মোদী ম্যাজিকে দেশের আর্থিক বৃদ্ধি, (জিডিপি) উচ্চ হারে বাডছে। অথচ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে না। বিদেশি পুঁজি লগ্নিকারীরা ভারতে বিনিয়োগে মোটেই উৎসাহবোধ করছে না। এমনকি দেশীয় পুঁজিপতি ও কর্পোরেটেরও দেশে লগ্নিতে প্রবল অনীহা। কি দেশি কি বিদেশি কোনও লগ্নিকারীই ভারতে নতুন করে পুঁজি ঢালতে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছেন। ফলে গত কয়েক বছর ধরেই ভারতে নতুন শিল্প প্রকল্পে বেসরকারি লগ্নি থমকে আছে।
এখন প্রশ্ন হলো বিশ্বের সর্বোচ্চ গতিতে যে দেশের জিডিপি’র বৃদ্ধি ঘটছে সেই দেশ থেকে দেশি-বিদেশি লগ্নিকারীরা মুখ ফিরিয়ে আছে কেন? এমন দুঃসময়েও যে দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার এত উচ্চ সেখানে তো লগ্নিকারীদের হামলে পড়ার কথা। নতুন নতুন প্রকল্পে, কারখানায়, ব্যবসায় বিপুল লগ্নি হবার কথা। তাহলে কি প্রদর্শিত বৃদ্ধির হার এবং প্রকৃত বাস্তবের মধ্যে লুকায়িত বিস্তর ফারাক রয়েছে। যা কর্পোরেট মহল বুঝতে পারছেন। তথ্য-পরিসংখ্যানের কারচুপির আড়ালে বৃদ্ধি অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে বলেই দেশি-বিদেশি পুঁজি ভারতে লগ্নিতে নিরাপদ মনে করছে না। তাই তারা ঝুঁকি নিতে পারছে না।
পাশাপাশি দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটা নির্মম সত্য মোদীতে মজে থাকা ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলি ভারতে বিপুল মুনাফা করে সেই মুনাফা নতুন নতুন লগ্নিরূপে ভারতে না ঢেলে প্রবল উৎসাহে ও উদ্যমে ঢালছে মোদীর বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে। মোদী সরকারের তরফ থেকে সবুজ সংকেত না থাকলে কোনও ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষে নির্দ্ধিধায় আমেরিকায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। আসলে ট্রাম্পের শুল্ক সন্ত্রাসের সামনে নতজানু হয়ে মোদী সরকার ট্রাম্পের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
কোনও রাখঢাক না রেখে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে সব দেশ আমেরিকায় পণ্য রপ্তানি করে বিপুল লাভ করে তাদের হয় আমেরিকায় কারখানা বানিয়ে পণ্য উৎপাদন করতে হবে অথবা তাদের বাজারে মার্কিন পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে হবে। তা না হলে বিদেশি পণ্যের উপর উচ্চ হারে শুল্ক চাপবে। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দেশগুলির উপর বিপুল হারে শুল্ক চাপাতে শুরু করেন। ছাড় মেলেনি বন্ধু মোদীর দেশও। ট্রাম্পের দাবি ভারত যেসব পণ্য আমেরিকায় রপ্তানি করে সেগুলি আমেরিকায় কারখানা বানিয়ে উৎপাদন করুক। আর ভারতের কৃষিপণ্যের বাজার, দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার এবং অন্যান্য বাজার আমেরিকার জন্য খুলে দিক। এই শুল্ক আগ্রাসন ও বাণিজ্য সংঘাতের মধ্যেই ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চলছে দীর্ঘকাল ধরে। আসলে ট্রাম্পের দাবি না মানলে আলোচনা সমাপ্ত হবার নয়। প্রকাশ্যে ঘোষণা না করলেও ভারতের বাজার খোলার ব্যাপারে ট্রাম্পের অনেক শর্ত মানতে সম্মত হয়েছে মোদী সরকার। তেমনি মোদীর সরকারের সম্মতি নিয়ে মোদীর বন্ধু কর্পোরেটগুলি দেশে লগ্নি না করে একে একে আমেরিকায় পুঁজি ঢালতে শুরু করে দিয়েছে। সর্বশেষ দৃষ্টান্ত রুইয়াদের এসার গোষ্ঠী। হোয়াইট হাউজে রুইয়াদের পাশে দাঁড় করিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন আমেরিকায় বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা তৈরিতে ১৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে এসার গোষ্ঠী। জুন মাসে জেএসডব্লিউ স্টিল ৫০ কোটি ডলার লগ্নির ঘোষণা করেছে। সান ফার্মা ঘোষণা করেছে ১১৭৫ কোটি ডলার লগ্নির। আম্বানিরা তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে ৩০ হাজার কোটি ডলার লগ্নির কথা বলেছে। পিছিয়ে নেই আদানিরাও। এইভাবেই মোদীর নেতৃত্বে ভারত আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে।
Editorial
ভারত নয়, আমেরিকায় লগ্নি মোদী বন্ধুদের
×
Comments :0