Editorial

৩ কোটি বাংলাদেশি আসল না নকল

সম্পাদকীয় বিভাগ

ভোটে জিতে যারা মন্ত্রী হন বা সরকার পরিচালনার অংশ হন তারা অসত্য, আজগুবি, মনগড়া তথ্য ও ভাষ্য পরিবেশন করে জনমানসে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না এমনটাই মানুষ বিশ্বাস করে থাকেন। বিশেষ করে শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা এমনটা করবেন মানুষ ভাবতেই পারেন না। সাধারণ মানুষের ধারণা এমনই যে মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে যা বলেন তার তথ্য পরিসংখ্যান বা প্রমাণ সরকারের ঘরে মজুত থাকে। সেখান থেকেই মন্ত্রীরা প্রয়োজন অনুসারে প্রকাশ করেন। মন্ত্রীরা যদি বিতর্কিত বা সন্দেহজনক কিছু কথা বা তথ্য-পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে বলে থাকেন এবং সেগুলি নিয়ে জনমানসে বিতর্ক‍‌ তৈরি হয় বা সন্দেহ দেখা দেয় তাহলে মন্ত্রীকে সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে হাজির করে বিতর্ক ও সন্দেহের অবসান ঘটাতে হয়। জন প্রতিনিধি হিসাবে মন্ত্রীরা আর যাই হোক মিথ্যা বা বানানো গল্পকে সত্য বলে চালাতে পারেন না। এটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক নৈতিকতা বিরোধী, এমনকি গুরুতর অপরাধও।
এত কথা বলার উদ্দেশ্য হলো কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বর্ণিত তিন কোটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম এসআইআর-এ ছাঁটাই হওয়ার তথ্য। শাহ জানিয়েছেন সারা দেশে এসআইআর করে এখন পর্যন্ত যে ১৩ কোটি নাম ছাঁটা হয়েছে তাদের মধ্যে ৩ কোটি অনুপ্রবেশকারী বিদেশি। তিনি তাদের বাংলাদেশি বলেই নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যদি বানিয়ে একথা বলে না থাকেন তাহলে অবশ্য সরকারের কাছে এদের তথ্য অবশ্যই আছে। এমনকি তাদের নাম-ধামও আছে। তাছাড়া এই তথ্য মোটেই গোপন তথ্য নয়। তাহলে অমিত শাহ এই ৩ কোটি বিদেশির নাম জনপরিসরে প্রকাশ করে দিয়ে মানুষের কাছে নিজের বক্তব্যের বিশ্বাস‍‌যোগ্যতা প্রমাণ করছেন না কেন?
সেই বিহারে প্রথম এসআইআর শুরুর থেকে অমিত শাহ’রা বারবার বলেছেন ভোটার তালিকা থেকে ঘুসপেটিয়া বা অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেওয়াই এসআইআর’র মূল্য উদ্দেশ্য। ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনে বিজেপি’র প্রধান অ্যাজেন্ডাই ছিল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন। ব্যাপক প্রচার করা হয়েছিল এই বলে যে বাংলাদেশিরা দলে দলে এসে আদিবাসী মেয়েদের বিয়ে করছে। আদিবাসীদের জমি, কাজ দখল করছে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর’র সময় বলেছিল এক কোটি বাংলাদেশির নাম ভোটার তালিকায় আছে। শাহ স্লোগান দিয়েছিলেন ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট।
এসআইআর’র পক্ষে বি‍জেপি প্রচার করেছিল এটা প্রধানত বিদেশিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেবার জন্য। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তেমনটা কখনও বলেনি। বরং নানা প্রশ্নের জবাবে কমিশন বলেছিল বিদেশি চিহ্নিত করার দায়িত্ব কমিশনের নয়। ওটা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের। কমিশন যাদের বিদেশি বলে সন্দেহ করবে তাদের নাম পাঠাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে ট্রাইব্যুনাল হয়ে শীর্ষ বা সর্বোচ্চ আদালতে নির্ধারিত হবে কে বিদেশি আর কে বিদেশি নয়। অমিত শাহ যদি সত্য বলে থাকেন তাহলে এই ৩ কোটি বাতিল ভোটারের নামের তালিকা কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে ট্রাইব্যুনাল ও কোর্ট হয়ে বিদেশি বলে প্রমাণিত হয়েছে? নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বিদেশি চিহ্নিত ও প্রমাণিত হলে সরকার প্রকাশ্যে তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করুক। তবেই মানুষ মেনে নেবেন অমিত শাহ মিথ্যা বলছেন না।

Comments :0

Login to leave a comment