Hingalganj agricultural laborers

হলে মেলেনি সভার অনুমতি, বাড়ির উঠোন-রাস্তায় বসেই 'কাজ চাই' দাবি হিঙ্গলগঞ্জের খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের

জেলা

তৃণমলের দেখানো পথে হেঁটেই কমিউনিটি হলে সভার অনুমতি দেয়নি রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রশাসন। বাড়ির উঠোন, রাস্তায় বসেই মজুরি বৃদ্ধি, বছরে ২০০দিন কাজ সহ একাধিক দাবিতে আগামী লড়াই সংগ্রাম গড়ে তুলতে রবিবার সভা করলো হিঙ্গলগঞ্জের খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবীরা। 
সারাভারত খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবী ইউনিয়ন হিঙ্গলগঞ্জ ব্লক কমিটির আহ্বানে ইছামতি নদীর পাড়ে দুলদুলিতে সভা হয়।পতাকা উত্তোলন করে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ব্লক সভাপতি কৃষ্ঞপদ সর্দার সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন মদন দাস।
তৃণমূল চায়নি। বিজেপিও চায় না খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হোক। সে কারণেই অনুমতি দেয়নি। এখান থেকেই আমাদের শিক্ষা নিয়ে শপথ নিতে হবে,ওরা আমাদের যতই বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করুক না কেন, আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এদিন বক্তব্যের শুরুতেই সংগঠনের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি অমিয় পাত্র ও রাজ্য সম্পাদক নিরাপদ সর্দার খেতমজুরদের উদ্দেশ্যে এমনই আহ্বান রাখেন।
এদিন অমিয় পাত্র বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের করনীয় কাজ সম্পর্কে আলোচনা করেন। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠন এবং লড়াই আন্দোলন প্রসঙ্গে আলোচনা করেন নিরাপদ সর্দার।
আলোচনা পর্বে অমিয় পাত্র এবং নিরাপদ সর্দার একযোগে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকারের মানুষ মারা নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। সভায় আসা খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, পেটের ভাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য মাথার উপর ছাদ, বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপার্জনের দাবিতে পাড়ায় মহল্লায় ছোট ছোট লড়াই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এক সুরে আওয়াজ তুলতে হবে কাজ নেই, কাজ দাও‌। তবেই সরকারের টনক নড়বে। আর এই কাজ করতে হলে ধর্মীয় বিভাজনের জাল ছিন্ন করে সমাজের বঞ্চিত শোষিত নিপীড়িত সব মানুষকে সংগঠনের পতাকা তলে আনতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, "শ্রমজীবীদের শ্রম লুট হচ্ছে প্রতিদিন। ১০০দিনের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিরামজি প্রকল্পে ১২৫দিনের কাজ তারও কোনও  দেখা নেই। হিঙ্গলগঞ্জ-সন্দেশখালি জুড়ে। কাজের তীব্র হাহাকার চলছে। মানুষ বাধ্য হচ্ছে ভিনরাজ্যে চলে যেতে। স্কুলে স্কুলে বাড়ছে ড্রপ আউটের সংখ্যা। ক্ষতি হচ্ছে গ্রামের শ্রমজীবীদের। সঠিক পুষ্টির অভাবে গর্ভবতী মা কম ওজনের সন্তানের জন্ম দিচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে গতরে খাটাদের। এটাই লক্ষ্য বিজেপির। গরীব মানুষ যেন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। আমাদের দায় এবং দায়িত্ব এই সমস্ত গতরে খাটাদের প্রতি। 'কাজ চাই' এটাই হবে আমাদের প্রধান লড়াই। লুট হয়ে যাওয়া শ্রম রক্ষা করতে হলে সব থেকে জরুরী প্রকৃত খেটে খাওয়াদের এই সংগঠনের মধ্যে এনে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে লড়াই সংগঠিত করা।"
প্রকৃত খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের সদস্য সংখ্যা বাড়াতে হবে। গরীবের আইন অধিকার কেড়ে নিতে ফের আমলাতন্ত্র মাথা চাড়া দিতে শুরু করেছে। পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে নির্বাচন, নির্বাচিত প্রতিনিধি ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। পঞ্চায়েত না থাকলে গরীব মানুষ তার হকের কথা কোথায় বলবে? এই সমস্ত কথাই মানুষের উঠানে চাটাই পেতে বলতে হবে। কে শত্রু? কে মিত্র? তা আমাদেরকেই চিনিয়ে দিতে হবে। প্রান্তিক মানুষই এই সংগঠনের জিয়নকাঠি। সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হলে গতরে খাটাদের ঐক্যবদ্ধ করুন।প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন ব্লক কমিটির সম্পাদক প্রবীর ঘোষ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উত্তর ২৪পরগনা জেলা সভাপতি অনুপম বিশ্বাস, সম্পাদক রাজু আহমেদ।

 

Comments :0

Login to leave a comment