Dalmandi Demolition Polit Bureau

বারাণসীতে উচ্ছেদ, এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে উদ্বেগ পলিট ব্যুরোর

জাতীয়

বারাণসীর ডালমান্ডিতে বুলডোজারের ছবি।

উচ্ছেদকে সমর্থন করে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের প্রতিবাদ জানালো সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো। শনিবার বিবৃতিতে পলিট ব্যুরো বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের উচিত বারাণসীর ডালমান্ডিতে উচ্ছেদ সংক্রান্ত এই রায়কে বাতিল করা। 
গত ২ জুলাই এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দিয়েছে যে বারাণসীর ডালমণ্ডিতে মসজিদ ভাঙার সিদ্ধান্ত ১৯৯১’র উপাসনা স্থল আইনের লঙ্ঘন নয়। বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ ধাম করিডোর উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ডালমাণ্ডিতে চলেছে বুলডোজার। কেবল ছয়টি মসজিদই নয়, ভাঙা হয়েছে বহু দোকান-বসতি। 
সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন জমা পড়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে।
পলিট ব্যুরো বলেছে, ১৯৯১’র উপাসনা স্থল আইনের যে ব্যাখ্যা দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট, তা গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে যে ‘জনস্বার্থে‘ মসজিদ অধিগ্রহণ করার ক্ষেত্রে এই আইন বাধা নয়। পলিট ব্যুরো বলেছে, এই ব্যাখ্যা দিয়ে আদালত ধর্মনিরপেক্ষতাকে রক্ষার এই আইনকে অর্থহীন করে তুলেছে। কোনও রাস্তার জন্য মসজিদ ভাঙা হলে সেখানে ধর্মীয় উপাসনার সুযোগ আর থাকে না। এক্ষেত্রে উপাসনাস্থলের ধর্মীয় চরিত্রের বদল ঘটানো হয়। ১৯৯১’র আইন সেই চরিত্র বদলকেই আটকাতে চেয়েছিল। 
পলিট ব্যুরো বলেছে, স্থানীয় দোকানদার বা ভাড়াটেদের অধিকার যেভাবে আদালত এক কথায় খারিজ করে দিয়েছে তা স্তম্ভিত করে দেওয়ার মতো। আদালতের মতে, অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে এমন কোনও ‘অধিকার কার্যত থাকে না।’ এই মামলায় আবেদনকারী, যাঁদের ৯৭ শতাংশ মুসলিম, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ডালমান্ডিতে ব্যবসা করছে। এদের ভাড়া নেওয়ার কাগজপত্র রয়েছে। বিদ্যুতের বিলও রয়েছে। সামাজিক প্রভাব রিপোর্ট দেখিয়েছে ৫০ শতাংশ পরিবারের বসতিও এই এলাকায়। ৪৫ শতাংশের জীবিকারও ভরসা এই এলাকা। তবু আদালতের রায়ে সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় উল্লিখিত জীবিকার অধিকার উপেক্ষা করা হয়েছে। 
পলিট ব্যুরো বলেছে, এর আগে ভোজশালা রায়েও এমন প্রবণতা দেখা গিয়েছে। মসজিদ সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রায়েই সংখ্যালঘুদের অধিকারকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে রূপান্তরে বিজেপি-আরএসএস’র লক্ষ্যকেই সহায়তা করা হচ্ছে। 
পলিট ব্যুরো বলেছে, বারাণসীতে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের একশো মিটারের মধ্যে রয়েছে সোনার গলি। এখানে উন্নয়নর কাজ করলে অনেক কম উচ্ছেদ করতে হতো। তার বদলে আটশো মিটার দূরে ডালমাণ্ডি বেছে নেওয়া হয়েছে যেখানে মুসলিমরা বেশি সংখ্যায় রয়েছেন। 
পলিট ব্যুরো বলেছে, ২০১৩ সালে পাশ ‘জমি অধিগ্রহণে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং স্বচ্ছতার অধিকার ও পুনর্বাসন’ আইন ভঙ্গের বিষয়টিতেও আদালত কিছু জানায়নি। এই আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পুনর্বাসন এবং বিকল্প জীবিকার অধিকার রয়েছে আক্রান্তদের।

Comments :0

Login to leave a comment