অবৈজ্ঞানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কলকাতা কর্পোরেশনে ডিলিমিনেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। কর্পোরেশনে বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর নাগরিক পরিষেবা ভেঙে পড়েছে। কলকাতা কর্পোরেশনে দেখা যাচ্ছে অচল অবস্থা। অবিলম্বে প্রশাসনকে সুষ্ঠু নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে কলকাতা জেলা বামফ্রন্টের তরফে এই আহ্বান জানিয়েছে নেতৃবৃন্দ।
কলকাতা কর্পোরেশন ভবনের সামনে সমাবেশ করার কথা থাকলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে সমাবেশ হয়েছে।
এ দিনের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছেন কলকাতা জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক কল্লোল মজুমদার। বক্তব্য রেখেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ, সিপিআই কলকাতা জেলা সম্পাদক প্রবীর দেব, ফরওয়ার্ড ব্লকের দেবব্রত রায়, আরএসপি পক্ষ থেকে দেবাশিস ব্যানার্জি। এছাড়াও বক্তব্য রেখেছেন সিআইটিইউ নেত্রী মধুজা সেনরায় ও জ্যোতি নগর কলোনির বাসিন্দা পিংকি বিবি।
রাজনৈতিক দলগুলিকে ধোঁয়াশায় রেখে ডিলিমিটেশন কেন করা হলো সেই নিয়ে সরব হন কল্লোল মজুমদার। তিনি বলেছেন, ডিলিমিটেশনের পরেও ভোটার সংখ্যার বৈষম্য রয়েছে বহু ওয়ার্ডে। একাধিক ওয়ার্ডে দেখা গেছে ১০ হাজারের কিছু বেশি ভোটার, আবার পাঁচটি ওয়ার্ডে ২০ থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত ভোটার রয়েছে। এই বৈষম্য কেন?
বিজেপি কি বৈষম্য জেনে বুঝেই করতে চাইছে। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী ভোটকে ভাঙার জন্য এই পরিকল্পনা বিজেপি’র।
কল্লোল মজুমদার অভিযোগ করেছেন দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা কর্পোরেশনের স্থায়ী নিয়োগ নেই। নির্বাচনের পর নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। আগের তৃণমূল সরকার পৌরসভার স্কুলগুলি তুলে দিয়েছে। ‘উত্তরণ’-র নামে ঠিকা প্রজাস্বত্ব আইনকে না মেনে বস্তি উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন মানুষ। তিনি বলেন, তৃণমূলের দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে বিজেপি বোর্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রশাসক বসিয়ে আরও অব্যবস্থা তৈরি হয়েছে কলকাতা কর্পোরেশন জুড়ে। একদিকে কর্মী সংকট অন্যদিকে কর্মীদের সঠিকভাবে বেতন দেওয়া যাবে কিনা সেই নিয়েও রয়েছে দুশ্চিন্তা। জ্যোতি নগর কলোনিতে সংখ্যালঘু মানুষের জল কেড়ে নিয়েছে। কলকাতা কর্পোরেশন প্রশাসন নিশ্চুপ। অন্যদিকে উচ্ছেদেরও আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। তার বিরুদ্ধে লড়াই চলছে কোর্টে লড়াই চলেছে রাস্তায়। মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসনকে।
কলকাতা কর্পোরেশনের প্রশাসক স্মিতা পান্ডের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য ফৈয়াজ আহমেদ খান, সিপিআই নেত্রী মৌসুমী ঘোষ, ফরওয়ার্ড ব্লকের ঝুমা দাস, আরএসপি’র পুলক মৈত্র। কলকাতার বস্তি আন্দোলনের নেতা শিবেন্দু ঘোষ। নির্ধারিত সময় কলকাতা কর্পোরেশনের পৌছালেও কমিশনার স্মিতা পান্ডে দেখা করেননি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে। কমিশনারের সচিব প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করেন। সমস্ত দাবি তিনি কমিশনের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
ডেপুটেশন থেকে ফিরে ফৈয়াজ আহমেদ খান বলেছেন, কমিশনারের কাছে সময় ছিল না আমাদের সঙ্গে দেখা করার। কিন্তু আমরা দাবি জানিয়ে এসেছি। পথের লড়াই চলবে। এই লড়াইকে বুথে নিয়ে যেতে হবে। বরোতে বরোতে বিক্ষোভ অবস্থান ধরনা চালাতে হবে।
শতরূপ ঘোষ সমাবেশে বলেছেন, কাশিপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি বলেছিলেন সংখ্যালঘুরা তাঁকে ভোট দেয়নি। তাই তাদের জন্য তিনি কোন কাজ করবেন না, ওদের উন্নয়ন করবেন না। আমার আপনার ট্যাক্সের টাকায় জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নমূলক কাজ করেন।
শতরূপ রীতেশ তিওয়ারিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অনেকে মনে করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি সারা জীবন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন কিন্তু মানুষ তাদের সরিয়ে দিয়েছে। সুতরাং শুভেন্দু অধিকারীও সারা জীবন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না। আপনাকে এই সমস্ত কাজের কৈফিয়ত দিতেই হবে।
তৃণমূলের বোর্ড ১৬ বছরে কলকাতা বিভিন্ন ক্ষেত্রকে ধ্বংস করেছে। দুই মেয়রকেই দেখা গেছে সরাসরি ঘুষ নিতে কাউন্সিলাররা স্কোয়ার ফুট থেকে টাকা তুলতেন। পাঁচ বছরে কয়েকগুণ সম্পত্তি বেড়েছে। বামপন্থীরা তার বিরোধিতা করতে এলেই নির্লজ্জভাবে আক্রমণ করেছে তারা এখন তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
শতরূপ বলেন, যখন গরিব হকার বা বস্তিবাসী মানুষের উপর আক্রমণ নামছে, লাল ঝান্ডাই হাতে রুখে দাঁড়াচ্ছে বামপন্থীরা। প্রথমে সংখ্যালঘু মানুষের উপর আক্রমণের সময় অনেকে মনে করেছিলেন এই আক্রমণ অন্যদের উপর আর হবে না। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গিয়েছে গরিব মানুষের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ করেছে বিজেপি। সে হিন্দু হোক বা মুসলিম। তিনি বলেন, দমদমে নির্বিচারে হকারদের দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মতুয়াদের ওপর বুলডোজার চলেছে হাবড়াতে। আর যেখানেই বুলডোজার নেমেছে সেখানেই লাল ঝান্ডা হাতে প্রতিরোধ হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই প্রতিরোধ আরও হবে।
Kolkata Corporation at standstill
অচল কলকাতা কর্পোরেশন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ডিলিমিটেশন: বুথে বুথে লড়াইয়ে নামছে বামফ্রন্ট
×
Comments :0