'JAIL BHORO' Campaign Across the districts

পাহাড় থেকে সাগর 'জেল ভরো' কর্মসূচিতে পুলিশের বাঁধা ভেঙে বিক্ষোভ শ্রমজীবীদের

রাজ্য জেলা

পাহাড় থেকে সাগর, জেলায় জেলায় 'জেল ভরো' কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাস্তায় নেমে কিক্ষোভ দেখালেন শ্রমজীবী মানুষেরা। জনবিরোধী সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখান তাঁরা। সেই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের সামনে পুলিশের ব্যারিকেড বাঁধা দিলেও, ব্যারিকেড ভেঙেই নিজেদের প্রতিবাদকে আরও জোরালো করে তুলেছেন তাঁরা। সেইসঙ্গে প্রতিবাদের উপর চলেছে লাঠি। জেলায় জেলায় গ্রেপ্তার ও হয়েছেন বহু মানুষ। 

এদিন নয়া শ্রমকোড বাতিল সহ একাধিক দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে শিলিগুড়িতে আইন অমান্য ও জেল ভরো আন্দোলন কর্মসূচি হয়। ডবল ইঞ্জিনের সরকারের জনবিরোধী নীতি ও জনজীবনের মূল সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে সোমবার দার্জিলিঙ জেলার শিলিগুড়িতে মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে আইন অমান্য আন্দোলন হয়। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামীন এলাকার কৃষক, চা বাগিচা এলাকা থেকে অসংখ্য শ্রমজীবি মানুষ কর্মসূচীতে অংশ নেন। কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে হিলকার্ট রোড ধরে মিছিল করেন তাঁরা। কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা সমন পাঠক সহ নেতৃবৃন্দ। এদিন ১৫জনকে গ্রেপ্তার করে প্রধাননগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পার্টি নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে পরে প্রধাননগর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে বিক্ষোভের মুখে জামিনে মুক্ত হন তাঁরা। 


এদিন রায়গঞ্জ ও জলপাইগুড়িতে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধুমধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি, উত্তর দিনাজপুর জেলা শাসকের দপ্তরের ও ইসলামপুর মহকুমার সামনে আইন অমান্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাস্তায় নামেন বামপন্থী শ্রমিক কৃষক সংগঠন সমূহ। 

সেইসঙ্গে, কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার  বামপন্থী গণসংগঠনের আহ্বানে এদিন মালদহ জেলার ১৫টি ব্লক ও ২টি পৌর এলাকার কয়েক হাজার মানুষ 'জেল ভরো' তে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি, এদিন আসানসোলে ও ব্যাপক সংখক মানুষ রাস্তায় নামেন, সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিআইটিইউ ও গণ আন্দোলনের নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি। দুই মেদিনীপুর, সিউড়িতেও এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরে ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করে প্রশাসন। যদিও পরে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়।

চুঁচুড়ায় বামেদের জেল ভরো কর্মসূচি ঘিরে ধুন্ধুমার, লাঠিচার্জ পুলিশের। বিক্ষোভ সভায় বিজেপির হামলা। একই চিত্র দেখা যায় হুগলির চুঁচুড়া ঘড়ির মোড় এলাকায়ও। মিছিল থেকে ডেপুটেশন দিতে যাওয়ার পথে পুলিশের ব্যারিকেট ভাঙতে গিয়ে সংঘর্ষ বাঁধে। আটক করা হয়েছে একাধিক বাম কর্মীকে।ঘটনার পর চুঁচুড়া আখন বাজারে বিক্ষোভ সভা করে বাম নেতৃত্ব। সেই সভা চলাকালীন বামেদের পথসভায় হামলা কর বিজেপি কর্মীরা।ভেঙে দেওয়া হল চেয়ার টেবিল।ছিঁড়ে ফেলা হলো পতাকা। বিজেপি কর্মীরা সেখানে গিয়ে ঝামেলা করে।পুলিশ দুই পক্ষকে সামলাতে হিমসিম খায়।

বহরমপুরে এফইউসি মাঠ থেকে শুরু হয় মিছিল। মিছিল টেক্সটাইল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ মিছিল আটকায়। ভাঙা হয় ব্যারিকেড। এরপর টেক্সটাইল কলেজের মোড়েই চলা সভা। বক্তব্য রাখেন কৃষক সভার জেলা সম্পাদক সচ্চিদানন্দ কান্ডারী, জেলা সভাপতি সোমনাথ সিংহ রায়  ,  সিআইটিইউ জেলা সম্পাদক জ্যোতিরূপ মুখার্জি, জেলা সভাপতি মহম্মদ নিজামুদ্দিন, খেতমজুর ইউনিয়নের জেলা সম্পাদক জামাল হোসেন, বামপন্থী শ্রমিক কৃষক সংগঠনের পক্ষে মোহন পাল। ছিলেন সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা, ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা।  

Comments :0

Login to leave a comment