Artificial Flowers

চাহিদা আছে, লাভ নেই, হুগলির গুপ্তিপাড়ার কৃত্রিম ফুলের

জেলা স্পটলাইট

কৃত্রিম ফুল ও মালা তৈরীর কাজ চলছে গুপ্তিপাড়ায়।

অভীক ঘোষ: গুপ্তিপাড়া
তাজা ফুলের মতো শুভ্রতা দিতে না পারলেও নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। কাপড়,  কাগজ,  প্লাস্টিক,  সিল্ক,  শোলা,  পাট ও কাঠ দিয়ে এখন আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন কৃত্রিম ফুল তৈরি হচ্ছে। যা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। বর্তমান সময়ে ঘর সাজানো থেকে শুরু করে প্রায় সব কিছুর সৌন্দর্যবর্ধনেই ব্যবহার হচ্ছে এই কৃত্রিম ফুল। ঘরবাড়ি, অফিস, অনুষ্ঠান ও হোটেল সাজানোর ক্ষেত্রে কৃত্রিম ফুলের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কৃত্রিম ফুল বিক্রির হার বেড়েই চলেছে দিন দিন।
হুগলির গুপ্তিপাড়ায় কৃত্রিম ফুল তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এবারে উৎসবে চাহিদা বাড়ছে গুপ্তিপাড়ার কৃত্রিম ফুলের। শ্রমনিবিড় এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে আবেদন করছেন শিল্পী ও কৃত্রিম ফুলের ব্যবসায়ীরা। তাই বিকল্প হিসেবে উৎসবের আগে বাহারি প্লাস্টিকের ফুলের চাহিদা বাড়ছে। হুগলির গুপ্তিপাড়ার কৃত্রিম ফুল শিল্পের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
কৃত্রিম ফুল ও মালার বাজার রয়েছে গোটা ভারত বর্ষ জুড়ে। অধিকাংশ কাঁচা মাল আসে চিন থেকে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গা ফুলের কাপড় ও অন্যান্য জিনিস তৈরি হয়। হুগলির গুপ্তিপাড়ায় সেই কাপড় কেটে বিভিন্ন রকম ফুল ও মালা তৈরি হয়। যা কলকাতা, উত্তরবঙ্গ ছাড়াও বিহার, ওড়িশা, আসাম সিকিম সহ বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হয়। কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা হয় এই গুপ্তিপাড়া থেকে। বিশ্বকর্মা পুজো, দূর্গাপুজো থেকে বাজার শুরু হয়। এছাড়া ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বেড়েছে ইদানিং। ব্যবসায়ীদের দাবি এবছর সেভাবে বাজার নেই কৃত্রিম ফুলের। বিগত সরকারের আমলে কৃত্রিম ফুলের ক্লাস্টার হওয়ার কথা ছিল। তাতেই নতুন স্বপ্ন দেখেছিল গুপ্তিপাড়ার ফুল ব্যবসায়ীরা। কিন্ত সেই স্বপ্নই থেকে গেছে। ক্লাস্টারের জন্য সরকারি জমি নিধারিত হয়েছিল। কিন্ত সরকারি ভাবে ফাঁকা জমিতে একটা ইট ও গাঁথা হয়নি। কৃত্রিম ফুলের ব্যবসার কোন উন্নতি হয়নি। চীনের উপর নির্ভরতা কমানো যায়নি এই ব্যবসার। উপরন্তু চিন থেকে কাঁচা মাল আমদানি করার ক্ষেত্রে ডলারের দাম উর্দ্ধেমুখী। সেই প্রভাবও পড়েছে ব্যবসায়। ব্যবসায়ীদের আবেদন ক্লাস্টারের মাধ্যমে ফুল ব্যবসায়ীদের এক ছাতার তলায় আনুক নতুন সরকার। সরকারি উদ্যোগে নতুন যন্ত্র পাতি এনে গুপ্তিপাড়ায় ফুলের ব্যবসার উন্নতির প্রয়োজন। তবেই কয়েক হাজার শ্রমিকদের কর্ম সংস্থানে দিশা হবে হুগলিতে।
ফুল শ্রমিক তৃপ্তি সরকার বলেন, ‘‘ব্যবসাদারদের কাছে আমরা কাঁচামাল নিয়ে গিয়ে বাড়িতে ফুল তৈরি করে দিয়ে যাই। কাপড়ের ডিজাইন মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ফুল ও মালা তৈরি করি। সারাদিনে দেড়শ থেকে ২০০ টাকা মজুরি পায় এই এলাকার মহিলারা। এবারে বাজারের চাহিদা নেই সেভাবে কাজও পাচ্ছিনা।’’
চিন থেকে দীর্ঘ দশ বছর ধরে কৃত্রিম ফুল ও ঘর সাজানো রঙ বাহারি ইনডোর গাছ আনেন ব্যবসায়ী আদিত্য সাহা। তিনি বলেন, ‘‘বিগত বছরের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি খারাপ আর্টিফিশিয়াল ফুলের আমার মত একাধিক ব্যবসায়ী রয়েছে যারা প্রতিটা কারখানায় কুড়ি থেকে ত্রিশ জন শ্রমিক কাজ করেন। অতীতে যে ক্লাসটার হওয়ার কথা ছিল সেটাও হয়নি। বর্তমান সরকার যদি একটু আলোকপাত করে তাহলে আমাদের ব্যবসার উন্নতি হয়। তাঁর দাবি দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চায়না থেকে অধিকাংশ কাঁচামাল আমদানি করতে গেলে প্রয়োজন ডলার। সেই ডলারের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে হকারদেরও সমস্যা হয়েছে যার জেরে  বিক্রিও কমেছে।’’ 

Comments :0

Login to leave a comment