প্রবন্ধ | বিজ্ঞানী সম্রাট নিউটন হবার পিছনে যাদের অবদান
তপন কুমার বৈরাগ্য
মুক্তধারা | বর্ষ ৪ | ২ জুলাই ২০২৬
স্যার আইজাক নিউটনের বিজ্ঞানী সম্রাট নিউটন হবার পিছনে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি তারা হলেন তার ঠাকুমা এবং তার মায়ের বান্ধবী মিসেস ক্লার্ক।অসাধারণ মহীয়সী রমণী ছিলেন মিসেস ক্লার্ক।নিউটনের দুবছর বয়েসে বাবার মৃত্যু হলে মা তাকে ছেড়ে পুনরায় বিয়ে করেন।একেই জন্মের পর থেকেই তিনি রুগ্ন ছিলেন তাতে আবার মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত।ডাক্তার বলেছিলেন এই সন্তানের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী।কিন্তু ডাক্তারবাবুর সব ভবিষ্যৎবাণী
ব্যর্থ করেছিলেন উলসথরপের ঠাকুমা।যে সন্তান মাতৃস্নেহ থেকে
বঞ্চিত তাকে মাতৃত্বের স্বাদ এনেদিয়েছিলেন বৃদ্ধা ঠাকুমা।রুগ্ন
আইজ্যাককে তিনিই সবল করে তুলেছিলেন।যার জন্য পরিণত
বয়েসে একের এক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বিশ্ববিজ্ঞানের ইতিহাসে
তার আসনকে সমুজ্জ্বল করেছে। বারো বছর বয়েসে ঠাকুমা
তাকে গ্রানথাম শহরে পাঠিয়েদিলেন।সেখানে ছিল তার মায়ের
বান্ধবী।কী অমায়িক ছিলেন এই ভদ্র মহিলা।নিজের মাতৃস্নেহ
সব উজাড় করে দিলেন কিশোর নিউটনকে।মিস্টার ক্লার্কের
ছিল একটা রসায়নাগার এবং লাইব্রেরি।এই লাইব্রেরিতে তিনি
বিজ্ঞানের নানা স্বাদের বই একের পর এক পড়ে যেতে লাগলেন।
ছোট্ট গবেষণাগারে চলল একের পর এক গবেষণা।এই গবেষণাগারে তিনি কৈশোর বয়েসে বানালেন জলঘড়ি,সূর্যঘড়ির
নানা মডেল,বাতাসি কলযন্ত্রের গাড়ি।যখনি তিনি কোনো নতুন কিছু তৈরি করতেন মিসেস ক্লার্ককে এসে দেখাতেন। মিসেস ক্লার্ক তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠতেন।মিসেস ক্লার্ককে তিনি মা বলে ডাকতেন।আর মিসেস ক্লার্কও তাকে উজাড় করে ভালোবাসা দিয়েছিলেন।তাইতো তিনি বিজ্ঞান সম্রাট স্যার আইজ্যাক নিউটন হয়েছিলেন।তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।তাইতো আপেল উপরে চলে যায় না।এই আকর্ষণের জন্যই নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরছে গ্রহরা,গ্রহদের চারদিকে ঘুরছে উপগ্রহরা।কেউ কখনো ছিটকে বেড়িয়ে যায় না ।১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি মাত্র ২৭বছর বয়েসে ক্যালকুলাস তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।
১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে প্রিন্সিপিয়া ম্যথামেটিকা নামক একটা বিজ্ঞানের
গ্রন্থ লেখেন।এই গ্রন্থের মাধ্যমেই সারা পৃথিবীতে তার নাম ছড়িয়ে
পড়ে।আবিষ্কার করেছিলেন আলোর প্রতিফলনের সূত্র।আবিষ্কার
করেছিলেন তিনটে গতিসূত্র।যেগুলোকে নিউটনের গতিসূত্র বলা হয়।বর্তমানে বিজ্ঞানের যুগে নিউটনকে ছাড়া ভাবাই যায় না।
আর এসব হয়েছিল তার ঠাকুমা এবং তার মায়ের বান্ধবী মিসেস ক্লার্কের জন্য। সর্বকালের সর্বযুগের সেরা বিজ্ঞানী১৬৪৩খ্রিস্টাব্দের
৪ঠা জানুয়ারী জন্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং মৃত্যু হয় ৩১মার্চ ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দে। যে শিশুটার শৈশবেই মারা যাবার কথা ছিল,সে শিশুটা ৮৪বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।
Comments :0