দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি
‘স্কুল বাঁচাও, মূল বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে চলবে আন্দোলন। ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিচালন ব্যবস্থা চালুর দাবিও জোরালো হবে। কিন্তু কেবল ক্যম্পাসে নয়, রাস্তায় বৃহত্তর আন্দোলনও গড়ে তোলার কাজ চালাবে এসএফআই।
দেশের গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সামনে সারিতে রয়েছে এসএফআই। এই লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তায় বুধবার জলপাইগুড়িতে শুরু হয়েছে সংগঠনের রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন।
বর্ণাঢ্য মিছিল ও প্রকাশ্য সমাবেশের হয় এদিন। অধিবেশন ৮ অক্টোবর পর্যন্ত।
বুধবার, ৭ অক্টোবর, সমাজপাড়া মোড় থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য মিছিল। মিছিলে নেতৃত্ব দেন এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে, রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যী, জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক অরিন্দম ঘোষ, জেলা সভাপতি সাব্বির হোসেন-সহ রাজ্য ও জেলা নেতৃবৃন্দ।
শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে মিছিল পৌঁছায় কদমতলা মাদ্রাসা ময়দানে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রকাশ্য সমাবেশ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এসএফআই জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক অরিন্দম ঘোষ।
বর্ধিত অধিবেশনের দাবির মধ্যে রয়েছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়করণ, বেসরকারিকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ করা, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ, স্কুল পরিচালন কমিটি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিচালন ব্যবস্থা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করা। উত্তরবঙ্গের চা-বলয়, বনবস্তি ও প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সমাবেশ, মিছিল ও অধিবেশনকে ঘিরে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি প্রাক্তন ছাত্র, যুব নেতৃত্ব ও কর্মীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘স্কুল বাঁচাও, মূল বাঁচাও’, সরকারি শিক্ষা রক্ষা এবং ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিকে সামনে রেখে দু’দিনের অধিবেশনে রাজ্যের ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি হবে বলে এসএফআই নেতৃত্ব জানিয়েছে।
সমাবেশে এসএফআই নেত্রী সঙ্গীতা রায় উত্তরবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আদিবাসী, পাহাড়ি, গ্রামাঞ্চল, বনবস্তি এবং শ্রমজীবী পরিবারের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা নিশ্চিত করতে বন্ধ হতে বসা স্কুলগুলিকে বাঁচানো এবং প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানান তিনি।
রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যী বলেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আক্রমণের পাশাপাশি দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এবিভিপি’র দখলদারি ও ক্যাম্পাসে গেরুয়া রাজনীতির বিস্তার ঘটানোর চেষ্টা চলছে। এই দখলদারির বিরুদ্ধে এসএফআই লড়াই চালিয়ে যাবে।
রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, যাদবপুর থেকে এসি কলেজ— বিভিন্ন ক্যাম্পাসে গেরুয়া বাহিনীর দখলদারির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্ররা লড়াই করছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার সকলের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে সংকুচিত করতে চাইছে। উচ্চশিক্ষা যাতে সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েদের নাগালের বাইরে চলে না যায়, তার জন্য সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দাবি জানান তিনি।
এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের তথাকথিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারগুলি প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়ে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বামপন্থীদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলার জবাবে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী ঐতিহ্য ও নেতাজি, ভগৎ সিং, বিনয়-বাদল-দীনেশ, মাস্টারদা সূর্য সেনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মূল বিষয় থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে নানা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
Comments :0