রাজ্যজুড়ে বুক স্টলে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন।
সিপিআই(এম)’র জানানো অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে মানবাধিকার কমিশন। শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, মানবাধিকার কমিশনের শুনানিতে বক্তব্য জানিয়ে এ কথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, আমরা আশা করব প্রশাসনের টনক নড়বে। জগদ্ধাত্রী পুজো বা বড়দিনে এমন বইয়ের স্টল প্রতিবাদের মতো হবে। সেখানে যাতে কেউ বাধা না দেয় সেই বিষয়টিও দেখতে বলেছে মানবাধিকার কমিশন।
সেলিম বলেছেন যে পুজো বা উৎসবে বুক স্টল রাজ্যের সংস্কৃতির অংশ। এবার যেভাবে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে বাধা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুর হয়। আমাদের মনীষীদের লেখা বড় মাটিতে ছুঁড়ে ফেলা হয়। বুক স্টলে যাঁরা ছিলেন তাঁদের মারধর করা হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এই হামলায় হয় সহযোহিতা করেছে না হলে নিষ্ক্রিয় থেকেছে পুলিশ।
গত ২৩ অক্টোবরই মানবাধিকার কমিশনে জানানো হয়েছিল অভিযোগ। এদিন শুনানির জন্য সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দকে ডাকা হয়। সেলিমের সঙ্গে ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক পলাশ দাস এবং আইনজীবী শামিম আহমেদ।
সেলিম বলেন, গত সত্তর বছর ধরে পুজো, বড়দিন উপলক্ষে বাংলার সংস্কৃতি অনুযায়ী বই ছাপা হয় বিক্রি হয়। বাংলার সংস্কৃতি অনুযায়ী পুজোর গান, পুজোর বই, পুজোসংখ্যা বের হয়। বামপন্থীরা এই সংস্কৃতিকে আরও বেশি সর্বজনীন করেছে। কিন্তু এবারই প্রথম দেখলাম প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর যতটা নিচে নামতে পারে ততটা নিচে নেমেছে।
সেলিম বলেছেন, গোটা রাজ্যে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ আক্রমণের তালিকা আমরা দিয়েছি। তার আগে পুজোর মধ্যেই মেইল করে অভিযোগ জানানো হয়। মানবাধিকার কমিশন ধৈর্য ধরে আমাদের অভিযোগ শুনেছে এদিন। আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সেলিম বলেন, সংবিধানের মৌলিক অধিকারে নিজের মত প্রকাশ করার স্বাধীনতা রয়েছে। জনশৃঙ্খলায় সমস্যা তৈরি করে না বা দেশের স্বার্থের বিরোধী নয় এমন বই বিক্রি করার অধিকার রয়েছে আইনে। সেই অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
সেলিম বলেন, প্রত্যেকের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার আছে। সেই অধিকার বইয়ের স্টলে লঙ্ঘিত হয়েছে। যাঁরা বসেছিলেন তাঁদের আক্রমণ করেছে, অপমান করেছে।
Comments :0