কেশপুরে কে কোথায় ভোট দিচ্ছে তা চিহ্নিত করতে আতর ব্যবহারের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ইভিএম-এ আতর দিয়ে রেখে পরে গন্ধ শোঁকা হচ্ছে।
এবারে আর জানলা খোলা রেখে ভোট পর্ব চালানোর সুযোগ পায়নি তৃণমূল। তাই বিকল্প হিসাবে ইভিএম-এ তৃণমূলের প্রতীক চিহ্নের সুইচে আতর ঢালা হয়েছে বলে অভিযোগ।
মতদান চিহ্নিত করার অভিযোগ ঘিরে ছড়ায় আতঙ্ক। সেই আবহেই কেশপুরে সীমাগেড়িয়া গ্রামের এক ভোটদাতার মৃত্যুর হয়েছে দীঘা বুথে।
কেশপুরে একাধিক বুথে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোটে ছাপ্পা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পাওয়া যাচ্ছে না অনেক জায়গায়। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন কেশপুরের সিপিআই(এম) প্রার্থী গুরুপদ মন্ডল।
এদিকে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি কেশপুরের সীমাগেড়িয়া গ্রামের। বছর পঞ্চাশের ইসরাতন বিবির মৃত্যু হয়। এর আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর স্বামীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। তা নিয়ে আতঙ্কেও ছিলেন এই মহিলা। দীঘা বুথে ভোট দিয়ে বের হওয়ার পরই বুথের সামনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিপিআই(এম) প্রার্থী গুরুপদ মন্ডল। ইসরাতন বিবির বাড়িতে গিয়ে পরিজনদের সঙ্গে দেখাও করেন মণ্ডল। মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া কেশপুরে।
এদিকে ভোট বুঝতে আতর দিয়ে নজরদারির অভিযোগ উঠেছে কেশপুর কেন্দ্রের মন্তা প্রাথমিক স্কুলে ২৫২ নম্বর বুথ, তলনন্না ৭৯ নম্বর বুথ, গরগজপোতা ১৭৭ নম্বর বুথে।
এছাড়া খড়্গপুর গ্রামীণ কেন্দ্রের মহারাজপুর ৩২ নম্বর বুথেও আতর ঢেলে নজরদারি চালায় তৃণমূল। ইভিএম মেশিনের তৃণমূল এর প্রতীক চিহ্নের সুইচে আতর ঢেলে রাখা হয়। ভোট দেওয়ার পর ভোটার বের হলে তার আঙুল শুঁকে চিহ্নিত করার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়ায়।
কেশপুরের মহিষাগেড়িয়া (৬৫), রতনহাতি (৫৬), শশাগেড়্যা (৬১), গরগজপোতা (১৭৭) বুথ গুলিতে অন্যদের দিয়ে পরিযায়ী নামে ছাপ্পা ভোট মারে তৃণমূল। এই পরিযায়ী শ্রমিকরা অনেকেই গ্রামে ফিরতে পারেননি। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ সহ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গুরুপদ মন্ডল।
Assembly Election Keshpur
কেশপুর: পরিযায়ী ভোটে ছাপ্পা, ভোটদাতার মৃত্যু, ইভিএম-এ আতর!
×
Comments :0