নির্বাচন কমিশন ফর্ম-২০ প্রকাশ করছে না। কোন বুথে কত ভোট পড়ল তা লেখা থাকে এই ফর্মে। তা’হলে মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে বসে কী করে বুঝলেন কত মহিলা, কত হিন্দু, কত মুসলিম কাকে ভোট দিয়েছে। এজন্যই আমরা বলছি নয়া ফ্যাসিবাদ। তা’হলে আগে থেকেই সব ঠিক করে রেখেছিলেন?
নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচন প্রসঙ্গে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, কলকাতায় মুজফ্ফর আহ্মদ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, আগে ফল ঠিক হয়ে গিয়েছে, তারপর প্রকাশ হয়েছে। তিনি বলেন, ধারাপাত নতুন করে পড়তে হবে। ধারাপাতের অঙ্ক নতুন করে শিখতে হবে। জ্ঞানেশ কুমার নতুন করে অঙ্ক শেখাচ্ছেন আর শুভেন্দু অধিকারী তা নিয়ে নাচানাচি করছেন।
উল্লেখ্য, রেজিনগরে ১১৯ নম্বর বুথে ভোটারের সংখ্যার থেকে বেশি ভোট পড়ার হিসেব দেখা যায় গণনার সময়।
এদিন ভোটের গণনার পর মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে মুসলিম মহিলাদেরও সমর্থন পেয়েছেন।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে সেলিম আরও বলেছেন, এটাকে জয় বলে না। একের এক বুথ দখল করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার কি পড়ে যেত দু’টো উপনির্বাচনের জন্য? তা’হলে উপনির্বাচন জিততে, কেবল বুথ দখল নয়, ভয় দেখানো হলো কেন। বিরোধী এজেন্টদের পুলিশকে দিয়ে শাসানো হলো কেন।
সেলিমের মন্তব্য, গণতন্ত্রকে শ্মশানে তোলা হয়েছে আর পুলিশ ডোমের ভূমিকা নিয়েছে। ইতিহাসে এটাও লেখা থাকবে।
বামপন্থীদের ফলাফল সংক্রান্ত এক প্রশ্নে তিনি বলেন,
বামপন্থীরা বুলডোজার রাজনীতিকে প্রতিরোধ করছে। বামেদের উচ্ছেদ করতে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ‘ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির’ লোকেরা থাকুক, এটা চেয়েছেন।
এদিন আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন। শুভেন্দু বলেন, ‘যে হামলা করেছে সে তৃণমূল কর্মী। আইন মেনে পুলিশ কাজ করছে।’ এরপরই হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রাক্তন সাংসদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বিকাশ বাবু হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ করেছেন তার ফেসবুক পোস্টে। হিন্দু সম্প্রদায়কে অপমান করেছেন। ওনাকে বলবো ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওই পোস্ট থেকে হিন্দুত্ববাদী শব্দ বাদ দিতে। বাদ না দিলে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলের পক্ষ থেকে ওই পোস্টকে নামিয়ে দেওয়া হবে।’
এ সংক্রান্ত প্রশ্নে সেলিম বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সংবিধান নিয়ে শপথ নিয়েছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন বলেছিলেন। নিরাপত্তা দেবেন বলেছিলেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি আইনের শাসন নেই। সিসিটিভি-তে দেখা গিয়েছে মদের বোতল ছুঁড়ছে অপশব্দ ব্যবহার করে। আর মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ধর্মের নামে বলেছেন বলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার মানে তো ‘সার্টিফাই’ করা হচ্ছে। রাজ্যের মানুষকে বলব কেউ নিরাপদ নয়। শুভেন্দুবাবুও নিরাপদ নন।
Comments :0