Hindutwavadi and Law

হিন্দুত্ববাদীরা আইনের ঊর্ধ্বে

সম্পাদকীয় বিভাগ

আদালত কোনও খুনিকে বা খুনিদেরকে অপরাধের চরিত্র বিচার করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এমনকি ফাঁসির আদেশও দিতে পারেন। সেই রায় অপরাধী পক্ষের পছন্দ না হলে উচ্চ আদালতে আবেদন করার সুযোগ আছে। উচ্চ আদালত সেই রায় বহাল রাখতে পারেন, আবার বদলাতেও পারেন। দেশের বিচার ব্যবস্থার এটাই নিয়ম। সাম্প্রতিককালে, বিশেষ করে কেন্দ্রে আরএসএস-বিজেপি ক্ষমতা দখলের পর থেকে ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করার বা অস্বীকার করার প্রবণতা জোরদার হচ্ছে। আর এই প্রবণতার পেছনে আছে সঙ্ঘ পরিবারের ছাতার নিচে থাকা উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। ধর্মের আড়ালে আসলে এরা আরএসএস’র রাজনৈতিক হিন্দুত্বের ঠিকাদার। খুন, ধর্ষণ, হামলা, অত্যাচার, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়ানো, দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা ইত্যাদি গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অপাধীদের আদালত সাজা দিলে গেরুয়া বাহিনী অসহিষ্ণু ও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদীরা যথেচ্ছ অপরাধ করার, আইন লঙ্ঘন করার অধিকার আছে বলে এরা মনে করে। কিন্তু আদালত হিন্দুত্ববাদী দাগী অপরাধীদের সাজা দিতে পারবে না। অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা আইন আদালতের ঊর্ধ্বে। বিশেষ করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে কোনও ধরনের অপরাধ করার অধিকার তাদের আছে। তাই হিন্দুত্ববাদী অপরাধীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করলে বা আদালতে সাজা হলে তারা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় আর কোনোভাবে যদি তদন্তকারী অফিসার মুসলিম হয় বা বিচারক মুসলিম হয় তাহলে তো কথাই নেই। সমাজমাধ্যমে শোরগোল উঠে যাবে সেই তদন্তকারী অফিসার বা বিচারকের বিরুদ্ধে। বিচারকের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে রেখে কুৎসিত প্রচার চলবে। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও উসকানি চলবে। বিচারককে ভয় দেখানো থেকে খুনের হুমকি পর্যন্ত কোনও কিছুই বাকি থাকবে না।
সম্প্রতি এমনই এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের কদর্য চেহারা লক্ষ্য করছে গোটা দেশ। মধ্য প্রদে‍‌শের এক জেলা ও দায়রা বিচারক তাবাসসুম খানকে পিটিয়ে খুনের অপরাধে ১৪ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দিয়েছিলেন। তাতেই ক্ষিপ্ত গেরুয়াবাহিনী সেই বিচারককে খুনের হুমকি সহ সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক আক্রমণ করতে থাকে। গো-পাচারকারী অজুহাতে এক পরিবহণ কর্মীকে আটক করে এরা পিটিয়ে মারে। এরা সমাজকে এই বার্তা দিতে চায় মুসলিমদের পিটিয়ে মারার অধিকার তাদের আছে। কিন্তু বিচারকের সাজা দেবার অধিকার নেই। একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে দেখা গেছে সঙ্ঘ পরিবারের সঙ্গে থাকা হিন্দুত্ববাদীরা ধর্ষণ, খুন করে জেল খাটার পর যখন ছাড়া পেয়েছে তখন তাদের মালা পরিয়ে বীরের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। জম্মুতে স্বয়ং বিজেপি বিধায়কের নেতৃত্বে ধর্ষক-খুনি পুরোহিতের মুক্তির দাবিতে মিছিল হয়েছে। ধর্ষক-খুনি ধর্মগুরুদের জেল থেকে বার বার ছাড়ার ব্যবস্থা করেছে বি‍‌জেপি সরকার। অযোধ্যার রাম মন্দিরে কোটি কোটি টাকা চুরির ঘটনায় এক বিজেপি নেতা তো বলেই দিয়েছেন হিন্দু মন্দিরে হিন্দু ভক্তদের দানের টাকা হিন্দুরা চুরি করেছে তাতে অন্যায় কিছু নেই। অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদীরা এই ধারণাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে গেরুয়ারা আইন আদালতের উর্ধ্বে। তারা ধর্ষণ করতে পারে, খুন করতে পারে, চুরি করতে পারে, দাঙ্গা করতে পারে। তাদের স্বপ্নের রাষ্ট্রে এই অধিকার তাদের থাকবে।

Comments :0

Login to leave a comment