অরূপ সেন: নয়াদিল্লি
দেশের সংবিধানকে বদলে মনুবাদী সংবিধান কায়েমের চেষ্টা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষার লড়াই আজ। দ্বিতীয়বার স্বাধীনতার লড়াইয়ের সামনে দেশ। এই লড়াইয়ে ধারাবাহিক ভূমিকা নিয়ে যাবে সিপিআই(এম) এবং বামপন্থীরা।
রামলীলা ময়দানের সমাবেশে এই বার্তা দিয়েছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি।
এম এ বেবি বলেন, লাখো লাখো মানুষ অমিত শাহ-মোদীকে বলছে জ্ঞানেশ কুমারকে সামনে রেখে ফ্যাসিবাদী কায়দায় শাসন ভারতে চলবে না।
রবিবার, ১ নভেম্বর, বিজেপি ধারাবাহিক প্রচার চালিয়েছে এই সমাবেশ এবং বিরোধীদের আক্রমণ করে। একদিকে ব্যবসায়ীদের দিয়ে বলানো হয়েছে যে দিওয়ালির মুখে সমাবেশ তাঁদের রুজি নষ্ট করবে। এদিকে দিল্লি পুলিশই নির্দেশ জারি করে রামলীলা ময়দানের আশেপাশে বহু অঞ্চলে দোকান বন্ধ করিয়েছে। নামানো হয়ে বিজেপি’র প্রাক্তন সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাকে। নাড্ডা বলতে থাকেন দেশ বিরোধী বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টায় নেমেছে বিরোধীরা। বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে।
এমন বক্তব্য যদিও সকাল থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের মিছিলে স্লোগানে ফিকে হয়ে গিয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম দেওয়া, মানুষকে তাঁর ভোটাধিকার রক্ষার জন্য নাকাল করানো, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে বেনাগরিক বলে দেগে দেওয়ার চেষ্টা করা- এ সবের বিরুদ্ধেই সোচ্চা হয়েছে প্রতিবাদ।
রামলীলা ময়দানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। মহাত্মা গান্ধী, বিআর আম্বেদকর, বল্লবভভাই প্যাটেল এই ময়দানে বক্তব্য রেেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়েও এই ময়দানের বুকে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস তৈরি হয়েছে। আজকে আরেক স্বাধীনতার লড়াই। ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত থেকে দেশকে স্বাধীন করার লড়াই। আরএসএস’র হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার লড়াইয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে রয়েছি। আমাদের স্লোগান ভোটচুরিতে দায়ী জ্ঞানেশ কুমারের বচার এবং শাস্তি দিতে হবে।
বেবি বলেন, গান্ধীজী সত্যের ওপর নির্ভর করে সংগ্রাম পরিচালনা করেছিলেন। আর মোদী সরকার অসত্যের মহারাজা। এতটাই মিথ্যাবাদী যে ভোটের সময় ভাষণ দিয়ে বলেছিল অনুপ্রবেশকারীরা মা-বোনদের মঙ্গলসূত্র কেড়ে নিয়ে যাবে। কৃষকদের বলেছিল মোদী, আয় দ্বিগুন করে দেব। তার বদলে কৃষকদের আত্মহত্যা দ্বিগুন হয়েছে। আমাদের গণতান্ত্রিক সংবিধানকে ধ্বংস করে মনুবাদী সংবিধান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে আরএসএস-বিজেপি। তার বিরুদ্ধে সংগ্রামে সিপিআই(এম) যোগ দিয়েছে।
সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, এই সমাবেশের কথা, ভোটাধিকার রক্ষার কথা এবার রামলীলা ময়দান থেকে ফিরে দেশের কোণায় কোণায় পৌঁছে দিতে হবে।
সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য বলেন বিজু কৃষ্ণান বলেন, কৃষক আত্মঘাতী। ৩২০ জেলায় খরা। যুব-ছাত্র, মহিলা সবাই বেহাল। লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সির নামে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। কোটি কোটি মানুষের নাম বাদপড়েছে, তাঁরা লড়ছেন। স্পষ্ট যে লজিক্যাল ডিক্রেপান্সির নামে অন্যায়ভাবে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে।
বক্তব্য রাখেন ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরা।
Comments :0