হিমঘর থেকে বের হওয়া আলুর দাম বৃদ্ধি, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হলেন জলপাইগুড়ির কৃষকরা। সারা ভারত কৃষক সভার জলপাইগুড়ি জেলা কাউন্সিলের ডাকে বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আলুর বস্তা সঙ্গে নিয়ে কৃষকরা শহরে মিছিল করে কৃষি দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। কৃষকদের বিক্ষোভ ঘিরে কৃষি দপ্তরের বাইরে মোতায়েন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাহিনীর ঘেরাটোপেই স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়।
কৃষকদের দাবি, হিমঘর থেকে আলু বের হওয়ার পর দেড় থেকে দুই টাকা কেজি দরে কৃষকদের আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ বাজারে সবজির দাম বাড়লেও কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। কৃষককে লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়ে কৃষি দপ্তর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে কাজ চালাতে পারে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।
স্মারকলিপিতে আলু, ধান, পাট সহ সমস্ত কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচের দেড়গুণ ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ, প্রতি কুইন্টাল আলুর দাম ১৩০০ টাকা ও ধানের দাম ৩৩০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি এককালীন কৃষিঋণ মকুব, সরকারি উদ্যোগে কৃষকের আলু ক্রয়, কালোবাজারি বন্ধ, ফসলের ক্ষতিপূরণ, কৃষকদের ঋণের ব্যবস্থা, নদীভাঙন রোধ, সেচের উন্নতি, কৃষিজমির পাট্টা প্রদান এবং সীমান্ত এলাকার কৃষকদের সমস্যার সমাধানসহ একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়।
সংগঠনের জেলা সম্পাদক প্রাণগোপাল ভাওয়াল বলেন, “আমরা এখানে যুদ্ধ করতে আসিনি। কৃষকদের দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে এসেছি। যেদিন কৃষি দপ্তরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেব, সেদিন কোনও বাহিনী দিয়ে আটকানো যাবে না। কৃষক না খেয়ে মরবে আর আধিকারিকরা এসি ঘরে বসে কৃষি দপ্তর চালাবেন, তা চলতে পারে না।”
মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন আশীষ সরকার, মনু ওরাও, প্রাণগোপাল ভাওয়াল, প্রাক্তন সাংসদ জিতেন দাস, প্রাক্তন সাংসদ মহেন্দ্র কুমার রায়, কৃষক নেতা সলিল আচার্য মুস্তাফিজুর রহমান, মোক্তার হোসেন, খরেন রায় সহ অন্যান্য কৃষক নেতৃবৃন্দ। কৃষি দপ্তরের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে সভাপতিত্ব করেন আশীষ সরকার। বক্তব্য রাখেন মনু ওরাও, খরেন রায়সহ অন্যান্য নেতারা। কৃষকদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কথা জানান নেতৃবৃন্দ। মিছিল করে কৃষক ও গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে পড়ার মতন।
Comments :0