Delhi Rape-Murder

২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুটি ধর্ষণ, একটি খুন, দিল্লিতে গ্রেপ্তার এক

জাতীয়

২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুটি ধর্ষণ, একটি খুন। অভিযুক্তের কৃতকর্মের জন্য কোনো অনুশোচনা নেই। একজন আয়কর আধিকারিকের মেয়ের ওপর চালানো নৃশংসতার মামলায় অনেক তথ্য সামনে এসেছে। খোয়া গিয়েছিল চাকরি, প্রতিশোধ নিতে আইআরএস আধিকারিকের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করল এক রাহুল মীনা(৪০) নামে এক ব্যক্তি। কিছুদিন আগে তাকে বরখাস্ত করা হয়। ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত রাহুল মীনাকে দ্বারকার একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের জানিয়েছে অভিযুক্ত পরিকল্পনা করেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। অভিযুক্ত এই ঘটনার একদিন আগে রাজস্থানের আলওয়ার জেলার রাজগড় এলাকায় তাঁর বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে এই অভিযোগে রাজগড় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অভিযুক্ত রাহুল মঙ্গলবার তার গ্রাম কুন্দ্রোলির এক বন্ধুর সঙ্গে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। সে অনুষ্ঠান থেকে মাঝপথে ফিরে আসে। এরপর সে সোজা তার বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। বুধবার সকালে নির্যাতিতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ  ধর্ষণের পর অভিযুক্ত তাঁকে খুনের  হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণের মতো অপরাধ করার পর অভিযুক্ত সেই রাতেই ট্রেনে করে দিল্লিতে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছে আইআরএস অফিসারের বাড়িতে যায়। অফিসারের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করে বলে অভিযোগ। তারপর সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং সেই সন্ধ্যায়ই গ্রেপ্তার হয়। রাজগড় থানায় দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে রাজস্থান পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। নির্যাতিতার জবানবন্দির নিয়ে পুলিশ ব্যবস্থা দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাটি যানায়। দিল্লি পুলিশের একটি দলও রাজগড়ে পৌঁছায় দুই রাজ্যের পুলিশ আলোচনা করে। পরে অভিযুক্তের বাবাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারপর অভিযুক্ত রাহুল মীনাকে গ্রেপ্তার করার আগে তার পরিচিত আরও ছয়জন সন্দেহভাজনকেও আটক করে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর, দিল্লি পুলিশের বেশ কয়েকটি দল বাড়ির বাইরে এবং আশেপাশের এলাকায় লাগানো সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। পুলিশ সূত্রে খবর ঘটনার দিন আইআরএস আধিকারিকের মেয়ে বাড়িতে একাই ছিলেন। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন আধিকারিক এবং তাঁর স্ত্রী। নির্যাতিতার পোশাক ছেঁড়া ছিল। পুলিশের অনুমান,  ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে আধিকারিকের মেয়েকে। মেডিক্যাল পরীক্ষার পরে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ হবে। দিল্লি পুলিশের একটি দল রাজগড়ের উদ্দেশে রওনা হয়ে অভিযুক্তের কাকা তুলে আনে। কাকা জানান, তিনি মঙ্গলবার রাহুল মীনার দেওয়া তিনটি ফোন একটি স্থানীয় দোকানে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। পুলিশ ফোনগুলি উদ্ধার করেছে। ফোন তিনটি ছিল রাহুল মীনা, তার ভাই এবং এক বন্ধুর। পুলিশের এক আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘অভিজুক্তের কাকা রাহুল মীনার ফোনটি ১০,০০০ টাকায় এবং মীনার ভাই ও বন্ধুর ফোনগুলো ৩,০০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।’’ পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিল এবং বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার করেছিল। সে রাজস্থানে তার গ্রামের লোকদের কাছ থেকে টাকা ধার করেছিল। সে আইআরএস অফিসারের প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও টাকা ধার করেছিল। সেই কারণেই আইআরএস তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। অভিযুক্ত দেড় বছর ধরে আইআরএস-এ কাজ করছিল। প্রায় দেড় মাস আগে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

Comments :0

Login to leave a comment