‘বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা, অনুপ্রবেশকারী‘ ধরার জিগির তুলে করা হয়েছিল এসআইআর। লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। কিন্তু বিজেপি সরকার অনুপ্রবেশ রোধে কাজ করেছে সামান্যই।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেছেন মহম্মদ সেলিম। আসামে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দেওয়া তথ্যেরই উল্লেখ করেছেন তিনি। রাজ্যে এসআইআর ট্রাইবুনালের কাজ নিয়ে গভীর খেদও জানান তিনি।
সেলিম বলেন, "বাংলাদেশী, অনুপ্রবেশকারী বলে করা হয়েছিল এসআইআর। অথচ, এই প্রক্রিয়ায় সবথেকে বেশি বিপদে পড়েছে সাধারণ মানুষ।" মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ট্রাইবুনালের শ্লথ গতি প্রসঙ্গে মন্তব্যে এমনটাই বলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর-এ বাদ নামের আবেদন বিবেচনার জন্য কলকাতা হাইকোর্ট গড়েছিল ১৯টি এসআইআর ট্রাইবুনাল। হিসেব বলছে, গত ১০০ দিনে মোটের ১ শতাংশেরও কম আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। দিনে এখন মাত্র ৩০-৩৫টি’র মতো আবেদনের নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। নেই পরিকাঠামো। নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপেরও দাবি তুলেছেন আইনজীবীদের একাংশ।
সেলিম মনে করিয়ে দিয়েছে বিধানসভা ভোটের পরও বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বারবার রাস্তায় নামছে সিপিআই(এম)। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে রোজই ব্যাপক তরজা চললেও নির্বাচন পরবর্তী সময় কার্যত নিশ্চুপ থেকেছে দুই দলই।
ট্রাইবুনালে শ্লথ গতি প্রসঙ্গে সেলিম আরও বলেন, ‘‘বিচারপতিরা পদত্যাগ করছেন। কেউ কিছু বলতে পারছেন না।’’ তিনি বলেন, ‘‘এর মধ্যেই ‘দ্যা টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদকের পাসপোর্ট রিনিউ হয়নি এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়ায়। তারপর বিচার হচ্ছে না। কেবল এই একটি ঘটনাই নয়। এসআইআর’র ভিত্তিতে সরকারি প্রকল্পে উপভোক্তা বাদ যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। অথচ বলা হয়েছিল যে পাসপোর্ট বা প্রকল্পে উপভোক্তা ঠিক করার সঙ্গে এসআইআর এবং ভোটার তালিকার সম্পর্ক থাকবে না।’’
এই প্রসঙ্গেই তাঁর ক্ষোভ, অনুপ্রবেশ রুখতে কাজ হয়েছে সামান্য। অথচ হইচই বাঁধিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিপদে ফেলা হয়েছে। আসামের তথ্য উল্লেখ করেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘‘আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছেন চল্লিশ বছরে মাত্র ৩১ হাজারের কিছু বেশি অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গড়ে প্রতি বছরে সংখ্যা ১ হাজারও নয়। ২০১১ থেকে ২০২৬’র জুন পর্যন্ত মাত্র ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৭৩ জনকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অথচ তা নিয়ে অসংখ্য মানুষকে বিপদে ফেলা হচ্ছে।’’
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালের ‘আসাম সমঝোতা’ অনুযায়ী এরাজ্যে নাগরিকত্ব বিবেচনার দিন নির্দিষ্ট হয়। ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত স্থির হয় সময়সীমা। তার পরে বসবাসের ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় আসামে, বলা হয়েছে সে রাজ্যের বিধানসভায়।
সেলিম রাজ্যে হকার উচ্ছেদের প্রসঙ্গও তোলেন। একের পর এক স্টেশনে উচ্ছেদ চলছে। প্রতিরোধে রয়েছেন বামপন্থীরা। আদালত এবং রাস্তায় চলছে লড়াই। গত ৪ জুলাই হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে দু’টি মিছিল হয় সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির ডাকে।
সেলিম বলেন, ‘‘মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। কলকাতায় হকার মিছিলে হাজার হাজার মানুষ শামিল হয়েছিলেন, এটাই তার প্রমাণ।’’
Selim on SIR
এসআইআর ট্রাইবুনালের শ্লথতায় খেদ সেলিমের
ছবি - সংগ্রহ থেকে।
×
Comments :0