Maa Nursing Home

গণশক্তির খবরের জের, মা নার্সিংহোম পরিদর্শনে জেলা প্রশাসন

জেলা

সরকারি জমিতে তৃণমূল নেতার নার্সিংহোম, গণশক্তির পাতায় প্রকাশিত খবরের জেরে নড়েচড়ে বসলো কোচবিহার জেলা প্রশাসন! বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ মাথাভাঙ্গা হাসপাতালপাড়া সংলগ্ন সরকারি জমিতে বিতর্কিত ‘মা নার্সিংহোম’ পরিদর্শনে আসেন মাথাভাঙ্গার মহকুমাশাসক শ্রী সুশোভন মণ্ডল এবং এসিএমওএইচ ডাঃ সৈকত দাস।  নার্সিংহোমের একটি ল্যাবরেটরি এবং একটি ওষুধের দোকানের বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখেন তারা। জানা গেছে জমির কোন বৈধ কাগজ দেখাতে পারে নি মালিক পক্ষ! উলটে প্রশ্ন উঠেছে সেচ দপ্তরের জমিতে কি করে স্বাস্থ্য দপ্তর নার্সিংহোম খোলার অনুমতি দিল। কি ভাবে দমকল বিভাগ থেকে বিদ্যুৎ বন্টন নিগম বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে! এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির মালিক জান্নাতুন বিবির সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, ‘‘নার্সিংহোম, ল্যাবরেটরি ও ওষুধের দোকানের জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথি, লাইসেন্স এবং বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন ও নির্দেশিকা দেখতে চেয়েছিলেন আধিকারিকরা। তাঁর দাবি, হাতের কাছে থাকা নথিপত্র তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দেখিয়েছেন। তবে আধিকারিকরা আরও কিছু নথি চেয়েছেন বলে তিনি জানান। সেই নথিগুলি জমা দেওয়ার জন্য কিছুটা সময়ও চেয়ে নিয়েছেন তিনি।’’
সূত্রের খবর, বুধবার সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে বিতর্কিত ওই জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ মাথাভাঙ্গা থানায় দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তরেও একটি অভিযোগ জমা পড়ে। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মহকুমা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, এই নার্সিংহোম ও তার জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় স্তরে বিতর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীদের একাংশের দাবি, জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে বিবাদ রয়েছে। পাশাপাশি সেচ দপ্তরের জমি দখল করে নার্সিংহোম, ল্যাবরেটরি ও ওষুধের দোকান নির্মাণ করা হয়েছে বলেও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে এখনও কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত বা আদালতের রায় সামনে আসেনি।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অতীতে নার্সিংহোমের উদ্বোধন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান সহ  একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল। তবে সেই উপস্থিতির সঙ্গে বর্তমান অভিযোগ বা প্রশাসনিক পরিদর্শনের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। বর্তমানে প্রশাসনের তরফে চাওয়া জমির নথিপত্র দেখার পর বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

Comments :0

Login to leave a comment