বিশ্বের উন্নত এবং বিকাশমান দেশসমূহের গোষ্ঠী ‘জি-২০’ শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে দিল্লিকে যেভাবে কঠোরতম নিরাপত্তার জালে ঘিরে ফেলা হয়েছিল এবার তার থেকেও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা তৈরি করা হয়েছে শনিবার যন্তর মন্তরে ‘জেন-জি’-দের প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে আটকানোর জন্য। গত কয়েকদিনের দিল্লির বাইরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ-র যাবতীয় কর্মসূচি স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। তিনি দিল্লি বসে আছেন ‘জেন-জি’-দের আটকানোর জন্য গৃহীত যাবতীয় ব্যবস্থাদি তদারকির জন্য। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি ধার করা হয়েছে লাগোয়া রাজ্যের দক্ষ পুলিশ বাহিনীকে। রয়েছে আধা সেনার বিভিন্ন বাহিনী। দিল্লি জুড়ে যেন ভয়ঙ্কর কোনও যুদ্ধের প্রস্তুতি সারছে মোদী সরকার। পারলে সীমান্ত ঘাঁটি থেকে তুলে এনে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীকেও মোতায়েন করে। দেখে-শুনে যে কারোরই মনে হতে পারে যে কোনও সময় পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হতে পারে। তাই এমন কঠোরতম নিরাপত্তার ব্যবস্থা। যন্তর মন্তরের চারদিকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত সমস্ত রাস্তা ব্যারিকেড করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আশপাশের সমস্ত মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকছে। অর্থাৎ কোনোভাবেই মানুষ যাতে যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পারে তার জন্য বহু স্তরীয় প্রাচীর তোলা হয়েছে। মানুষ তো দূরের কথা একটা কাক-পক্ষীও যাতে যন্তর মন্তরের ত্রিসীমানায় আসতে না পারে তার জন্য সমস্ত ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বোঝাই যাচ্ছে ভয়ানক আতঙ্কে আছেন ৫৬ ইঞ্চির বিশ্ব গুরু এবং তাঁর প্রধান সেনাপতি। কার্যত নাওয়া-খাওয়া ভুলে প্রহর গুনছেন। গত ১২ বছরে এমন ভয় মোদীরা কখনও পাননি। যন্তর মন্তরে অজস্র বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে এতটা দিশাহারা অবস্থা তাদের আগে কখনও হতে দেখা যায়নি। কয়েক মাস আগে নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে সিজেপি’র ডাকে দেশে তরুণ সমাজ যে তেজি আন্দোলন করে দেশে আলোড়ন তুলেছিল এবং যার ধাক্কায় মোদীর শিক্ষা মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল সেই দুঃস্বপ্ন মোদীদের এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে। হিংস্র-বর্বরতা চালিয়ে ‘জেন-জি’-দের দমানো সম্ভব হয়নি। সেই তারাই দ্বিগুণ জেদ নিয়ে যন্তর মন্তরে আসছে। এবার তাদের প্রধান দাবি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ। এসআইআর বাতিল ইত্যাদি। মোদীরা প্রমাদ গুনছেন ছাত্র-যুবরা যদি যন্তর মন্তরে ঢুকে যায় তাহলে কারও সাধ্য নেই জ্ঞানেশকে রক্ষা করে। জ্ঞানেশ সরলে মোদী-শাহ-দের সব আশা স্বপ্ন সখাত সলিলে সমাধি হবে। দাবি উঠবে মোদীর অপসারণ। এসআইআর, এক দেশ এক ভোট, আসন পূনর্বিন্যাস করে শেষ পর্যন্ত ২০২৯ সালে শেষ রক্ষা হবে না। অতএব মরণ কামড় দিয়ে দেশের নব যৌবনের বিক্ষোভ স্রোত ঠেকাতে মোদীরা মরিয়া।
Frightened Modi
ভয়ে কাঁপছেন মোদীরা
×
Comments :0