MD SALIM

ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার দায় কমিশনকেই নিতে হবে, সেলিম

রাজ্য জেলা

বক্তব্য রাখছেন জিয়াউল আলম, এই সভাতেই মহম্মদ সেলিমের ভিডিও বার্তা শোনানো হয়েছে।

কৌশিক দাম: ধূপগুড়ি
আরএসএসের আদর্শ ও ছক অনুসরণ করেই নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। যার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে গরিব, প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ভোটাধিকার হরণের এই প্রক্রিয়ার দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। শুক্রবার ধূপগুড়িতে সিপিআই(এম)’র সাধারণ কর্মীসভায় ভিডিও বার্তায় এই অভিযোগ করলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। আগামী ধূপগুড়ি পৌরসভা নির্বাচনে সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। 
শুক্রবার ধূপগুড়ির কালাচাঁদ দরবেশ মঞ্চে সিপিআই(এম) ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মীসভায় অসুস্থতার কারণে সভায় সশরীরে মহম্মদ সেলিম উপস্থিত থাকতে পারেননি। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় থেকেই বামপন্থীরা এর বিরোধিতা করে আসছে। নির্বাচন কমিশনের শীর্ষস্তরে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই একতরফা ভাবে এই প্রক্রিয়া চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন সেই সিদ্ধান্তের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁদের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করার দায়িত্ব কমিশনকেই নিতে হবে। সেলিম ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইন প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে গ্রামের রাস্তাঘাট, বন্যা, এবং বিভিন্ন সরকারি ভাতাসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন।
বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়, যেমন— নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার মান, এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। এছাড়া ব্রাজিল ও সার্বিয়ার নির্বাচন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামের কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।  

সভায় সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউল আলম বলেন, বিজেপি ও আরএসএসের বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানুষকে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা বলে চিহ্নিত করে তাঁদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা চলছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিদ্বেষের রাজনীতিকে এক করে দেখা যায় না। সনাতন হিন্দুধর্মের সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত উগ্র হিন্দুত্ববাদকে এক করে দেখারও বিরোধিতা করেন তিনি। ধূপগুড়ির রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জিয়াউল আলম বলেন, বামপন্থী আন্দোলনের দীর্ঘ ঐতিহ্য এই এলাকায় রয়েছে। চার বছর ধরে নির্বাচিত পৌরবোর্ডের পরিবর্তে প্রশাসক বসিয়ে পৌরসভা পরিচালনা করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে মানুষের সমর্থন নিয়ে জয়ী হয়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।
জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র বলেন, একদিকে ধর্মের নামে মানুষকে বিভক্ত করার রাজনীতি চলছে, অন্যদিকে মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন হচ্ছে। বন্ধ চা বাগান খোলা, পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সমস্যা নিয়ে বামপন্থীরা ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণপন্থী রাজনীতির মোকাবিলায় বামপন্থী শক্তির বিকাশের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। সভা থেকে ধূপগুড়িতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটার তালিকা থেকে অন্যায় ভাবে বাদ পড়া নাম পুনর্বহাল এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার ডাক দেওয়া হয়। পাশাপাশি পৌর এলাকার ডাম্পিং গ্রাউন্ডের সমস্যা সমাধান, নিয়মিত পানীয় জল সরবরাহ, জঞ্জালমুক্ত রাস্তাঘাট এবং দূষণমুক্ত বাজার ও নদীর দাবিও ওঠে। সভায় সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য ময়ূখ বিশ্বাস ও সলিল আচার্য, জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন তুষার বসু। বামকর্মী সমর্থক ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

Comments :0

Login to leave a comment