Israel Torture

‘ইজরায়েলের জেল যেন নরক’, হাসপাতালের বেডে বলছেন প্যালেস্তিনীয় সাংবাদিক

আন্তর্জাতিক

হাসপাতালে মুজাহিদ বেনি মুফলেহ।

‘‘প্রতিটি মুহূর্ত যেন নরক। প্রতিটি মুহূর্তে অত্যাচারের আশঙ্কা। কোনও ডাক্তার নেই। এমনকি খাবারও নেই।’’
প্রায় এক বছর বন্দি থেকেছেন ইজরায়েলের জেলে। অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন হাসপাতালে। আপাতত কথা বলার মতো অবস্থায় রয়েছেন। প্যালেস্তিনীয় সেই সাংবাদিক মুজাহিদ বেনি মুফলেহ সেই অবস্থাতেই জানিয়েছেন ইজরায়েলের জেলে বন্দি থাকার অভিজ্ঞতা। 
অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের একটি হাসপাতালে রয়েছেন মুফলেহ। গত বছরের ২৮ জুন বিনা নোটিশে তাঁর ঘরে ঢুকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল ইজরায়েলের সেনা। 
মুফলেহ বলেছেন, ‘‘যাকে পারছিল ধরে বন্দি করছিল ইজরায়েলের সেনা। আমিও তাদের একজন। ঘরে স্ত্রী এবং তিন সন্তানের সঙ্গে ঘুমিয়ে চিলাম। দরজা ভেঙে সেনা ঢুকেছিল ঘরে। টেনে হিঁচড়ে তুলেছিল মিলিটারি জিপে।’’ 
এই সাংবাদিক বলেছেন, ‘‘আমার অপরাধ কী জানি না। জানানোর চেষ্টাও করেনি সেনা। আমার কোনও দোষই ছিল না।’’
মুফলেহ যে সংবাদ ওয়েবসাইটে কাজ করতেন সেটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় হামাস বিরোধী প্যালেস্তিনীয় অথরিটি। মহমুদ আব্বাসের সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক স্তরে সংবাদমাধ্যমের বহু প্রতিনিধি সমালোচনাও করেছেন। 
ইজরায়েল এভাবেই সেনার ডিটেনশন ক্যাম্পে শয়ে শয়ে প্যালেস্তিনীয়কে বন্দি করছে। কোনও নির্ভরযোগ্য বিচার ব্যবস্থার সামনে হাজির না করিয়েই দিনের পর দিন চলছে অত্যাচার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে, ইউরোপ বা আমেরিকার সংবাদমাধ্যমে যে বিবরণ প্রকাশ করা হয় না। 
মুফলেহ জানিয়েছেন যে তাঁর সঙ্গে বন্দি দু’জনকে চোখের সামনে প্রাণ হারাতে দেখেছেন। বন্দি অবস্থায় তাঁদের একজনকে বিষাক্ত স্প্রে দেওয়া হয়। দমবন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। আঠেরো বছরের আরেক তরুণ বন্দিকে কামড়ে দিয়েছিল পুলিশের কুকুর। তাঁকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়।

Comments :0

Login to leave a comment