CPIM Polit Bureau

এসআইআর রায়কে গণতন্ত্রের ওপর গুরুতর আঘাত বলল সিপিআই(এম)

জাতীয়

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সাম্প্রতিক রায়কে ‘ন্যায়বিচারের নামে প্রহসন’ আখ্যা দিল সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো। 
বৃহস্পতিবার বিবৃতিতে পলিট ব্যুরো বলেছে, এই রায়ের মাধ্যমে শীর্ষ আদালত এমন একটি প্রক্রিয়াকে সাংবিধানিক বৈধতা দিল, যার ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সংখ্যক প্রান্তিক অংশের নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক গ্যারান্টির রক্ষাকর্তা হিসেবে আদালতের যে ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিল, এই রায়ের ফলে তা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মামলাকারীদের মূল প্রশ্ন ছিল গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের সবচেয়ে মৌলিক হাতিয়ার যে ভোটাধিকার, তাকে কি আমলাতন্ত্রের সন্দেহ এবং গণহারে নথি স্ক্রুটিনির মাধ্যমে বিবেচনাধীন করা যায়? পলিট ব্যুরো বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের নীতিকে খাটো করেছে। কারণ এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার (SIR) কারণে পরিযায়ী শ্রমিক, সংখ্যালঘু, দলিত, আদিবাসী এবং ভূমিহীন নাগরিকদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ তাদের কাছে কমিশনের পক্ষ থেকে চাওয়া নির্দিষ্ট নথিপত্র ছিল না। পুরো প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতার চরম অভাব ছিল।
পলিট ব্যুরো বলেছে, আদালত বিভিন্ন রাজ্যের বাস্তব চিত্র উপেক্ষা করেছে। বহু ক্ষেত্রে উপযুক্ত নোটিশ ছাড়াই বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ‘ভেরিফিকেশন‘ বা নথি বিবেচনার প্রক্রিয়াটি ছিল যথেষ্ট ঝঞ্ঝাটের। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে একটি অ্যালগরিদম-ভিত্তিক অপরীক্ষিত সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র এক বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়। এর ফলে প্রায় এক কোটিরও বেশি ভোটারকে ‘সন্দেহজনক’ তালিকায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনা হলো, সুপ্রিম কোর্ট আইনি প্রতিকারের আশ্বাস দেওয়ার পরও প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন।
পলিট ব্যুরো বলেছে, সুপ্রিম কোর্ট এমন একটি ব্যবস্থাকে সমর্থন করলো যেখানে নাগরিকদের ভোটাধিকার কেবল কিছু ‘গ্রহণযোগ্য নথির’ ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অথচ, এই মানুষদের কাছে আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ডের মতো পরিচয়পত্র ছিল এবং তাঁরা সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তাও থেকেছেন। আদালতের এই অবস্থান সংবিধানে প্রতিশ্রুত সমতার মৌলিক ভিত্তির ওপর আঘাত হেনেছে।
বিবৃতিতে আদালতের একটি অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আদালত নিজেই জানিয়েছে যে, নাগরিকত্ব নির্ধারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক্তিয়ারভুক্ত এবং এটি নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার বাইরে। তা সত্ত্বেও, বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও আচরণকে ঢালাও সমর্থন জানিয়ে আদালত নিজের এই অবস্থানকেই লঘু করেছে। শুধু তাই নয়, এই প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের তালিকা নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই পদক্ষেপের ফলে বাদ পড়া সমস্ত মানুষকে নতুন করে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করা হবে, যা আসলে দেশজুড়ে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়া জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি চালুর একটি পরোক্ষ ও সুচতুর প্রচেষ্টা।
পলিট ব্যুরো বলেছে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার ওপর যখন মানুষের আস্থা কমছে, তখন শীর্ষ আদালত বিষয়টি আরও সংবেদনশীলভাবে দেখবে বলে আশা করা হয়েছিল, যা এই রায়ে প্রতিফলিত হয়নি। 
পলিট ব্যুরো বলেছে, সম্প্রতি সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে ভোটাধিকার রক্ষা এবং ব্যাপক নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী প্রচার ও আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আন্দোলনে সমমনোভাবাপন্ন দল ও শক্তিগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করা হবে। 

Comments :0

Login to leave a comment