মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
বাংলাদেশে বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা এবং পাহাড় ধসে এখনও পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লক্ষের বেশি। সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রকের প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৭টি জেলা বন্যাকবলে পড়েছে। এই জেলাগুলো, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলাগুলোর মোট ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত অঞ্চলগুলোর ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার জলে দেশের মোট ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই ৭টি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লক্ষ ৯ হাজার ৪১১ জন। দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ৩৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন।
সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২৪ জন। চট্টগ্রামে নিহত ১৩, আহত হয়েছেন ১২ জন। বান্দরবানে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ২জন। ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে রাঙ্গামাটিতে। মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে একজন জখম হয়েছেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারিভাবে মোট ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যেই ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রক সূ্ত্রে খবর। বন্যার জলে কয়েকটি হাসপাতালও প্লাবিত হয়েছে চট্টগ্রামসহ দেশের একাধিক জেলায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনীসহ বন্যাকবলিত ১১ জেলার সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নিয়মিত তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বন্যাজনিত চিকিৎসা-সংক্রান্ত কারণে এখনও পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চট্টগ্রামের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সবাই চিকিৎসাধীন এবং সুস্থ আছেন।
টানা বর্ষণ ও ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আকস্মিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সোমবার ভোর থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জল দ্রুত বাড়তে শুরু করে। মোগড়া, মনিয়ন্দ, দক্ষিণ ও ধরখার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে জল প্রবেশ করেছে। সীমান্তবর্তী অনেক বাড়িঘর ইতোমধ্যে জলে তলিয়ে গেছে। তবে স্থলবন্দর এলাকার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যালয়ে জল ঢুকেছে। বন্দর এলাকার কয়েকটি খাবারের হোটেল এবং সীমান্তবর্তী অনেক বাড়িতেও বন্যার জল প্রবেশ করেছে।
ত্রিপুরার আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী আধিকারিক (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বন্যাদুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
Bangladesh Flood
বাংলাদেশে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪
×
Comments :0