Joint Entrance Mains

দারিদ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করে সফল মালবাজারের রূপায়ণ

জেলা

সোমনাথ দত্ত: মালবাজার 

অভাব যার নিত্য সঙ্গী। কার্যত দিন আনি দিন খাই দশা। নেই নিজেদের বাড়ি। দেড়  বছর বয়সেই পিতৃহীন। সে সময়ই সংসার চালানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অসহায় মা। সেই ছেলে রুপায়ন এবার সদ্য প্রকাশিত পরীক্ষা জয়েন্ট এন্টারন্স এক্সামিনেশন মেইন্সে  ৯৯.০০১৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়েছে।  চরম সমস্যার বেড়াজাল টপকে সফলতার অবিস্মরণীয় যাত্রার এই কাহিনী অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে সকলকেই। 
ডুয়ার্স এর মালবাজার শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সরু গলিপথ। সেখানে ছোট্ট একটি ভাড়াবাড়ি। সেই বাড়িতেই বাস চন্দ পরিবারের। রূপায়ণ চন্দ মাল আদর্শ বিদ্যাভবনের দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। ডাক নাম রিজু।পড়াশোনায় বরাবর ভালো। পাশাপাশি ক্রিকেটের মাঠেও নজর কাড়া খেলোয়াড়। মাঠই তাকে শিখিয়েছে জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার মন্ত্র। যে ঘরে রূপায়ণরা থাকে সেই ঘর এতটাই ছোট যে পা রাখারও বন্দোবস্তই হয় না। সেখানেই এক কোণে একটি টেবিল। তাতে সাজানো বই। আর নিজের স্কলারশিপের টাকায় কেনা ল্যাপটপ। এই বই আর ল্যাপটপ ব্যবহার করেই স্বপ্ন দেখে রুপায়ন। স্বপ্ন আইআইটিতে পড়ে গবেষক হওয়ার। ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্যে পা বাড়িয়েছে সে। 
রুপায়নের দেড় বছর বয়সেই বাবা নিমাই চন্দকে হারিয়েছিল। মা শুক্লা চন্দ হার মানে নি। প্রথমে চন্দ পরিবার চালসায় ছিল। পরে মাল বাজারে চলে আসে। ভাড়াবাড়িই তাদের সম্বল। মা শুক্লা অন্যের বাড়িতে সকালে রান্নার কাজ করেন। আর রাতে রোগীদের দেখাশোনার কাজ করেন। মেয়ে নীলাঞ্জনার বিয়ে হয়েছে। মায়ের কথায়, "আমার ছেলে মেয়েরা খুবই কষ্ট করেই পড়াশোনা করেছে। ছেলে খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনা করতেও ভালোবাসে। ও নিজের প্রচেষ্টায় এতদূর এগিয়ে এসেছে। সকলের সহযোগিতা পেলে ও আরও এগিয়ে যাবে।" মাধ্যমিকে রূপায়ণ ৫৮৭ নম্বর পেয়েছিল উচ্চ মাধ্যমিকস্তরে মাল আদর্শ বিদ্যাভবনে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে। দ্বাদশ শ্রেণির শেষ দিকে শুধুমাত্র একজনই গৃহ শিক্ষক ছিল তার। রুপায়নের কথায়, "আমি অনেক আগেই লক্ষ্য স্থির করেছিলাম। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি। জে ই ই মেইন্স এর প্রথম প্রচেষ্টায় ৯৮% বেশি নম্বর পেয়েছিলাম। এবার দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৯৯ শতাংশের বেশি নম্বর পেলাম। সামনেই জে ই ই অ্যাডভান্স পরীক্ষা রয়েছে। তারই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি এই পরীক্ষাগুলোর জন্য কোন বিশেষ কোচিং নিই নি। বই, ইউটিউব এবং ইন্টারনেটের বিভিন্ন ভিডিও দেখেই প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমি এগিয়ে যেতে চাই।" রুপায়নের এহেনো সফলতায় খুশি পরিবারের সদস্য সহ সকলেই।

Comments :0

Login to leave a comment