চা শিল্পের সংকট, শ্রমিকদের অনিশ্চিত কর্মজীবন এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসানের দাবিতে শুক্রবার চোপড়ার ঘরুগছে প্রথমে মিছিল করে সভার মাধ্যমে ১৬ দফা দাবিপত্র প্রকাশ করল ওয়েস্ট দিনাজপুর চা বাগিচা শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনের দাবি, চা শিল্পকে বাঁচাতে হলে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও আইনসিদ্ধ সুযোগ-সুবিধা অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।
দাবিপত্রে বলা হয়েছে, সমস্ত শ্রমিকের প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করে স্থায়ীকরণ করতে হবে এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা স্টাফ ও সাব-স্টাফ পদে নিয়োগের পাশাপাশি চা বাগান ও কারখানায় মহিলা স্টাফ ও মহিলা সাব-স্টাফ নিয়োগের দাবিও জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব মালিকপক্ষকে নিতে হবে, রান্নার জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হবে এবং পর্যাপ্ত রেশন প্রদান ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। সমস্ত শ্রমিক-কর্মচারীকে গ্র্যাচুইটির আওতায় আনার দাবিও তোলা হয়েছে।
সংগঠন আরও দাবি করেছে, বটলিফ কারখানার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে, ঠিকাদারের মাধ্যমে ঠিকা প্রথা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং আট ঘণ্টার বেশি কাজ বা ওভারটাইম করালে আইন অনুযায়ী দ্বিগুণ হারে মজুরি দিতে হবে। নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের সমহারে মজুরি নিশ্চিত করা, নিয়ম অনুযায়ী চা পাতা, ছাতা, চপ্পল ও এপ্রোন সরবরাহের দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে।
দাবিপত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল উত্তরবঙ্গের সমস্ত বন্ধ চা বাগান অবিলম্বে খুলে দেওয়া। সংগঠনের বক্তব্য, বন্ধ বাগানের জমি দখলের অপচেষ্টা রুখে জমি মাফিয়াদের হাত থেকে বাগান পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং শ্রমিকদের পুনরায় কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। চা শিল্প রক্ষায় সরকার ও মালিকপক্ষকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভাপতি স্বপন গুহ, নেতা নিয়োগী বাবন পাল-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সাধারণ সম্পাদক কার্তিক শীল বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন উপেক্ষিত। আমরা এই দাবি পত্র যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাগান মালিক ও ফ্যাক্টরি মালিকদের কাছে তুলে দেব এবং তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে অবিলম্বে দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবে সিআইটিইউ।
Tea workers
১৬ দফা দাবিতে চোপড়ায় চা শ্রমিকদের মিছিল, জনসভা
×
Comments :0