Suvendu Adhikari

সরষেতে ভূত আছে

সম্পাদকীয় বিভাগ

‘হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল’। মহম্মদ সেলিমের নাম উল্লেখ করে সিপিআই(এম)-কে মুখ্যমন্ত্রীর হুমকি প্রসঙ্গে জন পরিসরে এমন মন্তব্যই ভেসে বেড়াচ্ছে। প্রাক্তন তৃণমূলী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি’র মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ মন্ত্রী হয়ে ছোট আঙ্গারিয়া, গড়বেতা, কেশপুর, নন্দীগ্রাম, ঝাড়গ্রাম প্রভৃতি এলাকার অতীতের খুন-সন্ত্রাসের কেসগুলি নতুন করে চালু করার হুমকি দিয়েছেন সিপিআই(এম)-কে ভয় দেখাতে। যে সময়কালের এবং যে ঘটনাগুলোর উল্লেখ তিনি করেছেন সেটা তৃণমূলের উত্থানের যুগ। সেই সময় গোটা মেদিনীপুর (অবিভক্ত) জুড়ে মাওবাদীদের সঙ্গে নিয়ে এবং সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও ভয়ঙ্কর সমাজবিরোধী দুষ্কৃতীদের নিয়ে যে সব নারকীয় ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটিয়েছিল তৃণমূল। মাওবাদীরা তখন মমতা ব্যানার্জির দোসর। আর এ‍‌ই জল্লাদবাহিনীর হাতে খুন হয়েছিল সিপিআই(এম)’র সহস্রাধিক নেতা-কর্মী। আর সেই সময়ে মমতা ব্যানার্জির বিশ্বস্ত সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী। 
তৃণমূলের তৎকালীন সেই যুবরাজ নেত্রীর ডান হাত এখন বিজেপি’র ওয়াশিং মেশিনে শুদ্ধ হয়ে বিজেপি’র মুখ্যমন্ত্রী। স্থান বদল হলে চরিত্র বদলে যাবে তেমন কোনও কথা নেই। তাই তাঁর প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে গিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের মুখ্যমন্ত্রী হলেও তৃণমূলের ছায়া থেকে বেরুতে পারেননি শুভেন্দু অধিকারী। তাই প্রতিটি পদক্ষেপে, কথাবার্তায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনি আদতে তৃণমূলীই। বিজেপি’র হয়ে ভাড়া খাটছেন মাত্র।
নির্বাচনী তথ্যের বিচারে রাজ্যে বিরোধী দল তৃণমূলই। বিধানসভায় সিপিআই(এম)’র একজনই বিধায়ক। ফলে শাসক দলের কাছে সিপিআই(এম) অপ্রাসঙ্গিকই হবার কথা। বরং তাদের রাজনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্য হবার কথা তৃণমূল। কিন্তু বাস্তবে তৃণমূল নিয়ে শুভেন্দুর বা বিজেপি’র কোনও মাথাব্যথা নেই। তাদের ভয় সিপিআই(এম)-কেই। তাই ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী এবং শাসক দল রাজনৈতিক বিরোধীদের যত আক্রমণ করেছেন তাঁর ৮০ ভাগই সিপিআই(এম)-কে লক্ষ্য করে। অর্থাৎ শাসক দল মনে করে রাজ্যে সি‍‌পিআই(এম) তথা বামেরাই আসল বিরোধী শক্তি। 
তৃণমূল নিয়ে শুভেন্দুর সমস্যা না থাকার প্রধান কারণ তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়কদের দুই তৃতী‌য়াংশই শুভেন্দুর সঙ্গে গোপন বোঝাপড়া হয়ে বিজেপি-তে ঢুকে গেছেন অথবা ভালো তৃণমূল তকমা নিয়ে বিজেপি’র বি টিমের সদস্য হয়েছেন। বাকি যাঁরা আছেন তাঁরাও সময়-সুযোগ খুঁজছেন শুভেন্দুর সৌজন্যে বিজেপি’র অন্দরে ঢোকার অপেক্ষায়। অতএব তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী নীরব থাকাই স্বাভাবিক। বিজেপি-তে শুভেন্দুর কদর এই জায়‍‌গাতেই নিহিত। তিনি শুধু নিজে আসেননি, ধাপে ধাপে কার্যত গোটা তৃণমূলটাকেই বিজেপি’র নৌকায় তুলে নিয়েছেন। এই অবস্থায় রাজ্যে শাসক ও শাসক দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শক্তি একমাত্র বামেরা। শুভেন্দু তাই বামেদেরই ভয় দেখাচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন। তারজন্য অতীতের নানা কেস রি-ওপেনের কথা বলছেন। বাম নেতাদের জেলে পোরার হুমকি দিচ্ছেন। স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ত শাসকরা মিথ্যা মামলায় বিরোধীদের জেলে ঢোকাতে অবশ্যই পারে। কিন্তু রাখতে পারবে না। মাঝখান থেকে এসব করতে গিয়ে শুভেন্দু নিজেই বেকায়দায় পড়ে যান। মমতার হয়ে মাওবাদী যোগাযোগের শিরোমণি কি শুভেন্দু ছিলেন না!

Comments :0

Login to leave a comment