কোটি কোটি ভারতীয়র নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার খোয়াব দেখছেন মোদী-শাহরা। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ১৩ কোটি নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে। ধাপে ধাপে ছাঁটা হবে আরও। অর্থাৎ যে নাগরকিদের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয় সেই নাগরিকদের একাংশের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতার রাস্তা কণ্টকমুক্ত করতে মোদীরা সংবিধানকে অস্বীকার করছেন না, সাথে সাথে দেশে গণতন্ত্রের ভিতটা ধসিয়ে দিতে চাইছেন। কিন্তু মানুষ তাদের সেই স্বপ্নপূরণ হতে যে দেবেন না তার প্রমাণ রবিবারের রাজধানীর রামলীলা ময়দান। দিল্লিকে কেন্দ্র করে সংলগ্ন রাজ্যগুলি থেকে এমনকি দূরবর্তী রাজ্যগুলি থেকেও মানুষের ঢল যেভাবে নেমেছে তাতে মোদী-শাহদের ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। ভয় যে তারা পেয়েছেন, রাতের ঘুম যে তাদের ছুটে গেছে সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। তা না হলে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে এই মহাজন গর্জন স্তব্ধ করতে তারা এতটা মরিয়া হতেন না। দিল্লি পুলিশকে কার্যত ফ্রি হ্যান্ড দিয়ে দেওয়া হয়েছিল যেভাবেই হোক মানুষকে আটকানোর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারা যায়নি। জনপ্লাবনে ভেসে গেছে ময়দান সহ আশপাশের এলাকা স্লোগানে স্লোগানে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে শাসকের সর্বাঙ্গে। হিন্দুত্ববাদী জ্বালানিতে চলা ডাবল ইঞ্জিনগুলি প্রমাদ গুনতে বসে গেছে, সময় বুঝি ঘনিয়ে আসছে।
দিল্লির বুকে মোদীদের তানাশাহীর বিরুদ্ধে এই জনগর্জন সার্বিক বিরোধী ঐক্যেরও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আড়াই বছর পর লোকসভা নির্বাচনের আগে সমস্ত বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতারা এক মঞ্চ থেকে জনগণের উদ্দেশে এক সুরে আহ্বান জানিয়েছেন জ্ঞানেশ হটাও, ভোটাধিকার বাঁচাও, মোদী হটাও গণতন্ত্র বাঁচাও। প্রত্যেক ভারতীয়র ভোটাধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত। সেই ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে একটা বড় অংশের ভারতীয়কে দেশহীন করে দেবার ষড়যন্ত্রে মেতেছে মোদী-শাহরা। সেটা আটকানোই এই মুহূর্তে ভারতের জনগণের প্রধান কাজ। এটা শুধু নিজের ভোট রক্ষার লড়াই নয়, একই সঙ্গে গণতন্ত্রর রক্ষার ও দেশ রক্ষার লড়াইও।
ধর্মান্ধ হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্তরা বুঝে গেছে দেশের মানুষ জাগছে। তাদের ছলাকলা ধরে ফেলছে। ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য, ভোটে জয় নিশ্চিত করার জন্য নানা ধরনের অসৎ ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছে। তাদের আসল টার্গেট নির্বাচনী ব্যবস্থাটা পুরোপুরি কুক্ষিগত করে জনমত নিয়ন্ত্রণ করা। তাই আইন বদলে প্রথমে নিজেদের বিশ্বস্ত অনুগতদের নির্বাচন কমিশনার করার ব্যবস্থা করে। তারপর সেই কমিশনারদের দিয়ে সম্ভাব্য বিরোধী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, দলিত-আদিবাসী গরিবদের ভোটার তালিকা থেকে ছাঁটাইয়ের ব্যবস্থা করে। গোটা নির্বাচন সংগঠন ও প্রক্রিয়াকে এমনভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা হয় যাতে সবটাই বিজেপি’র অনুকূলে যায়। জ্ঞানেশ অত্যন্ত দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সে কাজ করছেন। তাই মোদীদের কাছে জ্ঞানেশ অপরিহার্য। জ্ঞানেশকে রক্ষা করতে ডাবল ইঞ্জিন সহ গোটা শাসকবাহিনী ময়দানে নেমেছে। কারণ এটা প্রায় অনিবার্য হয়ে গেছে যে জ্ঞানেশ বিদায় মানে তারপর মোদী বিদায়।
Editorial
জ্ঞানেশ বিদায়ের গণ রায়
×
Comments :0