SIR Ramlila and 'INDIA'

এসআইআর-র বেনিয়ম স্পষ্ট, রামলীলায় স্পষ্ট দেশবাসীর ক্ষোভ, ‘নৈরাজ্য’ প্রচারে বিজেপি

জাতীয়

ভোটচুরি নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের নিশানায়। লোকসভার দলনেতা রাহুল গান্ধী রামলীলা ময়দানের মঞ্চ থেকেই ফের বলেছেন, দেশদ্রোহের দায়ে জেলে যেতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। বিচারের সামনে পড়তে হবে নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহকেও।
বস্তুত এমএ বেবি বা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য থেকে অখিলেশ যাদব বা তেজস্বী যাদবের ভাষণে সরাসরি আক্রমণ বিজেপি শাসনকে। রবিবার, ১ নভেম্বর, দিল্লির রামলীলা ময়দানের পর জমায়েতের আয়তন নিয়ে হিসেবে নেমে পড়েছে বিজেপি। দলের অন্যতম জাতীয় মুখপাত্রকে দিয়ে বলানো হয়েছে যে দশ লক্ষ জমায়েত হয়নি। মাঠ পাঁকা ছিল, জমায়েত ফ্লপ। 
পাত্র বিজেপি-আরএসএস’র ভাষ্য অনুযায়ীই রাহুলকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘‘এদেশে তোমার আব্বুজানের নয়। দেশে হিন্দুস্তানীদের।’’এদিকে বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীন জানিয়েছেন যে রাজ্যে রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, নৈরাজ্য হটাও’ স্লোগানে জনসভা করবে বিজেপি। আগামী রবিবার হরিয়ানায় জনসভায় থাকবেন তিনি নিজে। 
এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল হারে নাম বাদ এবং কমিশনের কাজে একের পর এক বেনিয়ম সামনে আসায় ক্ষোভে উত্তাল হয়েছে দেশ। রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের জনসভায় সেই ছবি ধরা পড়েছে। সব নথি থাকা সত্ত্বেও নির্বিচারে বাদ গিয়েছে নাম। নির্বাচন কমিশন ‘সেলফ জেনারেটেড’ ফর্ম-৭ তৈরি করে জমা দিয়েছে। বহু ক্ষেত্রে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে ব্যাখ্যা করার সুযোগ ভোটদাতাকে না দিয়ে। নাম তোলার ফর্ম-৬ বদলানো থেকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’-র নামে একতরফা নাম বাদের সিদ্ধান্তের বৈধতা আদালতেও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বস্তুত বাকি দুই নিরবাচন কমিশনার দশ মাসে ১৪ বার চিঠি দিয়ে বহু বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বেরিয়ে এসেছে যে সিদ্ধান্ত একতরফা নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমারই। মোদী-শাহ যোগে একতরফা নির্দেশে ক্ষোভ রয়েছে বিএলও স্তর থেকে ইআরও স্তরেও। 
এই সবের কোনও ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টাই করেনি বিজেপি। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি দেশবাসীর বিভিন্ন স্তরকে নাড়িয়ে দিয়েছে যার মধ্যে বিজেপি’র সমর্থক অংশও রয়েছে। 
রাহুল বলেছেন, দেশের সংবিধান এবংগণতন্ত্রকে ধ্বংস হতে দেব না। কোনও একটি রাজনৈতিক দল এই কথা বলছে না। আমরা সব বিরোধীরা বলছি। বলছেন ছাত্র-যুব-মহিলা-শ্রমিক-কৃষকরা। তিনি বলেন, ভোট চুরি আর পাঁচটা চুরির মতো নয়। মানুষের মতদানের অধিার কেড়ে নেওয়ার মানে তাকে স্তব্ধ করে দেওয়া। আইনি বিচারে যাকে বলে বিরলের মধ্যে বিরল। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদী কোথাও যাবেন না । তিনি চাইলেও আমরা যেতে দেব না।

Comments :0

Login to leave a comment