CM Rally Hook tragedy

মুখ্যমন্ত্রীর সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বেহুঁশ ৩৯, চোলাইয়ে বিষক্রিয়ার অভিযোগ

জেলা

ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে অসুস্থরা।

চিন্ময় কর

ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর সভা থেকে ফেরার পথে বেহুঁশ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন ৩৯ জন। ঝাড়গ্রামের ওই সমাবেশ ফেরত ১৭ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক। হাসপাতাল বিষক্রিয়ার কারণ না জানালেও বাসে তোলা চোলাইয়ের ড্রামকেই দায়ী করছেন স্থানীয়েরা।
গত শনিবার ঝাড়গ্রাম শহরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্বাচনী সভার পরই বাসে তুলে দেওয়া হয় চোলাই মদের ড্রাম। সেই চোলাই মদ খেয়েই গ্রামে ফেরার পথে বাসেই ৩৯ জন বেহুঁশ হয়ে পড়েন। ঘটনা আড়াল করতে প্রচার ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে ওআরএস ভেবে পাউচ জলে মিশিয়ে খেছিলেন অসুস্থরা। কিন্তু ওআরএস’র পাউচে ছিল কীটনাশক। তার জেরে এই পরিণতি। 
তবে তৃণমূলের এই প্রচার মানতে নারাজ বড় অংশ। এমন ঘটনায় তোলপাড় পড়েছে ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের মানিকপাড়া অঞ্চলের শিমুলডাঙ্গা গ্রামে। 
জানা গিয়েছে, শনিবার রাত তখন ন’টা। শিমুলডাঙ্গা গ্রামে বাস না ঢুকিয়ে অসুস্থ ও বেহুঁশ ৩৯ জনকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ৩৯ জনের মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা সংকটজনক। এঁদের মধ্যে ৪ মহিলা রয়েছেন।
মানিকপাড়া অঞ্চলের শিমুলডাঙ্গা শবর জনজাতির পাড়া থেকে বাসে করে ৪০ জনকে নিয়ে যাওয়া হয় আইএনটিটিইউসি’র ব্যানার লাগানো বাসে। ফেরার পথে তৃণমূলের পক্ষ থেকে খাবারের সঙ্গে চোলাই মদের ক্যান বাসে তুলে দেওয়া হয় বলে গ্রামবাসীদের বক্তব্য। সেই চোলাই মদের বিষক্রিয়ায় ৩৯ জন বেহুঁশ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার মধ্যে ১৮ বছরের কৃষ্ণ মল্লিক, ৬১ বছরের মথুর মল্লিক, ৩৫ বছরের গায়ত্রী মল্লিক, তারক দন্ডপাট, সৌম্যজিত ভক্তার মতো ১৭ জন সংকেটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
এমন ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী অর্জুন মাহাত। তিনি বলেন, হাসপাতাল চত্বর নিরাপত্তা রক্ষী দিয়ে ঘিরে দিয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। অথচ ভিতরে ওয়ার্ডে তৃণমূলের নেতারা সহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি, তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন। 
ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অনুরূপ পাখিরা বলেন, প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়া থেকে অসুস্থতা বলে জানা খেছে। কী কারনে বিষক্রিয়া তা এখন বলা সম্ভব নয়।

Comments :0

Login to leave a comment