণমূল ছেড়ে এখন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। সাংসদ সোমবার নিজের ফেসবুক একাউন্টে রাজ্যের বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তবুও সাধারণ মানুষ সাংসদ এবং তাঁর বিধায়ক স্ত্রীকে মেনে নিতে রাজি নয় সিতাইতে। এত কিছু করেও  নিজের জেলায় ফিরে সাংসদ স্বস্তিতে নেই। সিতাই বা ফ্ল্যাটের বাইরে কোথাও গেলে তিনি যে বিক্ষোভের মুখে পড়বেন সেটা কোচবিহারে নেমেই তিনি টের পেয়েছেন। 
এদিকে, সিতাইয়ের সাধারণ মানুষের মতই এনডিপিএস (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ) মামলায় দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস জেল খেটে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হবার পর প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন সিতাইয়ের বিজেপি নেতা সুকুমার বর্মন। তিনি এবং তার পরিবারও চাইছে না ওই অত্যাচারী সাংসদের পরিবার এনডিএ-র শরিক হোক। মঙ্গলবার সুকুমার বর্মন মাথাভাঙায় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘‘তৃণমূলের শাসনে তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাদক পাচারের একটি মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছিল। এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া এবং তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা বসুনিয়া। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাড়ির বের হতেই পুলিশ তাঁকে ভ্যানে তুলে নেয়।। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে সিতাই এলাকা থেকে তুলে দিনহাটার নয়ারহাট এলাকায় নিয়ে সাজানো মাদক পাচারের মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়।’’ সুকুমার বর্মনের অভিযোগ তাঁকে খুন করারও চক্রান্ত ছিল সাংসদের। তাঁর স্ত্রী থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন এবং স্থানীয় এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে। সেই কারণে খুনের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।  সুকুমার বর্মনের কথায়, ‘‘আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার দু’দিন পর পরিবারের সামনে হাজির করে বলা হয় আমি মাদক চোরাচালান করতে গিয়ে ধরা পড়েছি। কিন্তু আমি মনে করি, সম্পূর্ণ ঘটনাটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।’’  তার অভিযোগ, আমার মত অনেক মানুষকে মিথ্যে মামলায় জেলে ঢুকিয়েছেন এই সাংসদ এবং তাঁর স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির দিল্লী ও কলকাতার নেতারা যতই সাংসদ এবং তার বিধায়ক স্ত্রীকে আশ্রয় দিন না কেন, সিতাইয়ের বহু মানুষের মতো তিনিও চাইছেন না সাংসদ এবং তার বিধায়ক স্ত্রী এবং তার পরিবার বিজেপি ঘনিষ্ট হোক। মানুষের এই বিক্ষোভ স্বাভাবিক বলেই তিনি মনে করেন।’’ 
সিতাইয়ের সাধারণ মানুষের ক্ষোভে পষ্ট বিজেপি যতই সাংসদ ও তাঁর বিধায়ক স্ত্রীকে ভালো তৃণমূলের শংসাপত্র দিয়ে ঘুরপথে বিজেপিতে আশ্রয় দিন না কেন, মানুষের বিক্ষোভের জেরে সিতাইতে ঢোকা কার্যত কঠিন এই দলবদলু দম্পতির।

Comments :0

Login to leave a comment