দুই চব্বিশ পরগণায় দুই ধর্ষণের ঘটনা ঘটল। একটি সোনারপুরে, অন্যটি মিনাখাঁয়। সোনারপুরে রীতিমত ঘরে ঢুকে স্বামীকে সেখান থেকে বের করে দিয়ে ধর্ষণ করা হলো এক গৃহবধুকে। মিনাখাঁয় এক যুবতীকে ধর্ষণ করল দুই দুষ্কৃতী।
একের পর এক এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটলেও রাজ্যে নারী নির্যাতন, ধর্ষণের মত অপরাধের সংখ্যা কমছে না। চারদিন আগে রাজ্যে জোড়া এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছিল। অপরাধীদের মনে নাকি ভয় ঢোকানোর যোগীরাজের মডেল এখানে কার্যকরী করছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। পুলিশি এনকাউন্টারের মতো বিচার বহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটালেই যে ধর্ষণের মতো বিকৃত লালসার অপরাধ ঠেকানো যায় না, তা বারেবারে স্পষ্ট হচ্ছে। বিজেপি সরকারের মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসে ধর্ষণ থেকে নারী নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও যৌন হেনস্তার ঘটনা ১০০ পেরিয়ে গেছে। বারুইপুরের পুলিশি এনকাউন্টারের পরেও প্রায় ৪০টির মতো নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
সোনারপুরে বাড়িতে চড়াও হয় দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটল। আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হলেন এক গৃহবধূ। স্বামীকে মারধর করে বের করে দিয়ে ঘরে ঢুকে ওই গৃহবধূর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে খুনের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। শুক্রবার মাঝরাতে ঘটনাটি ঘটে সোনারপুর থানা এলাকায়। সোনারপুর থানার পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযুক্ত শেখ আসরাফ নামে ১ দুষ্কৃতীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গিয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মহিলারা আতঙ্কে রয়েছেন। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মহিলাকে ধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। রবিবার সংগঠনের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদিকা চন্দনা বাগচী এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সূত্রের খবর, নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ জামাই বাবুর বাড়িতে এসেছিলেন। অভিযোগ, শুক্রবার রাত প্রায় একটা নাগাদ ওই মহিলা ও তাঁর স্বামী ঘরে ঘুমোতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তিন দুষ্কৃতী তাঁর স্বামীকে মারধর করে সরিয়ে দিয়ে মহিলাকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় সোনারপুর থানায় নির্যাতিতার পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হয়েছে বলে পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত ওই দুষ্কৃতীর বাড়ি তপসিয়া এলাকায়। তবে মল্লিকপুর এলাকায় সে ভাড়া থাকে। বাকি দুই অভিযুক্তর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় মানুষ। স্টেশন চত্বর এলাকায় মদ, জুয়া, সাট্টা সহ অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মানুষ।
অন্যদিকে পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে এক যুবতীকে মিনাখাঁ থানা এলাকার একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল দুই যুবকের বিরুদ্ধে। যুবতীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মিনাখাঁ থানার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানা এলাকার ওই যুবতীর সঙ্গে পূর্ব পরিচয় ছিল উত্তর ২৪পরগনার মিনাখাঁ থানা এলাকার দুই যুবকের। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই দুই যুবক ওই যুবতীকে মিনাখাঁর এলাকার একটি গোপন আস্তানায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন যুবতী। ঘটনার পর নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের পর অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়াও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
Rape Sonarpur
স্বামীকে মেরে, গলায় ছুরি ধরে দলবদ্ধ ধর্ষণ সোনারপুরে
×
Comments :0