Bomb Recovered In Islampur

বোমা উদ্ধার, ইসলামপুরে চাঞ্চল্য

জেলা

গণনা পর্ব শুরুর আগেই উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরের দাড়িভিট গেন্নাবাড়ি এলাকায় তাজা বোমা উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এলাকাজুড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকজন বাসিন্দা এলাকায় একটি সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইসলামপুর থানার পুলিশ। এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঙ্গে সঙ্গে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে ডেকে পাঠানো হয়। বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে বোমাগুলি পরীক্ষা করে এবং সেগুলি নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করে। গোটা এলাকায় তল্লাশি চালানো হয় যাতে আর কোনও বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আসন্ন ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে অশান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এই বোমাগুলি মজুত করে রাখা হয়েছিল। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সম্প্রতি ইসলামপুরে এক সভায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় বোমা পড়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি বলেন, অনেক সময় শিশুদের কাছে এগুলি খেলনার মতো মনে হয়, ফলে তারা বিপদের মুখে পড়ে যায়। যদিও নির্বাচনের সময় তেমন কিছু দেখা যায়নি, কিন্তু নির্বাচন শেষ হতেই এই ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
ইসলামপুরের সিপিআই(এম) প্রার্থী সামী খানও এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে রাখাই শাসক দলের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে দুষ্কৃতীরা কোনও বড় ঘটনা ঘটাতে পারেনি, তবে এই বোমা উদ্ধারের ঘটনা তারই নমুনা। তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।

Comments :0

Login to leave a comment