রুহুল আমিন
আমরা যখন শ্রমিক, কৃষকদের দাবি নিয়ে কথা বলি তখন আমরা দেশদ্রোহী। আমরা যখন ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলি তখন আমরা ধর্ম বিরোধী। বলবো না আমরা? প্রতিবাদ করবো না? তোমরা গরিব শিশুদের মিড-মিলের বরাদ্ধ কমাবে, চুরি করবে, আমরা আন্দোলন করবো না? এই নিয়ে যখন মিটিং-মিছিল করছি তখন আমাদের মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে। লাগবে না মাইক। এই বিজেপির ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিটি গ্রামের বুথে বুথে নেমে তাদের দুর্নীতির কথা বলতে হবে। রবিবার ময়ূরেশ্বরে মিড ডে মিল দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত প্রকাশ্য সভায় এই আহ্বান জানান মীনাক্ষী মূখার্জি।
পশ্চিমবঙ্গ মিড ডে মিল ইউনিয়ন (সিআইটিইউ) বীরভূম জেলার তৃতীয় সম্মেলন হয় এদিন ময়ূরেশ্বরে। সেই সম্মেলন শেষে সমাবেশ হয় ময়ূরেশ্বর ক্যানেল মোড়ে। সভায় মীনাক্ষী মুখার্জি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ নেতা দীপঙ্কর চক্রবর্তী, সঞ্জীব মল্লিক, জয়ন্ত ভল্লা প্রমূখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন সুমতি ভান্ডারী।
সভাস্থল ছাপিয়ে গেছিলেন মানুষ। মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, "একটা পরিবার চালাতে গেলে মাসে কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা দরকার। তাই আমরা মিড ডে মিলের কর্মীদের বেতন ৪২ হাজার টাকা দাবি করে কী অন্যায় করেছি? এই মিড ডে মিলের মা বোনরা সারাদিন পরিশ্রম করে স্কুলের শিশুদের মুখে দুপুরের আহার তুলে দেন। তাঁরা যদি অভুক্ত থাকেন তাহলে মেধা পুষ্টি কী করে হবে? এরাই তো ডাক্তার, উকিল, ব্যারিস্টার তৈরী করছেন। শিক্ষকদের থেকে এরা কম নন। এটা আমাদের কথা নয়, বিচারপতিদের কথা। আমরা এদের জন্য লড়ব না? এই লড়াই যখন রাজপথে করছি তখন বিজেপি পুলিশ আমাদের বাধা দিচ্ছে। তাই তো আজ বীরভূম জেলা সম্মেলনে কর্মীরা এর বিরুদ্ধে এক হয়ে লড়াই করার শপথ নিয়েছে।"
মীনাক্ষী বিজেপি’র প্রসঙ্গে বলেন, "ওরা ধর্ম নিয়ে বিভেদের রাজনীতি করছে। এর বিরুদ্ধে বলতে গেলেই আমরা ধর্ম বিরোধী। সরকারের সমালোচানা করলেই আমরা দেশদ্রোহী। একমাত্র লালঝান্ডা পারে এদের খুঁটি তুলে ফেলতে। আসুন সবাই মিলে বিজেপির এই বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে মাঠে নেমে লড়াই করি।"
সমাবেশে দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, বর্তমানে একটা শ্রমিক বিরোধী সরকার চলছে। ওরা বাজেটে মিড-ডে মিলের বরাদ্ধ কমিয়েছে। তাদের নীতির ফলে সাধারনের স্কুল গুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা দাবি রেখেছি মিড-ডে মিল চালু রাখতে হবে। কোন বেসরকারি হাতে এই প্রকল্পকে তুলে দেওয়া যাবে না। ওদের দশ মাসের পরিবর্তে ১২ মাসের বেতন দিতে হবে। বিজেপি চায় না গরিব মানুষের ছেলে লেখাপড়া শিখুক। তাই ওরা চক্তান্ত করে এই মিড-মিলকে তুলে দিতে চক্রান্ত করছে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গৌতম ঘোষ, বলরাম চ্যাটার্জি প্রমুখ নেতৃত্ব।
রবিবার পশ্চিমবঙ্গ মিড ডে মিল ইউনিয়নের বীরভূম জেলা সম্মেলন শুরু হয় সকালে পতাকা উত্তোলন ও শহীদ বেদীতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে। সম্মেলন উদ্বোধন করেন সিআইটিইউ বীরভূম জেলার সাধারন সম্পাদক দীপঙ্কর চক্রবর্তী। প্রতিবেদন পেশ করেন, সুমতি ভান্ডারী। এর উপর ১৪জন প্রতিনিধি আলোচনা করেন। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নেত্রী কৃষ্ণা চ্যাট্টার্জি, সনৎ ব্যানার্জি। সম্মেলনকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, কেনিজ রবিউল ফতেমা, আরবিয়া খাতুন প্রমুখ। সম্মেলন থেকে ৩৫ জনের কমিটিতে সভানেত্রী নাজেমা বিবি ও সম্পাদিকা নির্বাচিত হন সুমতি ভান্ডারী। সম্মেলন পরিচালনা করেন, নাসরিন সুলতানা, গুঞ্জা সাহা ও জয়ন্তী মাল কে নিয়ে গঠিত সভাপতিমন্ডলী।
Comments :0