সামনের লোকসভা ভোটের সময়েই ‘এক দেশ এক ভোট’ প্রয়োগের দিকে যেতে চাইছে বিজেপি। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট যৌথ সংসদীয় কমিটির সভাপতি পিপি চৌধুরীই এই পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছেন।
গোয়ায় সংসদীয় কমিটির বৈঠকের মাঝে সংবাদমাধ্যমে চৌধুরী বলেছেন, ‘‘বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। চেষ্টা হচ্ছে সম্মতি তৈরির। ২০২৯’র লোকসভা ভোটের সময়েই এই নীতি প্রয়োগ করা সম্ভব।’’
সংসদে সংবিধানের ১২৯ তম সংশোধনী বিল, ২০২৪ পেশ করেছে কেন্দ্র। প্রস্তাব অনুযায়ী লোকসভা এবং বিধানসভার ভোট এক সঙ্গে করা হবে। তার জন্য রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ কমাতে বা বাড়াতে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদ ও বিধানসভা ভোটের ১০০ দিনের মধ্যে পৌরসভা ও পঞ্চায়েতের নির্বাচন হবে।
কেন্দ্রের এই প্রস্তাব বিরোধীদের কড়া প্রতিবাদের মুখে পড়েছে। কমিটির কাছে বিশদে বিলের বিভিন্ন ধারার উল্লেখ করে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী একাধিক দল।
সংসদের পাশাপাশি এই নীতি কার্যকর করতে অর্ধেক বিধানসভার সম্মতিও দরকার হবে।
‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি চালুর জন্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে কমিটি গড়ে কেন্দ্র। কোবিন্দ কমিটির অন্যতম যুক্তি এই পদ্ধতিতে ভোট হলে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব।
সিপিআই(এম)’র মতো বিরোধী বিভিন্ন দল বলেছে যে এই নীতিতে সংবিধানের দু’টি মূল বৈশিষ্টকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। গণতন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো। সুপ্রিম কোর্ট কেশবানন্দ ভারতী মামলায় বলেছিল যে সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট বদলানো যায় না। এই বিলে সেই চেষ্টাই হচ্ছে।
বিরোধীরা বলছেন লোকসভা ভোটে নির্বাচন কমিশনকে ৪৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর বেশি কিছু খরচ হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। কিন্তু ভারতে এই আর্থিক অঙ্ক বড় নয়। ১৯৬৭ থেকে দেশে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। তার জন্য উন্নয়ন থমকে গিয়েছে এমন প্রমাণ নেই।
One Nation One Election
২০২৯-এ ‘এক দেশ এক ভোট’, ইঙ্গিত যৌথ সংসদীয় কমিটির প্রধানের
×
Comments :0