spotlight

ব্যস্ততা নেই পুজোর আগেও, ভালো নেই রঘুনাথপুরের ডাক শিল্পীরা

জেলা স্পটলাইট

ভাস্কর দাশগুপ্ত: পুরুলিয়া

আধুনিকতার কাছে হার মানছে সাবেকিয়ানা। চাকচিক্যের জৌলুসে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক কিছুই। হাতে গোনা সামান্য কয়েকটা দিন। 
মাঝে এক মাসও আর সময় নেই বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজোর। এই সময় রঘুনাথপুরে প্রতিবার ডাক শিল্পীদের ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। মাথা নিচু করে এক মনে কাজ করেন। তৈরি হয় মাটির প্রতিমার হরেক রকমের অঙ্গসজ্জা। কখনো শোলা, কখনো থার্মোকল, আবার কখনো বা কাগজের উপর বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে অলংকার তৈরি করেন তারা। প্রতিমার সাজসজ্জার কাজে মগ্ন থাকেন শিল্পীরা। 
কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্যান্য বারের তুলনায় খুবই খারাপ। ডাক শিল্পীদের ভাষায় এবার বাজার মন্দা। জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া। মিলছে না উপযুক্ত পারিশ্রমিক। যার ফলে এবার ব্যস্ততা নেই রঘুনাথপুরের ডাক শিল্পীদের। উৎসবের আগে তাই মন ভালো নেই রঘুনাথপুরের ডাক শিল্পীদের।
রঘুনাথপুর শহরের ডাক শিল্পীদের এক সময় কদর ছিল বিরাট। পাশের জেলা বাঁকুড়া, বর্ধমান সহ ঝাড়খণ্ডের ডালটনগঞ্জ, পালামৌ, ধানবাদ থেকে দুর্গাপুজোর আগে প্রতিমার অঙ্গসজ্জার জন্য ডাকের কাজের বরাত পেতেন তারা। সময় এগিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি এসেছে। সেখানে হারিয়ে গেছে মানুষের শ্রম। মানুষের তৈরি সূক্ষ শিল্পকলা। 
রঘুনাথপুর শহরের অন্যতম প্রবীণ ডাক শিল্পী বাদল চন্দ্র রেওয়ানী। এসবেস্টটাসের ঘরে তীব্র গরমের মধ্যে মাথা নিচু করে কাগজের উপর জরি বসিয়ে কাজ করে যান আশি ছুঁই ছুঁই এই ডাক শিল্পী। এবার মাত্র সাতটি পুজোর বরাত পেয়েছেন তিনি। দাম বাড়ছে সব জিনিসের তাতে লাভ কমছে তাদের। কাজের মান কমছে। কমে যাচ্ছে ডাক শিল্পীর সংখ্যা। পারিবারিক সূত্রে এখনও এই পেশায় রয়েছেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর বাপ ঠাকুরদার পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। নতুন প্রজন্মের কেউ আর এই পেশায় আসতে চাইছে না। 
রঘুনাথপুর শহরে বাসিন্দা ডাক শিল্পী অভিজিৎ সেনের  ছোট্ট ঘরটাতে একসময় ডাক শিল্পীদের কাজের ব্যস্ততা থাকতো তুঙ্গে। অন্যান্য বছর ১০-১২ জন ডাক শিল্পী পূজার আগে নাওয়া খাওয়া ভুলে কাজ করতেন। এবার সংখ্যাটা কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র দু’জনে। গত বছর যেখানে ৭০ থেকে ৭৫টি ডাকের কাজের বরাত পেয়েছিলেন- এবার সেটা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র তিরিশটিতে। প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। গত বছর যে আঠা কিনেছেন ৩১৫ টাকায় এবার তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭০ টাকা। চুমকি কিনেছিলেন গত বছর ৪০০ টাকা কেজি এবার সেটা ৪৭০ টাকা কেজি। মালাই দড়ি গত বছর কিনেছিলেন ২১০ টাকায়। এবার ১ কেজির দাম হয়েছে ২৭০ টাকা। 
উপকরণের দাম বাড়লেও প্রতিমার দাম বাড়েনি। বরং উদ্যোক্তারা আরও সস্তা দামে প্রতিমা খুঁজছেন। লাভের অঙ্ক কমার সঙ্গেই কমে যাচ্ছে কারিগরের সংখ্যা। শোলা বা কাগজের উপর নকশা কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। 
মন ভালো নেই রঘুনাথপুরের ডাক শিল্পীদের।

Comments :0

Login to leave a comment