Assembly election 2026:Md Salim

রাজ্যবাসীর অধিকার ফেরাতেই জয়ী করতে হবে বামপন্থীদের: সেলিম

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

ছবি সংগ্রহ থেকে।

ভাস্কর দাশগুপ্ত: পুরুলিয়া 
 রাজ্যের মানুষের অধিকার ফেরাতে বামপন্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন সিপিআই(এম)’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সোমবার পুরুলিয়ার বরাবাজারে এবং বলরামপুরে দুটি নির্বাচনী সভায় মাওবাদী তৃণমূলী যৌথ আক্রমণে শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেছেন, শহীদের রক্ত কখনই ব্যর্থ হবে না। কেন্দ্র এবং রাজ্যের সরকার মানুষের সবকিছু লুট করছে, মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে নিতে এখন ভোটাধিকারও কেড়ে নিচ্ছে। যারা চুরি করেছে, কামদুনি থেকে অভয়ার মতো নারী নির্যাতন করে খুন করেছে, তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বিবেচনাধীন করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। রাজ্যের মানুষের সব অধিকার ফেরাতে বামপন্থীদের জয়ী করতে হবে। এদিন সকালে পারা বিধানসভার চেলিয়ামাতে একটি নির্বাচনী পদযাত্রাতেও অংশ নেন মহম্মদ সেলিম। 
বামফ্রন্ট সরকার মানুষের ক্ষমতায়ন করে কীভাবে রাজ্যকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিল তার উল্লেখ করে সেলিম বলেছেন, এখন নিয়োগে দুর্নীতি, মন্ত্রীর ঘর, তাঁর বান্ধবীর ঘর থেকে বিপুল টাকা পাওয়া যাচ্ছে। অথচ মানুষের আয় কমছে, জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, কৃষকরা ফসলের লাভজনক দামও পাচ্ছেন না। বামপন্থীরা ক্ষমতায় এলেই স্বচ্ছতার সঙ্গে সব শূন্যপদে ধাপে ধাপে নিয়োগ করবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ঠিকায় কাজ করাচ্ছে, ন্যূনতম মজুরিও দিচ্ছে না। বামপন্থীরা এলেই প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজনকে উপার্জনশীল করে দেওয়া হবে, ন্যূনতম ২২ হাজার টাকা মজুরি নিশ্চিত করা হবে। ১০০ দিনের কাজের বদলে ২০০ দিনের কাজ শুরু করা হবে। মজুরি করা হবে ৬০০ টাকা। প্রত্যেক বছর স্কুলে মাদ্রাসায় সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ হবে। সমস্ত বন্ধ হয়ে থাকা আদিবাসী হস্টেল খোলা হবে। বন্ধ হয়ে থাকা স্কুল চালু করা হবে।
এদিন পুরুলিয়ার বরাবাজারের বেলডি মাঠে বান্দোয়ান বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী রথু সিং সর্দারের সমর্থনে এবং বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী নমিতা মাহাতোর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় মহম্মদ সেলিম ভাষণ দেন। পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে তৃণমূল এবং মাওবাদীরা মিলিতভাবে নির্বিচারে খুন করেছিল সিপিআই(এম) কর্মী-সমর্থকদের। পুরুলিয়া বান্দোয়ান এবং বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৩৬ জন সিপিআই(এম) কর্মী সমর্থক নিহত হয়েছিলেন মাওবাদীদের হাতে। একজন আইসিডিএস কর্মীর আজও খোঁজ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের সেই শহীদ পরিবারের সদস্যরা আজও রয়েছেন লাল ঝান্ডাকে কাঁধে নিয়ে। এদিন সিপিআই(এম)’র নির্বাচনী প্রচারে তাঁরাও জানিয়ে দিয়ে গেলেন, তৃণমূলের অপশাসন থেকে পশ্চিমবাংলাকে মুক্ত করার একমাত্র শক্তি লাল ঝান্ডাই।
এদিন সভামঞ্চের একদিকে লেখা ছিল বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের শহীদ ২৩ জন কমরেডের নাম এবং আরেকটিতে লেখা ছিল বান্দোয়ান বিধানসভা কেন্দ্রের ১৩ জন শহীদ এবং একজন নিখোঁজের নাম। শহীদ বেদীতে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা। মাওবাদীদের আক্রমণ থেকে যারা সেই সময়ে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন তাঁরাও অনেকে এদিন উপস্থিত ছিলেন। ২০১০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বান্দোয়ানে খুন করা হয়েছিল সিপিআই(এম) কর্মী নকুল সিংকে। তাঁর স্ত্রী বাপিবালা সিং এবং ভাইপো দীনবন্ধু সিং এদিন জনসভায় উপস্থিত থেকে জানিয়ে দিলেন, খুনিরা সবাই এখন শাসক দলের সমর্থক। আবার বলরামপুরের সুপুরডি গ্রামে ছৌ নাচের আসরে মাওবাদীরা মেরেছিল বৈকুণ্ঠ মাহাতোকে। তাঁর ছেলে গঙ্গাধর মাহাতো জানিয়ে গেলেন, যতদিন বাঁচবো সিপিআই(এম)’র পক্ষেই লড়াই করবো। নির্বাচনী জনসভায় হাজির ছিলেন বলরামপুরের বেরসা গ্রামের শহীদ হারাধন মাঝির ভাইপো চন্দ্রশেখর মাঝি, বান্দোয়ানের পাঁড়রা গ্রামের শহীদ গণেশ সিংয়ের ভাইপো বিনোদ সিং। নকুল সিংকে হত্যার রাতে মাওবাদীরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল সুখদেব মান্ডিকে। মারধরের পরে মরার মতো পড়ে থেকে কোনোরকমে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। তিনিও এদিন হাজির থেকে জানিয়ে দিলেন, যতদিন বাঁচবেন এই লাল ঝান্ডা হাতেই লড়বেন। 
সভায় মহম্মদ সেলিম বলেছেন, মানুষের অধিকার লুট করতেই ওরা লাল ঝান্ডাকে শেষ করতে চেয়েছিল। কিন্তু লাল ঝান্ডাকে কোনোদিন শেষ করা যায়নি, যাবে না। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লাল ঝান্ডাই হাতিয়ার। আমরা মন্দির মসজিদের রাজনীতি করি না। আমরা বলি স্কুল বানাও, রাস্তা করো, হাসপাতাল করো, সেচের ব্যবস্থা করো। বিজেপি তৃণমূল কেবল ধ্বংস করতে জানে, নতুন কিছু করতে পারে না। তৃণমূল নদী থেকে বালি চুরি করলে বিজেপি নদী চুরি করে। তৃণমূল গাছ চুরি করলে বিজেপি জঙ্গল চুরি করে। টিলা, পাহাড়, বালি ,জঙ্গল, জমি সবকিছু লুট করা হচ্ছে। আমরা সরকারে এলে সব চুরি বন্ধ করব। 
সভায় সিপিআই(এম)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায় চৌধুরি বলেন, বামপন্থীদের ওপরে হত্যাকাণ্ড চালানো সেদিনের মাওবাদীরা আজকের তৃণমূল। আকালের রাজ্য থেকে বাংলাকে তিল তিল করে গড়েছিল বামপন্থীরা, গরিবের ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা করেছিল, গরিব মানুষের হাতে জমি তুলে দিয়েছিল। জনগণের পঞ্চায়েত তৈরি করেছিল। দিল্লি সাহায্য না করলেও মানুষের জন্য কাজ করেছিল বামফ্রন্ট সরকার। এখন রাজ্যের যুবরা কাজ না পেয়ে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে যাচ্ছে। রাজ্যেই তাঁদের কাজ দেওয়ার জন্য কারখানা গড়ে তুলতে হবে। জাত ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি খেলে এই অবস্থা কায়েম রাখতে চাইছে তৃণমূল এবং বিজেপি। এদের হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতেই হবে। 
এদিন নির্বাচনী জনসভায় এছাড়াও ভাষণ দেন সিপিআই(এম)’র জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায়, বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী কমিটির আহ্বায়ক মহম্মদ ইব্রাহিম, সুশান্ত বেসরা, সুনীল মাহাতো, প্রার্থী রথু সিং সর্দার, নমিতা মাহাতো প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন বিলাসীবালা সহিস। এদিন সকালে পারা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চেলিয়ামাতে প্রার্থী অলক কুমার বাউরির সমর্থনে একটি পদযাত্রাতেও অংশ নেন মহম্মদ সেলিম, আভাস রায় চৌধুরি, সুনীল মাহাতো এবং প্রার্থী অলক কুমার বাউরি।

Comments :0

Login to leave a comment