Suvendu Adhikari

শান্তি ফেরানোর কথা বললেও বারুইপুরে ফের সাম্প্রদায়িক উষ্কানি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্য

বারুইপুর দলবদ্ধ ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ধৃত তিনজনের কাস্টোডিয়াল ট্রায়াল চলবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বারুইপুরে নিহত নাবালিকা এবং দলবদ্ধ মারে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে যান মুখম্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি জানান পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়ে, বাকি তিনজন অভিযুক্তের মুখ্যমন্ত্রীর নজরদারিতে কাস্টোডিয়াল ট্রায়াল চলবে।
শনিবার সূর্যপুরে পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধনের আগে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়ি যান শুভেন্দু। নিহতের পরিবারের সাথে তিনি দেখা করেন। কথা বলেন। ইন্দ্রজিৎ-এর দাদাকে রাজ্য পুলিশে সিভিক ভলেন্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার একটি চেকও তিনি তুলে দেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন এলাকায় শান্তি ফেরানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য মঙ্গলবারের মতো এদিনও মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছে উষ্কানিমূলক কথা। তিনি বলেন, ইন্দ্রজিৎ-এর পরিচয় দেখেই তাকে মারা হয়েছে।
মঙ্গলবার বারুইপুরে এসপি অফিসে পুলিশ আধিকারিক এবং নির্যাতীতার পরিবারের সাথে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যেই পরিবার গুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের সাথে কথা বলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। রাজ্যে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে তার জন্য সরকার সব সময় তৎপর।’ এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মুখে শোনা যায় সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমূলক ভাষণ। তিনি বলেন, ‘যারা পুলিশের ওপর হামলা করেছে এবং এই ঘটনা ঘটনোর জন্য উষ্কানি দিয়েছে তারা ছাড়া হবে না। ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুড় করেছে, রেল লাইন উপড়ে দিয়েছে তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। কেউ কেউ ০ থেকে ১ হয়েছে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উষ্কানি দিচ্ছে।’
উল্লেখ্য রবিবার যখন এই ঘটনা সামনে আসে গ্রামে মানুষ যখন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তখন গ্রামবাসীদের এই আন্দোলনে পাশে ছিল স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। পরিবারের সাথে দেখা করেছে সুজন চক্রবর্তী, শমীক লাহিড়ী, রতন বাগচীরা। সোমবার দোষীদের শাস্তির দাবিতে বারুইপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে এসএফআই, ডিএয়াইএফআই এবং মহিলা সমিতি। আর এদিন বারুইপুরে পরিবারের সাথে কথা বলতে গিয়ে বামপন্থীদের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন নির্যাতীতার পরিবার পুলিশি তদন্ত এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্তষ্ট। উল্লেখ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রথম থেকেই অভিযোগ করে এসেছেন গ্রামবাসীরা। তাদের কথায় পুলিশ তৎপর থাকলে এই ধরনের ঘটনা ঘটতো না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন পুলিশের ভূমিকায় কোন গাফিলতি থাকলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Comments :0

Login to leave a comment