রাজ্যের আর্থিক সঙ্কটের মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিশেষ প্যাকেজের দাবি জানালেন সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (রানা)। বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখতে উঠে এদিন রানা বলেন, ‘গোটা দেশ এবং রাজ্য জুড়ে চরম আর্থীক সঙ্কট। তার মধ্যে দাঁড়িয়ে এই বাজেট। আমরা যেই আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে চলছি তার জন্য যেই সাবলম্বি অর্থনীতি দরকার তার কোন ছোঁয়া আমরা এই বাজেটে দেখিনি। তৃণমূলের মতো আবগারি থেকেই সরকার চাইছে আয় করতে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি কেন্দ্রীয় সরকার বিহারের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। প্রস্তাব রাখছি বিধানসভায় রাজ্যের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিশেষ প্যাকেজে দাবি জানিয়ে সর্বসম্মতি ক্রমশে প্রস্তাব পাশ করাতে। যদি আমরা এই কাজ করতে পারি তবে আর্থীক সঙ্কট কাটানো কিছুটা সম্ভব হবে।’ তার কথায় সরকার যদি সত্যি রাজ্যের আর্থিক সঙ্কটের মোকাবিলা করতে চায় তবে এই প্রস্তাব পাশ করানো উচিত।
উল্লেখ্য বিজেপি তাদের সঙ্কল্প পত্র দাবি করেছিল তারা রাজ্যের প্রতিটা পরিবারকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছাড় দেবে প্রতি মাসে। জয়ী হওয়ার পর সেই নিয়ে কোন কথা সরকার বলছে না। উল্টে বাজেটে বিদ্যুৎ-এর মাশুল থেকে আয়ের রাস্তা দেখানো হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে রানা বলেন, ‘১২৮৫ কোটি টাকা বাড়তি আয় বিদ্যুৎ মাশুল থেকে বলা হয়েছে। তাহলে কি মানুষের ওপর বাড়বে আর্থিক বোঝা? এই বিষয়টা পরিষ্কার হওয়া দরকার।’
বিজেপি সরকারের বাজেটে মাদ্রাসা, সংখ্যালঘু উন্নয়নের ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে বরাদ্দ। এদিন রানা বলেন, ‘এসসি এসটি উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ কমানো হয়েছে। পাঁচ হাজার কোটি থেকে তিন হাজার কোটি করা হয়েছে। কেন এতো কামনো হলো? আবাসন খাতে কমানো হয়েছে আট হাজার কোটি টাকা। বন্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও কমানো হয়েছে বরাদ্দ। আর্থীক বোঝা রয়েছে এটা অস্বীকার কোন জায়গা নেই। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র গুলোয় কেন কমানো হলো তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন মালদজ, মূর্শিদাবাদ জেলায় নদী ভাঙন একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সেখানে দাঁড়িয়ে বরাদ্দ কমিয়ে দিলো সরকার।
তিনি বলেন, ‘স্বাগত জানাচ্ছি আইসিএস, মিড ডে মিল কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তকে। প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়নো হয়েছে কিন্তু বিজেপি সঙ্কল্প পত্র যেই ভাতা দেবে বলেছিল তা হয়নি। আবেদন থাকবে সঙ্কল্প পত্র অনুযায়ী ভাতা দেওয়ার।’
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সঙ্কল্প পত্র লাখোপতি দিদি, মাইক্রোপিনান্সের ঋণ মুকুবের কথা বলেছিল বাজেটে সেই কথা নেই। সিঙ্গুরে শিল্প পার্ক করার কথা বলছিল সেই কথা নেই বাজেটে।
তারাতলার ঘটনা এবং বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী যেই কথা বলেছেন তা যেন কার্যকর করা হয়। এই ঘটনার সাথে যারা যুক্ত তাদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘প্রাক্তন মেয়র ববি হাকিম বলছেন তিনি এই বিষয় কিছু জানতেন না। অথচ তার সই রয়েছে। উনি কোন কিছু না তলিয়ে দেখেই সব করেন। যেমন নারদে টাকা নিয়েছিলেন। কলকাতা পৌরসভার মেয়র না দেখে সই করবে এটা হয় না। কোন গ্রামীন পৌরসভার চেয়ারম্যান এই কথা বললে বোঝা যেতো। ১৫ বছর ধরে উনি ব্যস্ত ছিলেন কাটমানি খেতে।’
Mustafijur Rahman Assembly
রাজ্যের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দাবি মোস্তাফিজুরের
×
Comments :0