বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে রেল স্টেশন থেকে হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে। যাদবপুর, দমদম, হাবড়া একাধিক স্টেশনে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে হকারদের দোকান। শুধু হকার উচ্ছেদ করেই থামছে না সরকার। রেল স্টেশন সংলগ্ন যেই রেল বস্তি গুলো রয়েছে সেই গুলোও ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। মানুষের জীবীকা যেমন কেড়ে নিচ্ছে সরকার, তেমন মানুষের মাথার ছাদও তারা কেড়ে নিচ্ছে। বস্তি গুলোয় নোটিশ দেওয়া হচ্ছে উঠে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা কোথায় যাবে তার কোন ব্যবস্থা সরকার তৈরি করে দিচ্ছে না।
শনিবার যেই দুটি মিছিল কলকাতা শহরের বুকে হয়েছে তাতে শুধু হকাররা সামিল হয়েছেন তা নয়, পা মিলিয়েছেন স্লোগানে গলা মিলিয়েছেন রেল বস্তির মানুষেরাও। ট্রেনে ঢাকুরিয়া থেকে যাদপুর যাওয়ার পথে আবার যাদবপুর থেকে ঢাকুরিয়া আসার পথে যেই রেল বস্তি রয়েছে তাতে প্রায় ৩৫০ পরিবারের বসবাস। সেই বস্তি উঠে যাওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছে রেল। যারা ওই বস্তিতে থাকেন তারা কেউ গৃহসহায়িকার কাজ করেন তো কেউ রিক্সা চালিয়ে সংসার চালায়। সেই মানুষ গুলো উঠে গিয়ে কোথায় যাবে তার কোন উত্তর নেই সরকারের কাছে।
ওই রেল বস্তির বাসিন্দা রুমা রায়, গৃহসহায়িকার কাজ করেন। এদিনের মিছিলেন অংশ নিয়েছিলেন তিনি। রুমা রায় বলেন, ‘২১ জুন আমাদের নোটিশ দিয়ে বলা হয় ঘর ছাড়তে হবে ৩০ জুনের মধ্যে। মাত্র এই কয়েক দিনের মধ্যে কী ভাবে আমরা বাড়ি পাবো। ছেলে মেয়েদের নিয়ে কোথায় যাবো?’ তিনি ক্ষোভের সাথেই বলেন, ‘আমাদের কথা একটাই আমাদের থাকার জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিক সরকার আগে। তারপর উচ্ছেদ করুক।’
শিয়ালদহ স্টেশনে দশ বছর ধরে কুলপি বিক্রি করেন গিয়াসউদ্দিন লস্কর। বহু নিত্য যাত্রী চেনেন গিয়াসউদ্দিনকে। সেই কুলপি বিক্রেতাকে উঠে যেতে বলেছে রেল। গিয়াউদ্দিনের কথায়, ‘দশ বছর ধরে শিয়ালদহ স্টেশনে কুলপি বিক্রি করে আসছি। উঠে যেতে বলেছে রেল। বলেছে যদি বসি তাহলে ফাইন করবে। এই কুলপি বিক্রি করে সংসার চলে। এখন দোকান তুলে দিলে কীভাবে চলবে তা জানা নেই।’
Sromojibi Rally
পুনর্বাসনের দাবিতে মিছিলে রুমা, গিয়াসউদ্দিনরা
প্রতিবাদ সভায় কুলপি বিক্রেতা গিয়াসউদ্দিন লস্কর
×
Comments :0