শিয়ালদহ চত্বরে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তালতলা ক্যাম্পাসের তিন পড়ুয়ার উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই যুবকের বিরুদ্ধে। হামলাকারীরা বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বলেই এলাকায় পরিচিত। অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে গালিগালাজ করে তাঁদের মারধর করা হয়। ঘটনার পর ন’দিন কেটে গেলেও তালতলা থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ আক্রান্ত পড়ুয়াদের।
আলিয়ার তালতলা ক্যাম্পাসের ইসলামিক থিয়োলজি বিভাগের পড়ুয়া মহম্মদ আশিক বিল্লাহ, হোসানুর জামুন এবং মোয়াজ্জেম হুসেন—তিনজনই হাসনাবাদের বাসিন্দা। প্রতিদিন ক্লাস শেষে শিয়ালদহ থেকে লোকাল ট্রেনে বাড়ি ফেরেন তাঁরা।
পড়ুয়াদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ স্টেশনের দিকে যাওয়ার পথে তালতলা এলাকায় জেনারেল ডায়েরি হাসপাতালের সামনে বাইকে আসা দুই যুবক তাঁদের পথ আটকায়। অভিযোগ, দু’জনেই তাঁদের উদ্দেশে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ‘জেহাদি’, ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে কটূক্তি করে। পড়ুয়াদের দাবি, ওই দু’জনকে এর আগে তাঁরা কখনও দেখেননি।
মোয়াজ্জেম হুসেন বলেন, ‘‘আচমকাই বাইক নিয়ে এসে আমাদের রাস্তা আটকে জেহাদি-সন্ত্রাসবাদী বলে গালিগালাজ করতে শুরু করে ওই দু’জন। আগে কখনও এদের দেখিনি। কোনও শত্রুতাও নেই। ওইদিনও এমন আক্রমণের কোনও কারণ ঘটেনি।’’
মোয়াজ্জেমের দাবি, আচমকা এই আক্রমণের কারণ জানতে চাইলে আশিককে মারধর শুরু করে ওই দুই যুবক। তাঁর ঠোঁট ফেটে যায় এবং পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। হোসানুর ও মোয়াজ্জেমকেও আক্রান্ত হতে হয় বলে তাঁদের দাবি। পরে কোনওমতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র পড়ুয়াদের খবর দিয়ে তাঁরা আশিককে নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন।
এরপর সিনিয়র পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়ে তিনজন তালতলা থানায় যান। সেখানে অভিযোগ জানাতে গিয়ে দুই অভিযুক্তের একজনকে দেখতে পান বলে তাঁদের দাবি। তাঁকে পুলিশকে দেখিয়ে চিহ্নিতও করেন আক্রান্ত পড়ুয়ারা। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ জানিয়েছিল অন্য একটি মামলার সূত্রে ওই ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছে এবং তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
কিন্তু আক্রান্ত পড়ুয়াদের অভিযোগ, অভিযোগ জমা দেওয়ার কোনও লিখিত নথি তাঁদের দেওয়া হয়নি। ঘটনার পর ন’দিন কেটে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগের আনুষ্ঠানিক নথিভুক্তি নিয়েও পড়ুয়াদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এর আগেও বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের কয়েকদিনের মধ্যে আলিয়ার নিউটাউন ক্যাম্পাসের বাইরে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কয়েকজন পড়ুয়ার উপর শারীরিক হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ লিখিত অভিযোগ নেয়নি এবং কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের। দুই ঘটনার অভিযুক্তরাই বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বলে তাঁদের কথাবার্তা ও আচরণ থেকে মনে হয়েছে—এমনই দাবি আক্রান্ত পড়ুয়া ও তাঁদের সহপাঠীদের।
ঘটনার পরও নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন আশিক, হোসানুর ও মোয়াজ্জেম। তবে হামলার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা আতঙ্ক ও আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
Mob Lynching of Alia Students
তালতলায় আলিয়ার তিন ছাত্রকে রাস্তায় ফেলে মার, ন’দিন পরও পুলিশ নিষ্ক্রিয়
×
Comments :0