শম্ভুচরণ নাথ: আলিপুরদুয়ার
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর বাতিল, জল-জঙ্গল-জমির অধিকার সুনিশ্চিত করা, মনরেগার কাজ অবিলম্বে চালু, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ-সহ একাধিক দাবিতে বুধবার উত্তাল হয়ে উঠল আলিপুরদুয়ার। সামাজিক ন্যায় মঞ্চ, আওয়াজ, আদিবাসী অধিকার মঞ্চ এবং আদিবাসী ও লোকশিল্পী সংঘের যৌথ আহ্বানে শ্রমিক কৃষক ভবন থেকে ডুয়ার্স কন্যা অভিযান সংগঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রান্তিক শ্রমজীবী মহিলা-পুরুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘জ্ঞানেশ হটাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগান।
মিছিল ডুয়ার্স কন্যায় পৌঁছে প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয় ব্যারিকেডের সামনে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ ও অবস্থান। পরে চার সংগঠনের প্রতিনিধিদল জেলা শাসকের কাছে দাবিপত্র পেশ করেছে। বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন অরবিন্দ রায়, শ্যামল বিশ্বাস, মজিবুল আলম, মনিরুল ইসলাম, জয়ন্ত চিক বরাইক, বিকাশ মাহালী, সুশীল রাভা-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন যে কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকার গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের মৌলিক চেতনাকে আঘাত করে ধর্মীয় মেরুকরণ ও বিভাজনের রাজনীতি চালাচ্ছে। কর্পোরেট পুঁজি ও সাম্প্রদায়িক শক্তির আঁতাতে ধর্মীয় ও ভাষাগত বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। সংখ্যালঘু মুসলমান, তফসিলি জাতি ও আদিবাসী মানুষের উপর বৈষম্য, অপমান ও নির্যাতন বাড়ছে। ১৯৮৯ সালের তফসিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রেও শাসকপক্ষের ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
নেতৃত্বের বক্তব্য, এসআইআরের নামে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বিশেষত সংখ্যালঘু ও তফসিলি জনগোষ্ঠীর মানুষ বিপন্ন।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে মনরেগার কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা সংকটে। তার উপর লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে রাজবংশী, নস্যশেখ ও আদিবাসী সমাজের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
সংকোশ, রায়ডাক ও তোর্সা নদীর বালি-পাথর খাদানে মাফিয়া, সিন্ডিকেট ও অবৈধ যন্ত্রচালিত খননের বিরুদ্ধে সরব হয় বিক্ষোভ। অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশের মদতেই এই কারবার চলছে, ফলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নষ্ট হয়ে বাড়ছে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা।
বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের তালিকাভুক্ত করা, জল-জঙ্গল-জমির অধিকার রক্ষা, কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা এবং ধর্মীয় উন্মাদনা বন্ধ করে সুস্থ সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার দাবিও জোরালোভাবে তোলা হয় এদিন ডুয়ার্স কন্যা অভিযানে।
Comments :0